আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :
«» শেখ কামাল ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী অনন্য সংগঠক। «» আ’লীগ থেকে বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রেফতার। «» সৈয়দপুরে আ’লীগ সভাপতি মোখছেদুল মোমিনের ফ্রি অক্সিজেন সেবা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। «» সৈয়দপুরে দন্ডের টাকা পরিশোধ না করে পুলিশ কর্মকতাকে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের। «» সৈয়দপুরে পুলিশ কর্মকতাকে পেটালেন ভূমি দস্যুর ছেলে বখাটে আতিফ। «» ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও ভ্যান বন্ধের সিন্ধান্ত-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। । «» দেশে কোন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার থাকবেনা-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। «» প্রবীন রাজনীতিক শমসের আলী বসুনিয়া আর নেই। «» সৈয়দপুরে চোরাই মটরসাইকেল উদ্ধার,২ জন আটক। «» সৈয়দপুর ফাইলেরিয়া হাসপাতাল পরিচালনায় কমিটি গঠন ও সংবাদ সম্মেলন।

ছোট গল্প “হাঁস বিড়ালে খাইছে”

“হাঁস বিড়ালে খাইছে”

– ফয়েজ আহমেদ।

(বর্তমান প্রেক্ষাপটের একটি ছোট গল্প)

সেদিন ছিল সোমবার। ফকিরের হাট। সজিব হাটে গিয়ে হাস কিনবে। হাসের মাংস খুব প্রিয় সজিবের। বাজারের ব্যাগ নিয়ে মটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে হাটের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয় সজিব।

যাত্রা পথে কালুর মোড়ে অনেক লোকের সমাগম। মাইকের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বজ্র কন্ঠের এক জ্বালাময়ী ধারালো বক্তৃতা ভেসে আসছে সজিবের কানে। সে জ্বালাময়ী বক্তৃতা আর্কষন করছে সজিবের মন। কে করছে ওই জ্বালাময়ী বক্তৃতা। একটু দেখে যাই। সজিব মটরসাইকেলটা রেখে ভীড় ঠেলে সামনে যায়। আরে এ তো আমাদের ছলিমুদ্দিন ভাই। হ্যা ঠিকই চিনেছে সজিব।

ছলিমুদ্দিন একটি রাজনৈতিক দলের নেতা। ওইতো পাশের গ্রামে বাড়ী। প্রায় রাস্তা পথে সজিবের দেখা হয় ছলিমুিদ্দনের। ছলিমুদ্দিন একজন ভাল বক্তা। যেখানে বক্তৃতা করে ভীর হয় সেখানে। অনেকে ছলিমুদ্দিনের বক্তৃতা শুনতে দুর থেকেও আসে। ছলিমুদ্দিন বক্তৃতা করছে। সবাই তা মনযোগ দিয়ে শুনছে। মাঝে মধ্যে লোকজন সম্মিলিতভাবে হাত তালি দিচ্ছে। কেউ শ্লোগান দিচ্ছে। জনতার এ করতালিতে ছলিমুদ্দিন খুব উৎসাহ পাচ্ছে। তার বক্তৃতার স্পিড আরো বাড়ছে এ সময়।

ছলিমুদ্দিন বলেই চলছে, ভাইয়েরা আমার,আপনারা যদি আমাকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে পারেন,আমি আপনাদের জন্য আমার জীবন বাজী রেখে কাজ করব। আমি হব আপনাদের আরেকটা ভাই। আমি থাকতে আপনাদের কোন ক্ষতি কেউ করতে পারবেনা। আমি ঢাল হয়ে আপনাদের রক্ষা করব। আপনাদের অভাগ অভিযোগে সব সময় আমাকে পাশে পাবেন।

মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে শুনছে জনতা,সাথে সজিবও। বক্তৃতার বহর দেখে মনটা যেতে চাচ্ছে না সজিবের। না আরেকটু শুনে যাই। হাটের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে,কিন্তু বক্তৃতার শেষটুকু না শুনে যাবেনা সজিব। হাস দরকার হলে পরের হাটে কিনবে। কিন্তু পরের হাটেতো আর ছলিমুদ্দিন ভাইয়ের বক্তৃতা শুনতে পাবেনা।

ছলিমুদ্দিন জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলে চলছে, প্রিয় ভাইরা আমার, আর তিনদিন পরে ভোট,আপনারা আমাকে বিপুল ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন,আমি আপনাদের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আমার জীবন দিব। আরো অনেক জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে জনতাকে একেবারে মুগ্ধ করেছে ছলিমুদ্দিন। বক্তৃতা শেষে অনেকে বলছে, এমন লোককে আমাদের দরকার। ছলিমুদ্দিন ভাইকে এবার আমরা ভোট দিব।

বক্তৃতা শুনে অনেকটা দেরি হয়ে গেছে সজিবের। সন্ধ্যা পার হয়ে গেছে। এখন বোধহয় আর হাস পাওয়া যাবেনা। তবুও হাটে যায় সজিব। হাট ফাকা হয়ে গেছে। দুএকজন পাইকার হাস নিয়ে বসে আছে। শেষ সময়ের হাট। দাম একটু বেশী দিয়ে দু’টা হাস নিয়ে বাড়ীতে আসে সজিব।

রাত করে হাস আনায় সজিবের স্ত্রী রহিমা চিল্লা-ফাল্লা করছে। এত রাতে কেউ হাস নিয়ে আসে। আমি এখন এই হাস দিয়ে কি করব। সজিব স্ত্রীকে বলে কালুর মোড়ে ছলিমুদ্দিন ভাইয়ের ভোটের বক্তৃতা শুনতে দেরি হয়ে গেল।

এবার আরো রেগে যায় রহিমা। তোমার কি ভোট আছে। তোমাকে ওই বক্তৃতা শুনতে হবে কেন। ওটাতো পৌর সভা ভোট, তোমার কি?
সজিব স্ত্রীকে বলে ওনেক লোক বক্তৃতা শুনছে, তাই।

অনেক রাত হওয়ার কারনে হাস দু’টা বারান্দায় বেধে রাখে রহিমা। সকালে জবাই করে হাস প্রসেস করবে। তাছাড়া হাস প্রসেস করতে অনেক সময় লাগে। আজ হবে না।

রাতে খাওয়া করে সজিব ছলিমুদ্দিনের কথা ভাবে। পৌরবাসীর এমন লোককে ভোট দেয়া দরকার। গরীব মানুষের উপকার হবে। মানুষের কাজ হবে। পৌর সভার উন্নতি হবে। পরে ঘুমিয়ে পড়ে সজিব।

ভোর রাতে হাসের চেচামেচির শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় সজিবের। বাইরে এসে দেখে দুটো বিড়াল হাস দু’টো কে আক্রমন করে ক্ষত বিক্ষত করে দিয়েছে। সজিবকে দেখে পালিয়ে যায়, বেড়াল দু’টো।

বিড়ালের আক্রমনে কিছুক্ষন পর মারা যায় হাস দু’টো। তাছাড়া বাঁচলেও ওই হাস খাওয়া যেতনা। রুচিরও একটা ব্যাপার আছে। রহিমা অবস্থা দেখে সজিবের উপর আরো রেগে যায়। সে সজিবকে বলে এখন যাও তোমার ছলিমুদ্দিনকে বল,তোমাকে হাস কিনে দিতে।

রহিমার কোন কথার জবাব দেয়না সজিব। হাস দু’টো বিড়ালের আক্রমনে মারা যাওয়ায় মনটা খারাপ হয়ে যায় সজিবের।

আজ পৌর সভায় ভোট। সকালের নাস্তা করে সজিব ভোট দেখতে যায়। যা মনে করছিল তাই। লোকজন ভোট দিয়ে ছলিমুদ্দিনের কথা বলছে। ছলিমুদ্দিন মনে হয় জিতবে। ছলিমুদ্দিনের লোকজন সেন্টারে ভাল ক্যানভাসও করছে। মনটা বেশ প্রফুল্য হয় সজিবের। একটা বিজয়ী হাসি নিয়ে বীবের মত বাড়িতে আসে সজিব।

ভোটের ফলাফল দেয়া হয়েছে। সাতজন প্রতিদ্বন্ডীকে হারিয়ে জিতেছে ছলিমুদ্দিন।
ছলিমুদ্দিনের বাড়িতে লোকে লোকারন্য। সবাই এসেছে ছলিমুদ্দিনকে বিজয় মালা পড়াতে।

চেয়ারম্যান ছলিমুদ্দিন ভালোই ছুটাছুটি করছে।
এলাকার বিচার সার্লিশও করছে ছলিমুদ্দিন। অনেকে বলাবলি করছে ছলিমুদ্দিন বিচার সার্লিশে ভুক্তভোগিদের কাছে টাকা নিচ্ছে। কথাটা শুনে মনটা খারাপ হয়ে যায় সজিবের।

ছ’মাস পর সজিব লোক মুখে জানতে পারে ছলিমুিদ্দন চেয়ারম্যানের বাড়িতে পুলিশ এসেছে। মটরসাইকেলটা নিয়ে সজিব দেখতে যায়, কি ঘটনা। ছলিমুদ্দিনের বাড়ির একটি ঘর থেকে ৬০ বস্তা ত্রানের চাল পাওয়া গেছে। পুলিশ চাল জব্দ করে ছলিমুদ্দিনকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে।

মনটা খারাপ হয়ে যায় সজিবের। এমন ভাল মানুষ।এত সুন্দর বক্তৃতা। সেই মানুষের এই কাজ। উৎসুক জনতা ভীর করে আছে। সবাই বলছে ছলিমুদ্দিন জনগনের দেয়া ত্রান চুরি করে খায়। এবার ধরা খাইছে। বিষন্ন মনে সজিবের মনে পড়ে,সে দিন তার হাস দু’টোও বিড়ালে খাইছে। 

Related Posts
“কবর পেল শাবনুর”
"কবর পেল শাবনুর"   -ফয়েজ আহমেদ।   মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলে অঝোরে কাঁদতে থাকে আবুল হোসেন। একটি মাত্র মেয়ে তার। আর কোন ছেলে পুলে নেই। অভাবের তাড়নায় মেয়েটিকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল আবুল হোসেন। মেয়েটিকে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “রোজা”
"রোজা" -ফয়েজ আহমেদ   নীল আকাশে উঠল ভেসে মহাখুশির চাঁদ,মুমিন সকল খাসদিলে,করবে রোজা কাল।   খাবে সেহরী,রাখবে রোজা এইতো সবার,মনের আশা পুর্ন হবে,সকল অভিলাশ।   নীল আকাশের,সোনালী চাঁদ সবার মাঝে,আনন্দ-উচ্ছ্বাস এলো খুশির,মাহে রমজান।   নীল আকাশের,বাঁকা চাঁদে সকল মুমিন,স্বপ্ন খোজে মাবুদ দিবে,এবার নিস্তার।   মাস ব্যাপি,রাখবে রোজা পড়বে নামায,করবে দোয়া সকল ...
READ MORE
“করোনা ভাইরাস”
"করোনা" -ফয়েজ আহমেদ   করোনা,তুমিতো ভালা না দুরত্ব এনেছ সমাজ পরিবারে মায়ের সন্তান নিয়েছ কেড়ে স্ত্রী করেছ পর স্বামীর কাছে পিতাও অসহায় তোমার দ্বায়ে।   করোনা,তুমিতো ভালা না বিশ্ব কাবু,এও তোমার যাদু বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙ্গেছ তুমি বিশ্ব নেতাদের করেছ কাবু তুমি কি যাবে ...
READ MORE
“পক্ষ”
"পক্ষ" -ফয়েজ আহমেদ   ঘটনাস্হল খাতামধুপুর,রাজনীতি সৈয়দপুরে এমনভাবে চলতে থাকলে,ক্ষতি সবার হবে, দুইটা পক্ষ দুই দিকে,রাজনীতি করছে জানি স্বচ্ছ রাজনীতি চাই মোরা,নয় অপরাজনীতি।   দড়ি ধরে টানাটানি,করছে দুই প্রভাবশালী সত্য মিথ্যার চলছে লড়াই,জানি সবাই জানি, দোষী কিনা যাছাই করা,নয়তো কারো ...
READ MORE
“বিদ্রোহী সত্তা”
                            "বিদ্রোহী সত্তা"                               ...
READ MORE
ছোট গল্প “দ্বি-চারিনী”।
"দ্বি-চারিনী"   ফয়েজ আহমেদ।   রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় একটি পরিচিত নারী কন্ঠ ভেসে আসে সাকিলের কানে। কন্ঠটা রাস্তার পাশের ওই বাড়ীটা থেকে আসছে। বাড়ীটা সাকিলের পরিচিত। আব্দুল হকের বাড়ী। সাকিলের এক কাছের ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “ভালবাসি হয়নি বলা”।
"ভালবাসি হয়নি বলা" -ফয়েজ আহমেদ।   জবা তলায় বসে বাদাম খাচ্ছে রিপন।সে একাই বসে আছে।কিছুক্ষন আগে তার সহপাঠীরা চলে গেছে। আজ কলেজে আর কোন ক্লাস নেই। বাদাম খাওয়া শেষে রিপনও চলে যাবে। রিপনের ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ছকিনার স্বপ্ন ভঙ্গ”।
গ্রামে গঞ্জে ভিক্ষা করেন ছকিনা বেওয়া। বয়স তার ষাট পেরিয়েছে অনেক আগেই। স্বামীও মারা যাওয়ার প্রায় পনের বছর। হয়নি কোন বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা।দুই ছেলের সংসারে বউদের নাকানি-চুবানি খেয়েও ভালই ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর গল্প”সেকেন্দারের আনন্দ অশ্রু”।
গেল এক সপ্তাহ রিকসা নিয়ে বাইরে যেতে পারেননি সেকেন্দার।দেশে চলছে সরকার ঘোষিত লকডাউন। মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমন ঠেকাতে সরকার এ লকডাউন দিয়েছেন। এদিকে ঘরে জমানো টাকা যা ছিল ফুরিয়ে গেছে। ঘরে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “দোযখী কাজ”।
তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে প্রধান বক্তার ওয়াজ-নসিহত শুনে ফরিদের মনটা খারাপ হয়ে যায়। অনেক আশা নিয়ে দশ কিলো পাড়ি দিয়ে মাহফিলে এসেছিল ফরিদ। কিন্তু এ কেমন বক্তৃতা করলেন হুজুর। ইসলামী জীবন ...
READ MORE
“কবর পেল শাবনুর”
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “রোজা”
“করোনা ভাইরাস”
“পক্ষ”
“বিদ্রোহী সত্তা”
ছোট গল্প “দ্বি-চারিনী”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “ভালবাসি হয়নি বলা”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ছকিনার স্বপ্ন ভঙ্গ”।
ফয়েজ আহমেদ এর গল্প”সেকেন্দারের আনন্দ অশ্রু”।
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “দোযখী কাজ”।

Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।