আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :
«» প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম আর নেই। «» সৈয়দপুরের প্রথম নারী মেয়র আ’লীগের রাফিকা আকতার,কাউন্সিলর পদে নতুন মুখ বেশী। «» সৈয়দপুরে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংর্ঘষে নিহত ১,আহত ২ জন। «» রাত পোহালেই ভোট,সৈয়দপুরে বিপুল জয়ের পথে নৌকা। «» সৈয়দপুর পৌর নির্বাচন, বিজয়ের দ্বার প্রান্তে নৌকা।  «» সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিনের মাতৃবিয়োগ। «» ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে মামলা। «» সৈয়দপুরে পৌর নির্বাচনের প্রাক্কালে আ’লীগ-জাপার সংর্ঘষের ঘটনায় দূ’টি মামলা দায়ের। «» আজ মহান একুশ।।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। «» সৈয়দপুরে পৌর নির্বাচনের প্রাক্কালে জাপা-আ’লীগ সংর্ঘষ।।

ফয়েজ আহমেদ’র ছোট একটি প্রেমের গল্প “রাজ যোটক”

“রাজ যোটক”

 

                       -ফয়েজ আহমেদ।
               (ছোট একটি প্রেমের গল্প)
বিকালের ফ্লাইটে সৈয়দপুর আসছে পল্লবী। খবরটা শুনে মনটা কেমন যেন উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল সাগরের। সেই কবে শেষ দেখা হয়েছে,পল্লবীর সাথে তা মনে নাই সাগরের। শুধু দু’জনের কিছু স্মৃতি আজও মাঝে মধ্যই সাগরের হৃদয়ে ভেসে ওঠে। রোমাঞ্চে শিহরিত হয় সাগরের হৃদয়।
পল্লবী ছিল সাগরের খেলার সাথী। ওরা সহপাঠী ছিল। দয়াময়ী সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ে এক সাথে পড়ত সাগর আর পল্লবী। দুজনে এক সাথে স্কুলে যেত,আসত আবার দুজনে এক সাথে খেলাধুলা করত। বাড়ী পাশাপাশি হওয়ায় অবসর সময়ে সাগরদের বাড়িতেই পড়ে থাকত পল্লবী। সাগরের মা রাবেয়া বেগম পল্লবীকে খুব ভালবাসত। সাগর আর পল্লবীকে আলাদা করে কোন দিন দেখে নাই সাগরের মা রাবেয়া বেগম। পল্লবীও সাগরের মাকে প্রচন্ড ভালবাসত।
আজ প্রায় বার’বছর হল সাগর,পল্লবীকে দেখে নাই। এতদিন পর পল্লবীকে সে চিনতে পারবেতো। পল্লবীও তো সাগরকে প্রথম দেখায় চিনতে পারবে না। তাহলে এয়ারপোর্টে সাগর পল্লবীকে চিনবে কেমন করে। মহাচিন্তায় পড়ে সাগর। যাকে মনের ভিতর রেখে এতটা বছর পাড়ি দিয়ে এসেছে,তাকে নিয়ে কিসের এত দ্বিধা। মনের গভীরে পল্লবীর আকা ছবিটা স্বান্তনা দেয় সাগরকে।
বেলা চার’চারটা বাজে। পৌনে পাঁচটায় নভো এয়ার বিমানে সৈয়দপুরে নামবে পল্লবী। আর দেরি করা ঠিক হবেনা। মটর সাইকেলটা নিয়ে এয়ারপোর্টে যায় সাগর। আধা ঘন্টা আগেই এসেছে সাগর। এখন সে চিন্তা করছে দেখা হওয়ার পর প্রথম সে,কি বলবে পল্লবীকে। পল্লবীকে নিয়ে বাইকটা জোড়ে চালাবে, না আস্তে। ভাবনার আকাশে সাগর। পল্লবী কি তাকে মনে রেখেছে।
ভাবনার আকাশ ছেদ খায় সাগরের। ভৌমো শব্দ  করে মাথার উপর একটা বিমান চক্কর দিচ্ছে। এ বিমানটাতে আছে পল্লবী। বিমান ল্যান্ড করেছে। যাত্রীরা সব আসছে। সাগরের চোখ চাতক পাখীর মত খুজছে,মনে আকা একটা ছবির মত যাত্রীকে। যাকে সে বার’বছর আগে বিদায় দিয়েছিল। অনেক সুন্দর মেয়ে বেড়িয়ে আসছে,তাদের দেখে পল্লবী মনে হচ্ছে না। আবার ওদের মধ্যে কেউ সাগরের দিকে কোন খেয়ালও করছে না।
লাল গোলাপী ড্রেস পড়ে,একটা সুন্দর মেয়ে আসছে। হাতে একটা ট্রলি বেগ। ব্যাগটা টেনে আনছে আর তার উৎসুক চোঁখ যেন কাকে খুজছে। সাগরের হৃদয়টা এবার মোচর দিয়ে ওঠে। তার মনের গহীনে আকা ছবিটার সাথে যেন মিলে যায়। সাগর এবার ডাক দেয় ‘পল্লবী’। সাগরের হৃদয়ে আকা ছবি,মিলে যায়। সাড়া দেয়,পল্লবী।
আস্তে আস্তে এগিয়ে আসে পল্লবী। সাগর জিজ্ঞেস করে,কেমন আছ পল্লবী।
হ্যা ভাল আছি।
তুই কেমন আছিস,ভাল,জবাব দেয় সাগর।
সাগর এবার পল্লবীর,ট্রলি ব্যাগ হাতে নিয়ে বলে, চল যাই।
সাগর আর পল্লবী এক সাথে হেটে যাচ্ছে,সাগর ফিল করে সেই বার’বছর আগে কথা। তাদের সেই রোমাঞ্চকর দিনের কথা। কতনা ভাল ছিল সেই দিনগুলো।পল্লবী কি সেই দিনের,কথাগুলো মনে রেখেছে। না ভুলে গেছে। কিরে তুই কি ভাবছিস,পল্লবীর প্রশ্নে ভাবনায় হতচকিয়ে সাগর বলে,না কিছু ভাবছিনা।
এবার পল্লবীকে মটরসাইকেলে তুলে বাড়ীর পথে রওনা দেয় সাগর। মটর সাইকেলের মৃদ্যু ঝাকনিতে পল্লবীর শরীর সাগরের পীঠে একটা শীহরন তোলে। ভাল লাগার একটা অন্যরকম অনুভুতি,দোলা খায়,সাগরের মনে।
পল্লবীকে নিয়ে,বাড়ীতে আসে সাগর। সাগরের মা বিভিন্ন ধরনের রান্না করেছে,পল্লবীর জন্য। পল্লবী খাওয়া করে গেষ্ট রুমে যায়। সাগর তার রুমে গিয়ে পল্লবীর কথা ভাবতে থাকে।
পল্লবীকে এবার সে ভালবাসার কথা বলবে। বলবে সেই ১২ বছর থেকে একদিনের জন্য সে পল্লবীকে ভুলতে পারে নাই। কিন্তু কিভাবে বলবে,কখন বলবে,বুঝতে পারেনা সাগর। আবার ভালবাসার কথা বলায়,কি ভাববে পল্লবী, সে চিন্তাও কুড়ে খাচ্ছে সাগরকে।
বার,বছর আগে,পল্লবী প্রাইমারী পাশ করে বাবার চাকুরীর বদলী জনিত কারনে,ঢাকায় চলে যায়।পল্লবীর বাবা লতিফ সাহেব আর সাগরের বাবা আশরাফুল সাহেব এক অফিসে চাকুরী করতেন। তাদের দু’জনের মধ্যে খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে চলে যাওয়ার পরেও সাগরের বাবার সাথে কথা হত,পল্লবীর বাবার।
পল্লবী একটা কাজে সৈয়দপুর আসবে এবং সাগরদের বাড়ীতে উঠবে এটা তারাই ঠিক করেছিল। সাগর কিছুই জানতো না। সকালে সাগরের বাবা এয়ার পোর্ট থেকে পল্লবীকে নিয়ে আসার জন্য বলে। পল্লবী সৈয়দপুরে একটি কলেজে প্রভাষক পদে পরীক্ষা দেয়ার জন্য এসেছে।কাল সকাল সাড়ে দশটায় ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
 দীর্ঘ বার বছরে একদিনও সাগরের কথা হয়নি পল্লবীর সাথে। পল্লবীর মোবাইল নাম্বারও ছিল না সাগরের কাছে। তবে সাগরের বিশ্বাস ছিল পল্লবীর সাথে তার একদিন দেখা হবে। কথা হবে। সে পল্লবীকে নিয়ে ঘর বাধবে একদিন।
তাই সাগর ছাত্র জীবনে অনেক সুন্দরী মেয়ের প্রপোজ ফিরিয়ে দিয়েছে। সাগরের বিশ্বাস অটুট। আজ তা পরিনতির দিকে। ভাবতে থাকে সাগর। কালই সে পল্লবীকে তার মনের কথা বলবে। পরীক্ষা দিয়ে আসার সময় পল্লবীকে নিয়ে সাগর কোন চায়নিজ রেষ্টুরেন্টে গিয়ে তার মনের কথা বলবে।
রাতে খাওয়া শেষে পল্লবী ও সাগর নিজ নিজ ঘরে ঘুমাতে যায়। সাগরের মন আজ চরম উদ্দিগ্ন,চনমনে,অন্যরকম একটা শিহরন। কোনভাবেই তার ঘুম আসছেনা।
বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছে সাগর। ঘুমে সাগর কোন মনোনিবেশ করতে পারছেনা কিছুতেই। একটা উত্তেজনা কাজ করছে সাগরের মনে। এভাবে ঘন্টা খানেক যাওয়ার পর সাগর পল্লবীর সাথে একবার কথা বলার মনোস্থির করে।
সাগর মোবাইলটা হাতে নিয়ে পল্লবীর ঘরের দরজার সামনে দাড়ায়। পল্লবীকে ডাকবে এমন সময় পল্লবীর কন্ঠ,ভেসে আসে সাগরের কানে। সাগর শুনতে পায় পল্লবী আস্তে আস্তে কারো সাথে কথা বলছে। সাগর শুনতে পায়,পল্লবী মোবাইলে একজনকে,জান বলে সম্ভোধন করে কথা বলছে। অজানা এক আশংকায়,সাগরের বুক ফেটে যেতে চাচ্ছে।
এমন সময় সাগর আরো স্পষ্টভাবে শুনতে পায়,পল্লবী একটা ছেলের সাথে,কথা বলছে। পল্লবী ছেলেটাকে বলছে,জান আমি কাল বিকালের বিমানে ফিরছি। তুমি এয়ার পোর্টে এস।ওখান থেকে গল্প করতে করতে বাড়ী যাব। সাগর আরো শুনতে পায় পল্লবী ছেলেটাকে বলছে আগামী মাসেই আমরা বিয়ে করব। সাগরের হৃদয়টা ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যায়। একি শুনল সাগর। যাকে ছোট বেলা থেকে ভালবাসে,সে অন্য কারো।
 আর সহ্য করতে পারেনা,সাগর। তার বুক ফেটে, কান্না বেরিয়ে আসছে। নিজেকে সে আর কন্টোল করতে পারছেনা। সে পল্লবীর দরজা থেকে কোন রকম নিজের ঘরে ফিরে আসে। বিছানায় শুয়ে অঝোরে কাদে সাগর। ছোট বেলার ভালোবাসা,কিছুতেই সে মানতে পারছেনা। পুরো রাত কেঁদে ছটপট করে কাটিয়ে দেয় সাগর।
সকাল সাড়ে আট’টার দিকে সাগরের মায়ের ডাকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে সাগর। সাগরের চোঁখ দু’টো,লাল হয়ে আছে। মা জিজ্ঞেস করে,কিরে তুই কি রাতে ঘুমাসনি। না মা ঘুমিয়েছি। তাহলে তোর চোঁখ লাল হয়ে আছে কেন। সাগর তার মাকে বলে চোঁখে কিছু পড়েছিল। আমি চোঁখ দু’টো কচলাইছিলাম। তাই হয়ত,লাল হয়ে আছে। ঠিক আছে,ফ্রেস হয়ে নাস্তার টেবিলে আয়।
সাগর রেডি হয়ে নাস্তার টেবিলে আসে। পল্লবী আগেই টেবিলে এসেছে। আজ খুব সুন্দর করে সেজেছে পল্লবী। পল্লবীকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। আড় চোঁখে,পল্লবীকে দেখেছে সাগর।
সাগর বাইকে করে পল্লবীকে কলেজে নিয়ে যায়।বাড়ী থেকে আধা ঘন্টার রাস্তা।সাগর এই সময়ে পল্লবীকে একটক কথাও বলেনি। আর সে বলবে বা কি। তার তো সব কথা শেষ হয়ে গেছে। কাল রাতে। পল্লবীর অজান্তেই।
পল্লবীকে কলেজে নামিয়ে,পাশের একটা রেস্তরায় গিয়ে বসে সাগর। কলেজে ঢোকার সময় পল্লবী সাগরকে বলে,দোয়া করিস যেন ভাল পরীক্ষা দিতে পারি। সাগর কোন কথা বলেনি। শুধু বলেছে,যা পরীক্ষা দিয়ে আয়। আমি পাশেই আছি। রেস্তোরায় বসে সাগর ছোট বেলার সব কথা ভাবতে থাকে। তার মনে শুধু পল্লবীর সেই,সুখ স্মৃতিগুলো আসা-যাওয়া করতে থাকে। নিরবে সাগরের চোঁখের কোনে দু’ফোটা পানি বেরিয়ে আসে।
পরীক্ষা শেষ। পল্লবীকে নিয়ে সোজা বাড়ীতে আসে সাগর। নিজ ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে। পল্লবীকে চারটার সময় আবার এয়ার পোর্টে রাখতে যাবে সে। দীর্ঘ দিন পর মনের মানুষকে কাছে পেয়ে হারিয়ে ফেলেছে সাগর। তার শুধু মনে হয়,পল্লবীর সাথে দেখা না হওয়াটাই ভাল ছিল। ভাল লাগা,ভালবাসা নিয়ে সে,থাকতে পারত। কিন্তু দেখা হওয়ায়,আজীবন কষ্ট বয়ে বেড়াতে হবে,সাগরকে। সাগর তার ভালবাসা বুকে বয়ে নিয়ে বেড়াবে,তবুও সে পল্লবীকে আর কিছুই জানতে দিবেনা।
বিকাল চারটার দিকে,পল্লবীকে নিয়ে সৈয়দপুর এয়ার পোর্টের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয় সাগর। যাওয়ার আগে পল্লবী,সাগরের মাকে জড়িয়ে ধরে বিদায় নেয়। পল্লবী সাগরের মাকে বলে, আন্টি কলেজের চাকুরীটা হলে আবার,তোমাকে জ্বালাতে আসব। সাগরের মা বলে,পাগলী এটাতো তোরো বাড়ী। যখন মন চায় আসবি।
সাগর পল্লবীকে এয়ার পোর্টে নামিয়ে দেয়। পল্লবীকে বলে আমি তা হলে আসি। আশ্চর্য হয় পল্লবী। সাগর আজ তার সাথে,কোন কথা বলেনি। এতদিন পর দুজনের দেখা। বিদায় মর্হুতেও সাগর কোন কথা না বলায় একটা হোচট খায় পল্লবী। ওইতো গতকাল এয়ার পোর্টে হতে আসার সময়,কত কথা বললো। আর আজ কেন,আনমোনা। কথা বলছে না। পল্লবীর কাছ থেকে শুধু পালাতে চাচ্ছে। পল্লবী সাগরকে বলে তোমার মোবাইল নাম্বারটা দাও। আর আমার নাম্বারটা তুমি রাখ। মাঝে মধ্যে কথা হবে। অনিচ্ছা সত্বেও নাম্বার দেয় সাগর। পল্লবীর নাম্বারটাও নেয়। এর পর,বাড়ী চলে আসে।
পল্লবী যাওয়ার আজ পনের দিন। কলেজের প্রভাষক পরীক্ষায় পল্লবী প্রথম হয়েছে। সাগরের বাবা আশরাফুল সাহেব বাড়ীতে জানিয়েছে খবরটা। কিন্তু পল্লবী সাগরকে এই খবরটা জানায়নি। যাওয়ার পর থেকে পল্লবী সাগরকে একটা ফোনও দেয়নি। সাগর নিজে থেকেও,ফোন করেনি পল্লবীকে।
সাগর ঘুমাচ্ছে।সকাল ৮টা বেজে গেছে।এমন সময় সাগরের বাবা দরজায় এসে সাগরকে ডাকে। সাগর দরজা খুলে বাইরে আসে। সাগরের বাবা আশরাফুল সাহেব,সাগরের হাতে একটা খাম তুলে দেয়। বলে ঢাকা যাওয়ার বিমান টিকেট। তুমি দু’টায় বাংলাদেশ বিমানে ঢাকা যাচ্ছ। পল্লবীর আজ বিয়ে। আমি আর তোমার আম্মু যেতে পারবনা। তুই যাবি।
সাগরের কাটা ঘায়ে,যেন নুনের ছিটা দিল তারই,নিজের বাবা। সাগর কি বলবে,তার বাবা কে।সে যেতে পারবেনা,একথা তো বলতে পারবেনা। বাবার কোন নির্দেশ সে,অমান্য কোন দিন করেনি। তাছাড়া টিকেট করে ফেলেছে। না বললেও শুনবেনা। সাগর আর কিছু বলেনি। শুধু বলেছে ঠিক আছে।
দুপুর এক’টার দিকে ব্যাগ গুছিয়ে মায়ের কাছে হাত খরচ টাকা নিয়ে এয়ার পোর্টের দিকে রওয়ানা দেয় সাগর। সিডিউল সময়ে বিমান আসে।অনিচ্ছা সত্বেও,ঢাকা পল্লবীর বাড়ীর উদ্দেশ্য রওয়ানা হয় সাগর।
পল্লবীদের বাড়ীটা,ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছে। খুব সুন্দর ভাবে,সেজেছে পল্লবী। পল্লবীকে দেখে মনে হচ্ছে,যেন কোন রাজ্যের,অপুর্ব সুন্দর এক রাজ কন্যা। রাত আট’টার দিকে বরযাত্রী আসবে। পল্লবীর বর একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীর ম্যানেজার।ভাল বেতনে চাকুরী করে।পল্লবী সেখানে ভাল থাকবে। পল্লবীর বাবা মা এ বিয়েতে মহা খুশী। পল্লবীর পছন্দে বিয়েটা হলেও ছেলের ভাল চাকুরী,তাই আপত্তি করেনি,পল্লবীর বাবা মা।পারিবারিক ভাবেই বিয়েটা হচ্ছে।
রাত আট’টা বেজে গেছে।বরযাত্রী এখনও এসে পৌছায়নি। বিয়ের ব্যাপার,একটু দেরী হতেই পারে। রাত নটা। এখনও বর যাত্রী এসে পৌছায়নি। পল্লবী নিজে বরের ফোনে কল দেয়। ফোন বন্ধ। রাত দশ’টা পার হল। এখনও বরের ফোন বন্ধ। অজানা এক আশংকায় পল্লবী ও তার পরিবার। সাগর পল্লবীর বাবা মা কে সান্তনা দেয়। বিয়েতে বরযাত্রী আসতে অনেক সময় দেরী হয়। ওরা চলে আসবে।
বরযাত্রীর অপেক্ষার এক পর্যায় বরের বাড়ী থেকে দুজন লোক আসে। তারা জানায় আজ বিয়ে হবেনা। কোম্পানীর একটা মামলায় সন্ধার পর পুলিশ বরকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে লতিফ সাহেব ও তার স্ত্রীর। বাড়ী ভর্তি মেহমান এখন কি হবে। পল্লবী ঘটনাটা জেনে ফেলেছে। সে থানায় যাবে। নিজে জানবে,কি ঘটনা।
অবশেষে,পল্লবী তার বাবা লতিফ সাহেব ও সাগর থানায় যায়।সেখানে জানতে পারে,পল্লবীর হবু বর সাজ্জাদ এক জন আর্ন্তজাতিক চোরা চালানী ব্যবসার হোতা। পুলিশ তাকে অনেক দিন ধরেই খুজছিল। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা আছে।
পল্লবী,সাজ্জাদের সাথে দেখা করে। সাজ্জাদ পল্লবীর কাছে,ভুল স্বীকার করে মাপ চায়। আর বলে,তুমি একটা ভাল ছেলে দেখে বিয়ে করে নাও। ঘৃনায়,লজ্জায় লাল হয়ে যায় পল্লবী।সে সাজ্জাদকে অশালীন ভাষায়,গালি গালাজ করে দৌড়ে বেরিয়ে আসে থানা থেকে। সাজ্জাদ সহজে ছাড়া পাবেনা। তার যাবত জীবন জেল হতে পারে।
সব কিছু জেনে,মেয়েকে নিয়ে সাগরসহ বাড়ীতে আসে ওরা। পল্লবী কাদছে, কাদছে ওর বাবা। এখন কি হবে। মেয়েটার জীবন শেষ হয়ে গেল। পল্লবী ঘরের দরজা বন্ধ করে অঝোরে কাদছে।
পল্লবীর বাবা,পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে পাশে গিযে,কার সাথে যেন কথা বলছে। কথা শেষ,পল্লবীর বাবার। মোবাইলে কথা বলার পর, পল্লবীর বাবার চোখ দুটো যেন,উজ্বল হয়ে ওঠে। তাকে অনেকটা নির্ভার মনে হচ্ছে এখন। যেন এক্ষুনি কোন রাজ্য জয়ের সংবাদ পেল। সব লক্ষ্য করে সাগর।
সাগরের মোবাইলটা হঠাৎ বেজে উঠল।বাবা ফোন দিয়েছে।সাগর ফোনটা রিসিভ করে,একটু আড়ালে গেল। ওপাশ থেকে সাগরের বাবা আশরাফুল সাহেব বলছেন,বাবা আমি ওখানকার সব কথা শুনেছি। তোকে কিছু বলতে হবেনা। তুই আমার কথা শোন। আমি তোর মোবাইলে দুটা বিমানের টিকেট পাঠায় দিচ্ছি। সকাল ১১টায় বিমান। ওখানে কাজী-মৌলভী সাহেব আছে,পল্লবীকে বিয়ে করে সকালের বিমানে বাড়ীতে আসবি।
 বাবার মুখে এমন কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে পড়ে সাগর। বাবা আবার বলে,নে তোর মায়ের সাথে কথা বল। ওপাশ থেকে সাগরের মা রাবেয়া বেগম বলে,বাবা আমি জানি,তুই পল্লবীকে ভালবাসিস। বিধাতার হয়ত এমন ইচ্ছাই ছিল। কোন কথা না বলে,বউ মা কে নিয়ে,কাল বাড়ীতে আসবি।মায়ের কথায় অবাক হয় সাগর। মা কিভাবে বুঝল,সে পল্লবীকে ভালবাসে।
সাগরের দিকে,এগিয়ে আসে লতিফ সাহেব। সাগরের হাত ধরে বলে,বাবা এসো। বিয়ের কাজ দেরী হয়ে যাচ্ছে। বিয়ের পিড়ীতে বস। সাগরের কাছে,সব কিছু যেন,স্বপ্ন মনে হচ্ছে। কোন কিছু বোঝার আগে,পল্লবীর বাবা লতিফ সাহেব, সাগরের হাত ধরে এনে,বিয়ের পিড়ীতে বসিয়ে দেয়।
পল্লবীকে নিয়ে আসা হয়েছে।পল্লবীকে দেখে কোনভাবে বোঝা যাচ্ছেনা, একটু আগে তার উপর বিরাট একটা,ঝড় বয়ে গেছে। মনে হচ্ছে,সে সাগরের জন্যই,কনে সেজে বিয়ের পিড়ীতে বসে আছে। বিয়ে বাড়ীর,সকল আগত অতিথি মহাখুশী। সবাই বলছে,পল্লবী আর সাগর কে,খুব মানিয়েছে। তারা যেন “রাজ যোটক”।
Related Posts
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “ভালবাসি হয়নি বলা”।
"ভালবাসি হয়নি বলা" -ফয়েজ আহমেদ।   জবা তলায় বসে বাদাম খাচ্ছে রিপন।সে একাই বসে আছে।কিছুক্ষন আগে তার সহপাঠীরা চলে গেছে। আজ কলেজে আর কোন ক্লাস নেই। বাদাম খাওয়া শেষে রিপনও চলে যাবে। রিপনের ...
READ MORE
“জাগ্রত স্বপ্ন”
"জাগ্রত স্বপ্ন" -ফয়েজ আহমেদ   তোমার স্মৃতি উকি দেয়, হৃদয় আয়নায় ভোলা যায় না,মনের গহীনে চাপা কষ্ট, যতবার চেষ্টা করি,ভুলব তোমার স্মৃতি জাগ্রত স্বপ্নে,সামনে এসে দাড়াও তুমি।   তোমার স্মৃতিগুলো কষ্ট দেয়,অবিরত সুখ-স্মৃতির দিনগুলো,আজ বেদনাময়, কষ্টের কঠিন আঘাত,জর্জরিত হাহাকার স্মৃতির বেড়াজালে ...
READ MORE
“স্বাধীনতার রুপকার”
"স্বাধীনতার রুপকার" -ফয়েজ আহমেদ।   বাংলাদেশ একদিন স্বাধীন ছিলনা। ছিল পরাধীন। নাম ছিল পুর্ব পাকিস্থান। ইংরেজ শাসনের অবসানের পর ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দু'টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। একটি ভারত ও অপরটি পাকিস্থান। পাকিস্থান ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “পল্টিবাজ”।
"পল্টিবাজ"।   -- ফয়েজ আহমেদ। জামাল সাহেব সভাপতি প্রার্থী। দলের কাউন্সিল চলছে। সভাপতি পদে আরও পাঁচ জন প্রার্থী আছেন।  সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত করার জন্য ১৬৭ জন কাউন্সিলর তালিকা প্রস্তত করা আছে। কেন্দ্রীয় ও ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর রম্য রচনা “তেল হাওয়া”
তেল হাওয়া" (একটি ছোট রম্য রচনা) মিলে সরিষা তেল নাই কথাটা শুনে একটা হোচট খায় সজিব। সে ভাবে করোনা প্রর্দুভাবের কারনে মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে। হাট-বাজারে মানুষ কম আসছে। এখনতো সব ধরনের ...
READ MORE
ছোট গল্প “দ্বি-চারিনী”।
"দ্বি-চারিনী"   ফয়েজ আহমেদ।   রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় একটি পরিচিত নারী কন্ঠ ভেসে আসে সাকিলের কানে। কন্ঠটা রাস্তার পাশের ওই বাড়ীটা থেকে আসছে। বাড়ীটা সাকিলের পরিচিত। আব্দুল হকের বাড়ী। সাকিলের এক কাছের ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা  “যুদ্ধ চাই”
যুদ্ধ চাই" -ফয়েজ আহমেদ যুদ্ধ চাই,ভৌগলিক রেখার নয় স্বাধীনতা চাই,সেই পতাকার নয়, সংগ্রাম চাই,রুখতে,অশুভ ব্যাধি আরেকটি যুদ্ধ চাই,করতে শুদ্ধির।   যুদ্ধ চাই আনতে,শুভ রাজনীতি অফিস-আদালত হবে,মুক্ত র্দূনীতি, সামাজিক স্তরে চাই,প্রকৃত সেবা যুদ্ধ চাই মোরা,সুশাসন প্রতিষ্ঠার।   যুদ্ধ চাই,আনতে মানবতার সুদিন গাইবে সবাই,মানবিক গান ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট গল্প “রহিমুদ্দিনের কৃতজ্ঞতা”
"রহিমুদ্দিনের কৃতজ্ঞতা"   ( করোনা কালের একটি ছোট গল্প )   -ফয়েজ আহমেদ।   রহিমুদ্দিনের চোঁখ দিয়ে নিরবে পানি ঝড়ছে। একটা বোবা কান্না তার বুক চিড়ে বেরিয়ে আসতে চায়। কিন্তু সে কাদতে পারছেনা। রাত ৩ টা ...
READ MORE
ছোট গল্প “হাঁস বিড়ালে খাইছে”
"হাঁস বিড়ালে খাইছে" - ফয়েজ আহমেদ। (বর্তমান প্রেক্ষাপটের একটি ছোট গল্প) সেদিন ছিল সোমবার। ফকিরের হাট। সজিব হাটে গিয়ে হাস কিনবে। হাসের মাংস খুব প্রিয় সজিবের। বাজারের ব্যাগ নিয়ে মটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে হাটের ...
READ MORE
“পুর্বসুরী”
পুর্বসুরী"   ফয়েজ আহমেদ   পলাশীর প্রান্তর,একটি যুদ্ধ যুদ্ধ নয়,এক প্রহসন,চাতুরতা, মীর জাফরের প্রতারনা,লোভ দুশো বছর,পরাধীনতার গ্লানী।   ক্লাইভ চাল,বেঈমানী,স্বার্থপরতা নবাব সিরাজ,বাংলার স্বর্কীয়তা, স্বাধীনতার রক্তিম সুর্য, অস্তমিত স্বার্থক মীর জাফর, অভিপ্রায়।   যুদ্ধ হয়নি, খন্ড নাটক মঞ্চায়ন মোহন লাল,ঊর্মি চাদ কুপোকাত, সম্ভব হয়নি,বেঈমান সেনাপতি প্রতারনা,বাংলা শাসন হারায়।   পলাশী ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “ভালবাসি হয়নি বলা”।
“জাগ্রত স্বপ্ন”
“স্বাধীনতার রুপকার”
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “পল্টিবাজ”।
ফয়েজ আহমেদ এর রম্য রচনা “তেল হাওয়া”
ছোট গল্প “দ্বি-চারিনী”।
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “যুদ্ধ চাই”
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট গল্প “রহিমুদ্দিনের কৃতজ্ঞতা”
ছোট গল্প “হাঁস বিড়ালে খাইছে”
“পুর্বসুরী”
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।