আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :

ফয়েজ আহমেদ’র এর গল্প “অসম প্রেম পরিনতি”

মাসুদ পার্কে বসে আছে। রীতা মাসুদকে জরুরী ভাবে এখানে আসতে বলেছে। আজ রীতা আর মাসুদের ভালবাসার পরিনতির ফায়সালা হবে।  চুড়ান্ত বোঝা-পড়া হবে।ভালবাসা নিয়ে টানপোড়েন নিষ্পতি করবে ওরা। ক’দিন থেকে রীতা আর মাসুদ দু’জনেই মানষিক অস্থিরতায় ভুগছে। ফোনে কথা হচ্ছে,কিন্তু তারা ঐক্যমতে পৌছতে পারছেনা। আজ মাসুদ ও রীতা আলোচনা করে ভালবাসার ভবিষ্যত ঠিক করবে।

লাল পাড়,বেগুনি শাড়ী পড়ে এসেছে রীতা। রীতাকে অনেক সুন্দর লাগছে। এই সাজে রীতাকে যে দেখবে সে রীতার প্রেমে পড়ে যাবে। রীতা আর মাসুদের সম্পর্ক প্রায় দু’বছর হল। মাসুদ রীতাকে বলেছিল,আমাদের সম্পর্ক,তোমার বাবা-মা মেনে নেবে না। শুনেনি রীতা। সে বলেছে, সংসার আমি করব। আমার বাবা-মায়ের কি। মাসুদের মনে সংশয় ছিলই। হয়ত শেষে,রীতার পরিবার এ “অসম প্রেম” সম্পর্ক মেনে নিবেনা। কিন্তু রীতার জেদের কাছে হেরে গেছে, মাসুদ।
মাসুদ একটি কম্পিউটার দোকান চালায়। দোকানটা খুব ভাল চলে। ইন্টারনেট,অনলাইন,
কম্পোজ,ফটোকপিসহ বিভিন্ন কাজ করে। কাজের জগতে মাসুদের,শহরে ব্যাপক নাম। অনেকে তার দোকানে কাজ করে। প্রতিদিন সব খরচ বাদ দিয়ে ১/২ হাজার টাকা লাভ থাকে। মাসুদের বাবাও সরকারী চাকুরী করেন। দু’বোন,মাসুদ আর বাবা-মাকে নিয়ে খুব ভালই চলে,মাসুদের পরিবার।
কম্পিটার দোকানেই,রীতার সাথে প্রথম দেখা হয় মাসুদের। রীতা অনলাইনে অনার্স ভত্তির আবেদন করতে এসেছিল। তখনই পরিচয়। পরিচয়ের সুত্র ধরে মোবাইল নাম্বার লেনদেন। পরে পরিণয়। রীতাই প্রথম আগ্রহ দেখিয়েছিল। দেখতে খুব সুন্দরী হওয়ায় মাসুদও এগিয়েছে একটু। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক শুরু হয়।
মাসুদ প্রায় শুক্রবার, রীতাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেত। সারাদিন ঘুরে সন্ধায় তারা ফিরত। রীতার বাড়ীতে কখনও যায়নি মাসুদ। তবে রীতা অনেকবার মাসুদের বাড়ীতে গিয়েছে। মাসুদের বাড়ীর সবার সাথে একটা ভাল সম্পর্ক করে নিয়েছে রীতা। মাসুদ রীতার বাড়ী না গেলেও, চেনে রীতার বাবা-মাকে। একদিন রীতাসহ ওদের শহরে দেখা হয়েছিল। সেখানে রীতার বাবা-মায়ের সাথে কথা হয়েছে মাসুদের।
রীতার বাবা গোগাল দত্ত স্থানীয় একটি প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষকতা করেন।মা সন্ধ্যা রানী দত্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকুরী করেন।রীতা তাদের একমাত্র সন্তান। এখানে ভয় মাসুদের। তারা কোন দিন এই “অসম প্রেম” সম্পর্ক মেনে নেবেনা। রীতাকে বহুবার বোঝাতে চেয়েছে মাসুদ। কিন্তু রীতা কিছুতেই বোঝেনি। তার এক কথা। ভাল যখন বেসেছি, ঘর বাধবই।
রীতা কয়েক দিন থেকেই মাসুদকে বলছে, বিয়ে করার জন্য। মাসুদ রাজী হয়নি। এভাবে সে বিয়ে করবেনা। রীতা পালিয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার কথাও বলেছে। কিন্তু মাসুদ বলে দিয়েছে,সে পালাবেনা। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কয়েকদিন থেকেই মনোমালিন্য চলছে। শেষে রীতা এ বিষয়ে ফাইনালী একটা সিদ্ধান্ত নিতে আজ পার্কে ডেকেছে মাসুদকে।
রীতা আর মাসুদ পাশাপাশি বসে আছে। ওরা দু,জনেই চুপচাপ।কেউ কোন কথা বলছেনা। যেন রাজ্যের সকল শুন্যতা ওদের ভর করেছে। এভাবে কেটে যায় কিছুটা সময়। দুজনে উদাসিন ভাবে তাকিয়ে আছে,দুরে বহু দুরে। তাদের দু’জোড়া চোঁখ যেন দুরের শুন্যতায় কিছু খুজছে। এবার কথা বলে মাসুদ। বল,কেন আসতে বলেছ। দোকনে অনেক কাজ, তারাতারি ফিরতে হবে। রীতা কোন কথা বলেনা। অপলক চোখে শুধু মাসুদের দিকে চেয়ে থাকে। রীতার চাহনীতে একটা অসহায়ত্বভাব দেখতে পায় মাসুদ। রীতা যেন আজ নিস্তেজ হয়ে আছে। ওর শরীরের সব শক্তি যেন শেষ হয়ে গেছে।
মাসুদ এবার রীতার ডান হাতটা স্পর্ষ করে। একটি হাত রিতার ঘারে দিয়ে বলে, কি হয়েছে তোমার। রীতা তবুও কোন কথা বলেনা। রীতার চোঁখ পানিতে ছলছল করছে। যে কোন মহুর্তে কেঁদে দিতে পারে রীতা। মাসুদ বুঝতে পারে,রীতার উপর দিয়ে হয়ত বড় কোন ঝড় বয়ে যাচ্ছে। যেটা ও কন্টোল করতে পারছেনা। রীতার প্রতি অসম্ভব একটা মায়া পড়ে যায় মাসুদের। তার মন অন্য রকম এক বেদনায় কাতর হয়ে পড়ে। কি সেই বেদনা,বুঝতে পারেনা মাসুদ।
আরও আন্তরিক ভাবে কাছে চেপে বসে মাসুদ। বলে কি হয়েছে বলবেনা। রীতা এবার কান্না কন্ঠে বলে তুমি আমাকে বিয়ে কর। কঠিন একটা প্রশ্নের মুখোমুখী মাসুদ।কি বলবে সে। বাড়ীতে তার বিয়ে উপযুক্ত দু’টো বোন আছে। তাদের আগে বিয়ে দিতে হবে। তাছাড়া রীতাকে সে কিভাবে বিয়ে করবে। আইনি জটিলতা আছে। সে মুসলমান। হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করার আইনি বিষয় গুলো,সে বোঝেনা। কারও সাথে সে এব্যাপারে কোন কথা বলেনি। রীতাকে ভালবাসার বিষয়টি সে একাই জানে। পরিবার কিংবা বন্ধু বান্ধব কাউকে জানায়নি। সামাজিক সংকট সৃষ্টির ভয়ে সে বিষয়টি গোপন রেখেছে। রীতা আবার বলে,আজই আমাকে বিয়ে কর। মাসুদ রীতাকে বোঝাতে চায। কিন্তু রীতা বলে,আমি কোন কিছু শুনতে চাইনা। তুমি আমাকে বিয়ে করবে কিনা, তাই বল।
মহাসংকটে মাসুদ। সে রীতাকে কি বলবে। রীতা  কোন কথাই শুনতে চাচ্ছেনা। মাসুদ রীতাকে বলে আচ্ছা বিয়েতো করবই। কিন্তু এখন কেন। রীতা বলে,আমার বাড়ী থেকে ছেলে খোজা হচ্ছে,আমার বিয়ের জন্য। আমার বাবা-মা দু’এক জায়গায় ছেলেও দেখেছে। যে কোন দিন আমার বিয়ে দিতে পারে। তাছাড়া আমি বাড়ীতে তোমার কথা বলতে পারবনা। ওরা কখনও রাজী হবেনা। আগে বিয়ে,পর ওদের জানাবো।
মাসুদ রীতার সব কথা বুঝতে পারে। কিন্তু সে তার পরিবারের কথা চিন্তা করে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রীতাকে তার বাড়ীতে নিলেও,তার বাবা-মা মানবে না। মাসুদের ইচ্ছে, আগে বোন দু’টোর বিয়ে দেবে। পরে সে, রীতাকে বিয়ে করবে। তখন বাবা-মা না মানলে, দেখা যাবে,কি করা যায়। কিন্তু বর্তমানের এই অবস্থায়,কি করবে মাসুদ। কোন কিছুই ভাবতে পারেনা সে। রীতা আবার বলে,তোমাকে ছাড়া,অন্য কোন ছেলেকে আমি বিয়ে করতে পারবনা। বাবা-মাকেও তোমার কথা বলতে পারবনা। তুমি যদি বিয়ে না কর, সেক্ষেতে আমি বিয়ের দিন আত্মহত্যা করব।
রীতার কথা শুনে,চমকে যায় মাসুদ। রীতাকে সান্তনা দেয়। কিন্তু রীতা কোন কথা,বুঝতে চায়না। মাসুদ তার বাবা-মায়ের বিয়য়ে,খুলে বলে রীতাকে। রীতা বলে,তাহলে চল,আমরা দুরে কোথাও চলে যাই। সব কিছু ঠিক হলে,তখন ফিরব।
মাসুদ রীতার কোন কথার,উত্তর দিতে পারেনা। চুপ করে বসে থাকে। মাসুদ ভাবতে থাকে,সবাইকে ছেড়ে কিভাবে সে, চলে যাবে।সবার অজ্ঞাতে কি ভাবে,থাকবে মাসুদ। বাবা-মাকে,কি জবাব দিবে সে। রীতা বলে, তুমি যদি এই মহুর্তে সিদ্ধান্ত না দেও,তাহলে আর আমাকে কোন দিন দেখতে পাবে না।
আর ভাবতে পারছেনা মাসুদ। সেও রীতাকে খুব ভালবাসে। কিন্তু একটি “অসম প্রেম”এমন দ্বিধায় ফেলবে আগে তা বুঝতে পারেনি মাসুদ। মাসুদের ভাবনায় আবার ছেদ দিয়ে রীতা বলে,আমরা কালকেই বাইরে চলে যাব। সেখানে সংসার বাধব। সব কিছু ঠিক হলে,পরে আবার ফিরে আসব।
মাসুদ অবশেষে,রীতার কথা মেনে নেয়। কাল দু’টায় তারা নাবিল কোচে ঢাকা যাবে। সেখানে তারা ঘর বাধবে। সংসার করবে। পরিস্থিতি ঠিক হলে তখন ফিরে আসবে। দুজনের কথা হয় ওরা কাল পৌনে দু’টার সময় কোচ কাউন্টারে মিট করবে। মাসুদ বাড়ী যাওয়ার সময় আজই ঢাকার টিকেট কেটে নেবে। মাসুদ আর রীতা ঢাকা যাওয়ার পরিকল্পনা নেয়। এখন অনেকটা নির্ভার ওরা।ওদের দু’জনকে এখন খুব উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। মনে তাদের চীর মিলনের একটা  সুখ অনুভুতি,দোলা দিয়ে যায়।
মাসুদ রীতাকে বিদায় দিয়ে কোচ কাউন্টারে যায়। দু’টার গাড়ীর টিকেট করে। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে,ঢাকায় তার সবুজ নামের এক বন্ধু কে ফোন দেয়। মাসুদ, বন্ধু সবুজকে শুধু বলে এক বন্ধুসহ ঢাকায় আসছি।  দু’একদিন তোর বাড়ীতে থাকবো। সবুজ,মাসুদের খুব কাছের বন্ধু। ঢাকায় চাকরী করে। স্ত্রীসহ একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ওখানেই থাকে। মাসুদ ঢাকা গেলে সবুজের বাসাতেই উঠত।
আজ দোকানে আসেনি মাসুদ। মাসুদের মা রাজিয়া বেগম ছেলেকে জিজ্ঞেস করে,কি ব্যাপার তুমি দোকানে যাবেনা। মাসুদ তার মাকে বলে,মা আমি দু’টার কোচে ঢাকা যাব। মাল আনতে। কালকে চলে আসব। আর কিছু বলেনি,রাজিয়া বেগম। দোকানের কাজে মাসে দু’একবার ঢাকা আসা যাওয়া করে মাসুদ।
দুপুরে খেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে নেয় মাসুদ।দেড়’টার দিকে বেরিয়ে আসে,বাড়ী থেকে।কাউন্টারে রীতা চলে এসেছে। রীতাকে এই সময়ে বাড়ী থেকে আসতে কাউকে,কিছু বলতে হয়নি। তার বাবা-মা দু’জনে এখন অফিসে। যখন ফিরবে,জানবে,তখন রীতা সীমানার অনেক দুরে।
ঢাকায় বন্ধু সবুজের ফ্ল্যাটে এখন মাসুদ আর রীতা। বন্ধু সবুজ জানত না,মাসুদ তার প্রেমিকাকে নিয়ে আসবে। রীতা আর মাসুদের কাছে সব শুনে বন্ধু সবুজ। রাতে মাসুদ আর সবুজ এক সাথে ঘুমায়। রীতা ঘুমায় বন্ধু সবুজের স্ত্রীর সাথে। বন্ধু সবুজের স্ত্রী মমতাজ খুবই ভালো মনের মানুষ। মাসুদকে সে ভাইয়ের মত মানে। তার ভাই না থাকায় মাসুদকে ভাইয়ের আসন দিয়েছে মমতাজ। আগেও কয়েকবার মাসুদ সবুজের ফ্ল্যাটে এসেছিল। বন্ধু সবুজের স্ত্রী মমতাজ আর মাসুদের ভাই-বোন সম্পর্কের বন্ধন যেন অটুট।
সকাল দশ’টার দিকে বন্ধু সবুজ তার গাড়ীতে করে, মাসুদ ও তার প্রেমিকা রীতাকে নিয়ে জর্জ কোর্টে যায়।পরিচিত এক এ্যাডভোকেট এর চেম্বারে।সেখানে মাসুদ আর রীতার বিয়ের আইনগত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এখন মাসুদ আর রীতা বিবাহিত।  ওরা স্বামী-স্ত্রী।
বন্ধু সবুজ তার ফ্ল্যাটের পাশেই একটি বাসা মাসুদকে ভাড়ার বন্দোবস্ত করে দেয়। মাসুদ তার বন্ধু সবুজকে নিযে সংসারের টুকিটাকি মালামাল ক্রয় করে নিয়ে আসে। সেখানে মাসুদ ও রীতা তাদের নতুন সংসার শুরু করে। সন্ধ্যার পর রীতা তার মায়ের মোবাইলে রিং দিয়ে সমস্ত ঘটনা বলে।রীতা তার মাকে বলে আমার পছন্দ আমি বেছে নিয়েছি। আমি এখন অনেকদুরে এসে সংসার শুরু করেছি। তোমরা আমাকে অযথা খোজ করবে না। সময় হলে আমি নিজে তোমাদের কাছে আসব।
 রীতা তার চলে আসার সমস্ত ঘটনা মাকে বললেও “অসম গোত্রে” বিয়ের কথা গোপন করে। রীতা তার মাকে বলে,বাবা কে বলে দিও,অযথা আমাকে খুজে সময় নষ্ট না করতে । আর আইনি কোন ঝামেলা করেও লাভ হবে না। কারন আমি প্রাপ্ত বয়স্কা।তোমাদের ইচ্ছে  হলে,আমার সাথে মোবাইলে কথা বলিও। রীতার মা কাদছে। একটাই মেয়ে তাদের। সে তার স্বামীকে কি জবাব দিবে। রীতার মা সন্ধ্যা রানী কোন ছেলেকে বিয়ে করেছে,তার পরিচয় জানতে বারবার মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেও,কোন পরিচয় দেয়নি রীতা। এদিকে মাসুদ তার বাড়ীতে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে, কাজ হয়নি, আরও ক’দিন তাকে ঢাকায় থাকতে হবে।
মনের মাধুরী মিশে,সংসার করছে মাসুদ আর রীতা। বন্ধু সবুজের সুপারিশে,একটি আইটি ফার্মে স্টাডিং পনের হাজার টাকার চাকুরীও পেয়েছে মাসুদ। সকাল দশ’টা থেকে বিকাল পাঁচ’টা পর্যন্ত অফিসে কাজ করে মাসুদ। গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ। অফিসের পর রীতাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায় মাসুদ। আজ রিতা আর মাসুদের বিয়ের সপ্তাহ পুর্ন হয়েছে। আজও মাসুদের বাড়ীর কেউ জানে না মাসুদ বিয়ে করেছে। সে ঢাকায় রীতিমত সংসার করছে। মাঝে মধ্যে বন্ধু সবুজ তাদের খোজ-খবর নেয়।
অফিস থেকে মাসুদ আজ দশ’হাজার টাকা অগ্রীম পেয়েছে। মাসুদের বস খুব ভাল মানুষ। কাজ পাগল। মাসুদের কাজ তার খুব পছন্দ হয়েছে। তাই মাসুদ আজ অফিস থেকে আসার সময় বস তার হাতে ওই টাকার খামটা ধরিয়ে দেয়। মাসুদ বাড়ী ফিরে রীতাকে নিয়ে মার্কেটে যায়। বেতনের প্রথম টাকায় সে রীতাকে কাপর-চোপর ও প্রসাধনী কিনে দেয়। একটা রেষ্টুরেন্টে রাতের খাবার খায়। এর পর ওরা বাসায় ফিরে আসে। মাসুদ আর রীতা মনের আনন্দে, তাদের নতুন সংসার জীবন অতিবাহিত করতে থাকে।
মাসুদ আর রীতার বিয়ের, আজ পনের’দিন। কয়েক দিন থেকে মাসুদ খেয়াল করছে,রীতার মনটা একটু খারাপ থাকে। মাসুদ জিজ্ঞেস করছিল,কিন্তু রীতা তা উড়িয়ে দিয়েছে। আজ সকালে অফিসে আসার সময়,রীতার মুড অফ, খেয়াল করে মাসুদ। কোন সমস্যা হয়েছে কিনা, জিজ্ঞেসও করেছিল।  কিন্তু রীতা কোন,উত্তর দেয়নি।  মাসুদ ভেবেছে হয়ত মা-বাবার কথা চিন্তা করে তার মনটা খারাপ হয়ে থাকতে পারে। আসার সময় রীতার মুড অফ দেখে, নিজের কাজেও মনোনিবেশ করতে পারছেনা মাসুদ। কি যেন এক দূঃশ্চিন্তা মনে, ভর করে আছে।
অফিসে লাঞ্চ বিরতি চলছে। মাসুদের কোন ক্ষুধা নেই। লাঞ্চ বাটিটা নাড়াচাড়া করে রেখে দেয়। আজ সে আর লাঞ্চ করবে না। বাসায় গিযে রীতাসহ এক সাথে খাবে।এমন সময় অফিসের পিয়ন মাসুদ জানায়,বাইরে একজন লোক,তার অপেক্ষা করছে।মাসুদ ভাবে,এখানে কে তার সাথে দেখা করতে আসবে। সবুজ নয়তো। সবুজ হলে তো ফোন করত। মনে একটা দ্বিধা নিয়ে বাইরে আসে মাসুদ।
আগত ব্যাক্তি,মাসুদের পরিচিত নয়। আগে কখনো তাকে দেখেনি মাসুদ। লোকটি মাসুদ কে প্রশ্ন করে, আপনি মাসুদ। সম্মতি সুচক জবাব দেয়ার সাথে সাথে,পাশ থেকে আরও কয়েকজন লোক মাসুদকে ঘিরে ধরে। একজন মাসুদের হাতে হ্যান্ড কাপ পরিয়ে দেয়। মাসুদ বুঝতে পারে এরা পুলিশের লোক। কিন্তু তাকে ধরবে কেন। তাহলে কি রীতার বাব-মা কোন মামলা করেছে। কোন কিছু ভাববার আগেই পুলিশ,মাসুদকে গাড়ীতে তুলে থানায় নিয়ে আসে। মাসুদের মোবাইল জব্দ করে। পরে পুলিশ মাসুদকে যাতা করে গালিগালাজ করে ল’কাপে পুড়ে দেয়।
মাসুদ ল!কাপে বসে ভাবছে,এমন কি করে হয়। তার মনে পড়ে, রীতার মন খারাপের কথা। তাহলে কি রীতা সব জানে। কিন্তু সেটা,কি করে সম্ভব। রীতা কিছু জানলে,নিশ্চয় মাসুদকে জানাত। আর কিছু ভাবতে পারছেনা মাসুদ। তার সব ভাবনা যেন এলোমেলো হয়ে যায়। এমন সময় মাসুদ দেখতে পায,রীতা ওসি সাহেব এর রুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
এটা কি করে সম্ভব। রীতা এখানে কেন। আমাকে নিয়ে আসার খবর পেয়েও যদি এসে থাকে,তাহলে অন্তত দু’ঘন্টা লাগার কথা। থানায় আসতে। তাহলে কি রীতা আগেই এসেছে। হিসাব মিলাতে পারেনা মাসুদ। যদি রীতা কোন ভাবে খবর পেয়ে এসে থাকে তাহলে সে,তার সাথে দেখা করতে আসছেনা কেন। এমন নানা প্রশ্ন,ঘুরপাক খায় মাসুদের মনে।
মাসুদকে কোর্টে চালান করা হয়েছে। ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুদকে জেল হাজতে প্ররনের নির্দেশ দেয়। মাসুদের পক্ষে কোন আইনজীবি কোর্টে দাড়ায়নি। দাড়াবে কি করে। মাসুদ তো কোন আইনজীবি নিয়োগ করতে পারেনি। তার পক্ষের কোন লোকজন খবর পায়নি। মাসুদ জানতে পেরেছে,তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। তার স্ত্রী রীতা বাদি হয়ে এ মামলা করেছে। যৌতুকের জন্য মারডাং।
মাসুদ জেল হাজতে বসে ভাবছে রীতা কিভাবে তার বিরুদ্ধে এ মামলা করল। তার জন্যইতো সে বাবা-মা,বোনদের ছেড়ে,নিজের দোকান ছেড়ে ঢাকায় চাকুরী করছে।এখন সে তার বাবা-মাকে কি জবাব দেবে । রীতা কেন করল,এ কাজ। এমন বিশ্বাস ঘাতকতা,কেউ কারো সাথে করতে পারে। বিশ্বাস করতে পারেনা মাসুদ। তাহলে কি রীতাকে বাধ্য করেছে তার বাবা-মা। নাকি অন্য কেউ। কোন উত্তর মিলেনা মাসুদের।
জেলারের অনুমতি নিয়ে,গত কাল বাবা-মাকে ফোন করেছে মাসুদ। জেলে থাকার কথা তাদের জানিয়েছে। তার বাবা ঢাকায় আসছেন। বন্ধু সবুজ খবর পেয়ে জেল হাজতে দেখা করেছে মাসুদের সাথে। সবুজ ইতি মধ্যে এ্যাডভোকেট নিয়োগ করেছে। সবুজ বলেছে,রীতার এ মিথ্যা মামলা থেকে দ্রুত জামিন হবে মাসুদের। রীতা ওর বাবা-মায়ের সাথে বাড়ী ফিরে গেছে। বন্ধু সবুজের কাছে জেনেছে মাসুদ।
আজ মাসুদের বাবা আর বন্ধু সবুজ জেল হাজতে দেখা করেছে মাসুদের সাথে। আগামীকাল জামিন শুনানি হবে। কালই মাসুদের জামীন হয়ে যাবে। এ্যাডভোকেট এমন কথা বলেছে, জানায় মাসুদের বাবা ও বন্ধু সবুজ। জেল হাজতে মাসুদের আজ বিশ দিন। জেল হাজতের এই বিশ দিন মাসুদের কাছে মনে হয়েছে,বিশ বছর। জেল হাজতের অনেকে জানতে চেয়েছিল, তার স্ত্রী এমন মামলা কেন দিল। উত্তর দেয়নি মাসুদ। সে মানুষকে কি বলবে,ভালবাসায় বিয়ে।পনের দিনের সংসার। তাই কিছু বলেনি, মাসুদ। নিরবে সে,শুধু চোঁখের অশ্রু ঝড়িয়েছে।
মাসুদের জামীন হয়েছে। সন্ধ্যায় জেল হাজত থেকে বেরিয়ে বাড়ীতে আসে মাসুদ। বাড়ীটা তেমনি আছে,যেভাবে সাজিয়ে ছিল রীতা।
শুধু রীতা নেই। মনের ভীতরে রীতার জন্য কোন সহানুভুতি আসছেনা মাসুদের। শুধু মাসুদের মনে হচ্ছে, এক বাড়ীতে থেকে,এক বিছানায় শুয়ে,কিভাবে এমন করতে পারল রীতা। মানুষের পক্ষে কি,এমন কাজ সম্ভব ! তাহলে কি বাবা-মায়ের কথাতেই এমন করেছে রীতা। মাসুদ ভাবছে,হয়ত তার অফিসে থাকা সময়ে, ফোনে কথা বলে আস্তে আস্তে বাবা-মার পক্ষ নিয়েছে রীতা । কিন্তু সে যদি তা নিয়েও থাকে, সে চলে যেত পারত, আমাকে বলতে পারত। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে,আমাকে জেলে,পুড়ল কেন। মাসুদের অজস্র ভাবনা, আর শেষ হতে চায়না।
বাবার সাথে রাতের কোচেই বাড়ী ফিরেছে মাসুদ। বাবা-মা,বোন কেউ মাসুদকে এই বিষয়ে কোন কিছু জিজ্ঞসা করেনি। মাসুদ সকালে নাস্তা করে দোকানে আসে । আজ এক মাসের বেশী সময় সে দোকান খুলতে পারে নাই। দোকান ধুলো বালায় ভরে গেছে। সব পরিষ্কার করে মাসুদ। দোকানে বসে মাসুদের দু’চোখ বেয়ে পানি পড়তে থাকে। কোন ভাবে সে চোঁখের পানি আড়াল করে। এমন সময় বুক পকেটে থাকা মাসুদের মোবাইলটা বেজে ওঠে।  মাসুদের মা রিজিয়া বেগমের ফোন। জরুরী তাগিদ। মাসুদকে বাড়ীতে আসতে বলছে।
মাসুদ দোকানের সার্টারে তালা দিয়ে অটো নিয়ে সোজা বাড়ীতে আসে।বাড়ীতে একটা অপরিচিত লোক বসে আছে।পোষ্ট অফিস থেকে এসেছে।  লোকটা মাসুদের দিকে একটা খাম এগিয়ে দেয়। সহি/স্বাক্ষর করে খামটা নেয় মাসুদ। খামটা খুলে মাসুদ একটা নোটিশ দেখতে পায়।কাজী অফিসের নোটিশ। রীতা পাঠিয়েছে।স্ত্রী কতৃক স্বামীকে এক তরফা তালাক দেয়ার নোটিশ। মাসুদের হৃদয়টা ভেঙ্গে চৌচুর হয়ে যায়। বুঝতে পারেনা সে,এখন কি করবে। রীতার এমন আচরন কোন ভাবেই ,মেনে নিতে পারছেনা মাসুদ। বুকের ভিতরে, শুধু একটা কথাই ভাসছে, ভালবাসা কি এমনই হয় !
Related Posts
“জাগ্রত স্বপ্ন”
"জাগ্রত স্বপ্ন" -ফয়েজ আহমেদ   তোমার স্মৃতি উকি দেয়, হৃদয় আয়নায় ভোলা যায় না,মনের গহীনে চাপা কষ্ট, যতবার চেষ্টা করি,ভুলব তোমার স্মৃতি জাগ্রত স্বপ্নে,সামনে এসে দাড়াও তুমি।   তোমার স্মৃতিগুলো কষ্ট দেয়,অবিরত সুখ-স্মৃতির দিনগুলো,আজ বেদনাময়, কষ্টের কঠিন আঘাত,জর্জরিত হাহাকার স্মৃতির বেড়াজালে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “দু’ফোটা জল”।
মাথা ভর্ত্তি একরাশ চিন্তা নিয়ে শহরের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয় রফিক। বাড়িতে কোন টাকা নেই। বাজার যা আছে দু'এক দিনে শেষ হয়ে যাবে। এদিকে এখন তার পকেটে আছে মাত্র পঞ্চাস টাকা। ...
READ MORE
কবিতা “কর রহমত”
"কর রহমত"   -ফয়েজ আহমেদ।   বছর শেষে,এলো রোজা রহমত পর্বের,চলছে পালা, বাকী আর,একটা রোজা সময় আছে,ধরো রোজা।   আজকে হবে,দশটা রোজা রহমত পর্বের,শেষ রোজা, আয় তোরা, খাই সেহরী রহমত পেতে,রোজা রাখি।   বাকী রবে, বিশটা রোজা মাগফেরাত পর্ব,পরের দশটা, আল্লার দয়া, পেতে হলে মাগফেরাত রোজা,করতে হবে।   মাগফেরাত ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “ভীটে পেল নন্দ”।
ভীটে মাটি নেই নন্দ লালের। অন্য মানুষের পুকুর পাড়ের এক কোনে ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করেন নন্দ। স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে গাদাগাদি করে অস্থাস্থ্যকর এক জীবন পার করছে সে। গত ...
READ MORE
“পক্ষ”
"পক্ষ" -ফয়েজ আহমেদ   ঘটনাস্হল খাতামধুপুর,রাজনীতি সৈয়দপুরে এমনভাবে চলতে থাকলে,ক্ষতি সবার হবে, দুইটা পক্ষ দুই দিকে,রাজনীতি করছে জানি স্বচ্ছ রাজনীতি চাই মোরা,নয় অপরাজনীতি।   দড়ি ধরে টানাটানি,করছে দুই প্রভাবশালী সত্য মিথ্যার চলছে লড়াই,জানি সবাই জানি, দোষী কিনা যাছাই করা,নয়তো কারো ...
READ MORE
ছোট গল্প “দ্বি-চারিনী”।
"দ্বি-চারিনী"   ফয়েজ আহমেদ।   রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় একটি পরিচিত নারী কন্ঠ ভেসে আসে সাকিলের কানে। কন্ঠটা রাস্তার পাশের ওই বাড়ীটা থেকে আসছে। বাড়ীটা সাকিলের পরিচিত। আব্দুল হকের বাড়ী। সাকিলের এক কাছের ...
READ MORE
কবিতা “বঙ্গবন্ধু” জাতির চেতনার নাম
"বঙ্গবন্ধু" জাতির চেতনার নাম   -ফয়েজ আহমেদ   বঙ্গবন্ধু,চেতনার নাম,জাগ্রত অনুভুতি বাংলার ইতিহাস,লাল সবুজের বেষ্টনি, মুক্তির মহানায়ক,জনতার হৃদয় মনি আর্দশিক মানব,জাতির আলোক রশ্মি।   বঙ্গবন্ধু, রুপকার এই বাংলা পতাকার স্বাধীনতার স্হপতি,বিজয় মালা গাথার, শোষন-বঞ্চনা, রুখতে মানব মেশিন গণআস্হা তুমি,শোষিত জাতির মহাবীর।   বঙ্গবন্ধু, পরাধীনতার ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “আজব স্বপ্ন”।
"আজব স্বপ্ন"   -ফয়েজ আহমেদ।   গ্রামের নাম কাজলীয়া। সবুজ ঘেরা সুন্দর একটি গ্রাম। যতদুর চোঁখ যায়,শুধু প্রকৃতিক সবুজ লীলা ভূমি। গ্রমের লোকজন অত্যান্ত শান্তি প্রিয়। তারা সকলে ওই গ্রামে মিলে মিশে বসবাস করেন। ...
READ MORE
ছোট গল্প “নিষ্ঠুর করোনা”
"নিষ্ঠুর করোনা"   ফয়েজ আহমেদ।   দু'চোঁখ দিয়ে নিরবে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। কিছুতেই থামাতে পারছেন না জোসনা বেগম। তার বুক চিড়ে বোবা কান্না বেড়িয়ে আসছে। ইচ্ছা করছে চিৎকার করে কান্না করতে। তাও পারছেন না। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “মানবতা’।
"মানবতা"   -ফয়েজ আহমেদ।     রাস্তায় একটা জটলা দেখা যাচ্ছে।এগিয়ে যায় সুমন। একটা লোক চিৎ হয়ে পড়ে আছে। মনে হয় অজ্ঞান হয়ে গেছে। একজন বলে,লোকটা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিল। অজ্ঞান পার্টি আবার কি। জানেনা ...
READ MORE
“জাগ্রত স্বপ্ন”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “দু’ফোটা জল”।
কবিতা “কর রহমত”
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “ভীটে পেল নন্দ”।
“পক্ষ”
ছোট গল্প “দ্বি-চারিনী”।
কবিতা “বঙ্গবন্ধু” জাতির চেতনার নাম
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “আজব স্বপ্ন”।
ছোট গল্প “নিষ্ঠুর করোনা”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “মানবতা’।
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।