আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :
«» সৈয়দপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বখতিয়ার কবীর আর নেই। «» সৈয়দপুরের সাবেক কমিশনার আফসার আলী ওরফে থোপসা চৌধুরী আর নেই। «» আজ ভয়াল ২১ আগষ্ট। «» সৈয়দপুরে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্যেগে বৃক্ষরোপন ও খাদ্য বিতরন কর্মসুচী পালন। «» সৈয়দপুরের মোক্তাদির আলম আরাফাতের পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন। «» সৈয়দপুরে দৈনিক মুক্তভাষা’র উদ্যেগে শোক দিবস পালন। «» সৈয়দপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল সামাদ আর নেই। «» সৈয়দপুরে ভূমি দস্যু কতৃক মারপিটের শিকার আব্দুল হামিদের অবস্থা আশংকাজনক। «» শেখ কামাল ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী অনন্য সংগঠক। «» আ’লীগ থেকে বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রেফতার।

ছোট গল্প “মেয়েটাকে ভাল রেখ”

“মেয়টাকে ভাল রেখ”

 

-ফয়েজ আহমেদ।

 

রাত দু’টো বাজে। হাইওয়ে ডিউটি চলছে। হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠল। এত রাতে কে ফোন করছে। আরিফ পকেট থেকে ফোনটা বের করে। বাড়ী থেকে ফোন। স্ত্রী মাজেদা করেছে।এত রাতে স্ত্রীর ফোন পেয়ে বিচলিত হয়ে পড়ে আরিফ। তার মনে অজানা এক আশংকা বিরাজ করে।

 

আজ প্রায় দেড়’বছর বাড়িতে যায়নি আরিফ।কর্মস্থলেই আছে। নিয়মিত ডিউটি করতে হয়। অনেক সময় চব্বিশ ঘন্টাও তাকে ডিউটি করতে হয়েছে। অনেকবার ছুটি নেওয়ার চেষ্টা করেছে আরিফ। কিন্তু হয়নি। যখনই ছুটিতে যেতে চেয়েছে ,তখনি কোন না কোন জাতীয় সমস্যার কারনে ছুটি বাতিল হয়েছে।
বাচ্চাটার বয়স যখন ন’মাস তখন শেষ বার ছুটিতে গিয়েছিল আরিফ। পনের দিন পরিবারের সাথে কাটিয়ে এসেছে। তার বাচ্চাটি ন’মাসে বেশ নাদুস-নুদুষ হয়েছে। আরিফের কোল থেকে অন্য কারো কোলে যেতে চাইত না।  এমনকি ওর মায়ের হাতও সড়িয়ে দিত। আরিফের কোলে হাসত-খেলত।
আরিফ চিন্তা করে মেয়েটার কিছু হয়নি তো। নাকি বাবা-মায়ের কোন সমস্যা হলো। কিছু বুঝতে পারেনা আরিফ।ফোনটা রিসিভ করে। স্ত্রী মাজেদার কন্ঠ ভেসে আসে। আরিফ স্ত্রী মাজেদাকে বলে কি ঘটনা,এত রাতে ফোন করছ কেন। কোন সমস্যা হয়নি তো। আরিফের স্ত্রী মাজেদা অভয় দেয়। না কোন সমস্যা হয়নি।
মাজেদা বলে, আমিনা ঘুমাচ্ছে না। ও বার বার বলছে আব্বুর সাথে কথা বলব। আরো বলছে,আব্বুর সাথে কথা না বলে ঘুমাবে না। আমি অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু কিছুতেই মানছে না। তাই বাধ্য হয়ে তোমাকে ফোন দিলাম। তুমি এবার তোমার মেয়ে কে বুঝাও। আরিফের মন থেকে এবার অজানা আশংকাটা কেটে যায়।
আরিফ চিন্তায় পড়ে যায়। মেয়েটা কথা বলা শেখার পড় অনেক বার বলেছে,আব্বু তুমি বাড়ীতে আস। আমি তোমাকে দেখব। অনেক বার যাওয়ার সময় দিয়েও যেতে পারেনি আরিফ। মেয়েটা তাকে কয়েক বার বলেছে আব্বু তুমি মিথ্যা কথা বল। আসতে চেয়ে আসনা। আরিফ তখন বলেছে, মারে এবার ঈদে আমি ঠিক আসব। আর আসার সময় তোমার জন্য জামা-কাপড় আর জুতো কিনে নিয়ে আসব। মেয়েটা ওই কথা শুনে খুব খুশি হয়েছিল।
পড়ে আরেক দিন ফোন করে মেয়েটা আরিফ কে বলেছে,আব্বু এবার ঈদে কিন্তু তোমাকে আসতেই হবে । আরো বলেছে,আমি তোমাকে দেখব আব্বু। এবার ঈদে যদি না আস,তাহলে তোমার সাথে আর কোন দিন কথাই বলব না।
মেয়েটির এমন কথায় খুব কেঁদেছিল আরিফ। নিজের মেয়েকে সে দেখতে যেতে পারছে না। সে নিজেকে আর সামলাতে পারেনি। তার মধ্যে একটা বিবেকের দংশন হচ্ছিল। কিন্তু কি করবে আরিফ। সে তো পুলিশে চাকুরী করে। মানুষের জান মালের নিরাপত্তার দায়িত্বে সে নিয়োজিত। ইচ্ছে করলেই সে যেতে পারে না। তাছাড়া বর্তমানে দেশে বৈশিক করোনা ভাইরাস মহামারী হানা দিয়েছে। এখন পুলিশের অনেক কাজ। এই মহুর্তে সে কোন ভাবেই ছুটিতে যেতে পারবে না।
আরিফ স্ত্রী মাজেদা কে বলে,ফোনটা মামনিকে দাও। ওপাশ থেকে আরিফের কন্যা আমিনা ছালাম দিয়ে বলে, আব্বু কেমন আছ। আরিফ বলে হ্যা মামনি ভাল আছি।আরিফের স্ত্রী মেয়েটাকে খুব ভাল শিক্ষা দিয়েছে। ফোন করলে আগে ছালাম দিয়ে ভাল মন্দ জিজ্ঞেস করবে। তার পরে অন্য কথা বলবে। স্ত্রী মাজেদার প্রতি আরিফ তাই খুব কৃতজ্ঞ।
আরিফ ভাবে সে পাশে না থাকলেও মাজেদা মেয়েটাকে খুব ভাল ভাবে মানুষ করছে। আরিফ মেয়েকে জিজ্ঞাসা করে,আম্মু তুমি ভাল আছ। জ্বি আব্বু আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভাল আছি। মেয়েটা এবার বলে আব্বু ঈদের তো আর তিন দিন বাকী। তুমি কোন দিন আসবে। আর আমার জামা-কাপড় জুতো কিনেছ। মেয়েটার এ কথার কোন জবাব দিতে পারেনা আরিফ। সে ভাবে কি ভাবে মেয়েকে বলবে, এবারও সে আসতে পারবে না। মেয়েটার জন্য সে জামা-কাপড়, জুতো কিনতে পারেনি।
আরিফ চুপ করে থাকে। তার ভিতর থেকে একটা বোবা কান্না বেরিয়ে আসতে চায়।কাল আরিফের করোনা টেষ্ট করা হবে। ক’দিন থেকে শরীরটা ভাল যাচ্ছে না আরিফের। সে জানে না করোনা টেষ্টের ফলাফল কি হবে। পজিটিব হবে কিনা। আর যদি করোনা পজিটিব হয়। শেষ পর্যন্ত মেয়েটাকে সে দেখতে পারবে তো।
আরিফ ফোন হাতে নিয়ে, মনে মনে বলে, মারে আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমি তোর জামা-কাপর আর জুতো নিয়ে আসতে পারব না। মেয়েটি আবার জিগায়,আব্বু কথা বলছ না কেন। এবার আরিফ বলে,মারে নেটওয়ার্কের সমস্যা।  কথা ভাল ভাবে শোনা যাচ্ছে না। তুমি ফোনটা রাখ আর ঘুমিয়ে পড়। আমি তোমাকে কাল ফোন দিব।
আরিফ এবার ফোনের লাইনটা কেটে দেয়। বুক ডুকরে তার কান্না আসে। সে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। তার মনের অজান্তেই করোনা ভাইরাসের প্রকোপ চোঁখের সামনে ভেসে ওঠে। সে ভাবে এই করোনা ভাইরাসের কারনে গোটা পুথিবীর মানুষ আজ অসহায়। বিশ্বের প্রায় দেড়  লক্ষ মানুষের বেশী ইতি মধ্যে মারা গেছে। বিশ্বের অর্ধ কোটি মানুষ আজ আক্রান্ত। প্রতিদিন মৃত্যু আর সংক্রমনের সংখ্যা বাড়ছেই।
আরিফ আরও ভাবে, তার দেশেও আজ করোনা আঘাতে অত্যান্ত নাজুক অবস্থা। ইতিমধ্যে অনেক লোক মারা গেছে। আক্রান্ত প্রায় বিশ হাজারের বেশি মানুষ। প্রতিদিন মৃত্যু আর সংক্রমনের হার বাড়ছেই। তার ডিপার্টমেন্টেরও অনেকে ইতিমধ্যে মারা গেছে। অনেক পুলিশ সদস্য করোনা পজিটিব। তারা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
আরিফ আরও ভাবে,তার মতো অনেকে আজ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন।জনস্বার্থে আর মানবিকতায় তারা জীবনের ঝুকি নিয়ে করোনা সংকটে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছে । আরিফ তাদের সবার জন্য মন থেকে দোয়া করে। আল্লাহ’র কাছে ফরিয়াদ করে, হে আল্লাহ, তুমি এই করোনা ভাইরাস গজব থেকে বিশ্ব বাসীকে মুক্তি দাও। সবাইকে আপন জনদের সাথে আবার মিলিয়ে দাও প্রভু। সে মহান আল্লাহ’র কাছে আরও মিনতি করে, হে আল্লাহ আমার যাই হোক, তুমি আমার মেয়েটাকে ভাল রেখ।
Related Posts
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”জীবন নিয়ে জুয়া”।
অনেক আশা করে সরকারী চাকুরীজীবি কনে বিয়ে করেছেন তোফা। মনে তার একটাই শ্বান্তনা,এবার সংসারটা হবে। সরকারী চাকুরীজীবি বউ। অন্তত লোভ থাকবেনা। তছরুপ করবে না টাকা-পয়সা । ভাঙ্গবে না সংসার। কখনও যাবেনা ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “আজব স্বপ্ন”।
"আজব স্বপ্ন"   -ফয়েজ আহমেদ।   গ্রামের নাম কাজলীয়া। সবুজ ঘেরা সুন্দর একটি গ্রাম। যতদুর চোঁখ যায়,শুধু প্রকৃতিক সবুজ লীলা ভূমি। গ্রমের লোকজন অত্যান্ত শান্তি প্রিয়। তারা সকলে ওই গ্রামে মিলে মিশে বসবাস করেন। ...
READ MORE
কবিতা “বঙ্গবন্ধু” জাতির চেতনার নাম
"বঙ্গবন্ধু" জাতির চেতনার নাম   -ফয়েজ আহমেদ   বঙ্গবন্ধু,চেতনার নাম,জাগ্রত অনুভুতি বাংলার ইতিহাস,লাল সবুজের বেষ্টনি, মুক্তির মহানায়ক,জনতার হৃদয় মনি আর্দশিক মানব,জাতির আলোক রশ্মি।   বঙ্গবন্ধু, রুপকার এই বাংলা পতাকার স্বাধীনতার স্হপতি,বিজয় মালা গাথার, শোষন-বঞ্চনা, রুখতে মানব মেশিন গণআস্হা তুমি,শোষিত জাতির মহাবীর।   বঙ্গবন্ধু, পরাধীনতার ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”অমানবিক মানুষ”।
শ্বাস নিতে পারছেন না আছমা বেগম। খুব কষ্ট হচ্ছে তার। মনে হচ্ছে এক্ষনেই মারা যাবেন। কয়েক দিন থেকেই তার শরীরে জ্বর চলছে।  গতকাল জ্বরটা বেশী ছিল। পাড়ার মোড় থেকে নাপা ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর রম্য রচনা “তেল হাওয়া”
তেল হাওয়া" (একটি ছোট রম্য রচনা) মিলে সরিষা তেল নাই কথাটা শুনে একটা হোচট খায় সজিব। সে ভাবে করোনা প্রর্দুভাবের কারনে মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে। হাট-বাজারে মানুষ কম আসছে। এখনতো সব ধরনের ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ধোকা”।
মাস্টার্স পাশ করেও কোন চাকুরী জোগাড় করতে পারেনি তৈমুর। রাত-দিন অনেক দালালের পিছনে ঘুরেছেন। একটা চাকুরীর প্রত্যাশায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মধ্যখানে তার গাটের টাকা গেছে জলে। সর্বশেষ এক ...
READ MORE
“কবর পেল শাবনুর”
"কবর পেল শাবনুর"   -ফয়েজ আহমেদ।   মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলে অঝোরে কাঁদতে থাকে আবুল হোসেন। একটি মাত্র মেয়ে তার। আর কোন ছেলে পুলে নেই। অভাবের তাড়নায় মেয়েটিকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল আবুল হোসেন। মেয়েটিকে ...
READ MORE
ছোট গল্প “নিষ্ঠুর করোনা”
"নিষ্ঠুর করোনা"   ফয়েজ আহমেদ।   দু'চোঁখ দিয়ে নিরবে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। কিছুতেই থামাতে পারছেন না জোসনা বেগম। তার বুক চিড়ে বোবা কান্না বেড়িয়ে আসছে। ইচ্ছা করছে চিৎকার করে কান্না করতে। তাও পারছেন না। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট গল্প”ঘৃণা”।
বিগত পাঁচ বছর পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন রেজা মাহমুদ। চাকুরী করেন বেসরকারী একটি ফার্মে । নিজ শহরে বৃদ্ধ বাবা-মা ও তিন ভাই আছেন। প্রতিবছর একবার নিজ শহরে আসেন রেজা। ...
READ MORE
“স্বাধীনতার রুপকার”
"স্বাধীনতার রুপকার" -ফয়েজ আহমেদ।   বাংলাদেশ একদিন স্বাধীন ছিলনা। ছিল পরাধীন। নাম ছিল পুর্ব পাকিস্থান। ইংরেজ শাসনের অবসানের পর ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দু'টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। একটি ভারত ও অপরটি পাকিস্থান। পাকিস্থান ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”জীবন নিয়ে জুয়া”।
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “আজব স্বপ্ন”।
কবিতা “বঙ্গবন্ধু” জাতির চেতনার নাম
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”অমানবিক মানুষ”।
ফয়েজ আহমেদ এর রম্য রচনা “তেল হাওয়া”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ধোকা”।
“কবর পেল শাবনুর”
ছোট গল্প “নিষ্ঠুর করোনা”
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট গল্প”ঘৃণা”।
“স্বাধীনতার রুপকার”
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।