আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :

“কবর পেল শাবনুর”

“কবর পেল শাবনুর”

 

-ফয়েজ আহমেদ।

 

মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলে অঝোরে কাঁদতে থাকে আবুল হোসেন। একটি মাত্র মেয়ে তার। আর কোন ছেলে পুলে নেই। অভাবের তাড়নায় মেয়েটিকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল আবুল হোসেন। মেয়েটিকে সে লেখা-পড়াও করাতে পারেনি। স্হানীয় ব্র্যাক  স্কুলে ৫ম শ্রনী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে মেয়েটি। সখ করে মেয়েটির নাম রেখেছিল শাবনুর। শাবনুর নাম শুনে আপত্তি করেছিল রেখা বানু। বলেছিল শাবনুরতে নায়িকার নাম। মুচকি হেসে আবুল হোসেন স্ত্রী রেখা বানুকে বলেছে,আমার মেয়ে বড় হয়ে তো নায়িকাই হবে।

অনেক গরীব মানুষ আবুল হোসেন। মহাজনের রিকসা চালায়। শরীরটা তার আগেরমত নেই। ভালভাবে রিকসা টানতে পারেনা। হাপিয়ে যায়। তার পরেও রিকসা চালিয়ে মহাজনের জমার টাকা দিতে হয়। এরপর যতটুকু থাকে তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে সংসার চালায় সে। আবুল হোসেনের বউটার দিকেও দেখা যায়না। শুকনো কাঠ হয়েছে শরীরটা। অভাবের চিত্র তার বউয়ের শরীরে ফুটে উঠেছে।অনেক ভেবে মেয়েটাকে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠায় আবুল হোসেন। মেয়েটি গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে কাজ নেয়। মেয়েটা মাসে মাসে কিছু টাকা পাঠায়। একটু সাশ্রয় হয়েছে আবুল হোসেনের।
আবুল হোসেনের কান্না দেখে স্ত্রী রেখা বানু জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে। মেয়েটার সাথে কথা বলে তুমি কাঁদছ কেন। আমার মেয়ের কিছু হয়নিতো। আবুল হোসেন বলে,মনে হয় মেয়েটির করোনা হয়েছে। আবুল হোসেন শুনেছে,করোনা হলে গলায় ব্যাথা হবে,জ্বর থাকবে।শ্বাস কষ্ট হবে।মেয়েটি শরীরে এই উপসর্গগুলো আছে বলে জানিয়েছে। আবুল হোসেন মেয়েটাকে হসপিটালে যেতে বলেছে। করোনা টেষ্ট করতে বলেছে। রাজী হয়নি মেয়ে শাবনুর। সে বলেছে আগে আমি বাড়ী আসব। তারপর যা করার করবে। বাপের কোন কথাই
মানেনি শাবনুর।
গনপরিবহন সব বন্ধ আছে।মেয়েটা একটি ট্রাকে আসবে বলে আবুল হোসেনকে জানিয়েছে।আরও বলেছে,সে বাড়ীতে এসে চৌদ্দ দিন আলাদা থাকবে।সকাল দশটা বেজে গেছে। এখনও বাড়ীতে এসে পৌছায়নি শাবনুর। রাতে দু’তিনবার কথা হয়েছে তার। মেয়েটা বলেছে সকাল ছ’টার মধ্যে বাড়ীতে পৌছাবে।চিন্তায় পড়ে যায় আবুল হোসেন। মেয়েটা এখনও বাড়ীতে এলনা কেন। এত দেরীতো হওয়ার কথা নয়।
বাড়ীর মোড়ের দোকানে কিছু বাজার করতে যায় আবুল হোসেন। মেয়েটাকে ভাল-মন্দ খাওয়াতে হবে।দোকানের পাশে কিছু লোক জটলা পাকিয়ে কি যেন বলাবলি করছে। এগিয়ে যায় আবুল হেসেন। তার কানে আসে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা অজ্ঞাত একটি ষোড়শী মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জটলা পাকানো লোকগুলো এ নিয়ে আলোচনা করছে। তারা বলছে মেয়েটি নাকি করোনায় আক্রান্ত ছিল। বুকটা কেপে উঠে আবুল হোসেনের। তার বুক চিরে কান্না আসে। বাজার না নিয়েই বাড়ীতে ফিরে আসে আবুল হোসেন। স্ত্রী রেখা বানুকে সাথে নিয়ে থানায় যায়।
সাদা বস্তায় পেচানো একটি লাশ। রিকসা ভ্যানে রাখা আছে। পুলিশকে সব খুলে বলে আবুল হোসেন। এরপর লাষের মুখটা দেখতে চায়। একজন লাষটা দেখায় আবুল হোসেন ও তার স্ত্রীকে। লাষটা দেখে কান্নায় ভেঙ্গ পড়ে আবুল হোসেন ও রেখা বানু। লাষটা তারা বুকে জড়িয়ে ধরতে চায়। কিন্তু পুলিশ বাধা দেয়।  এ যে তাদের আদরের শাবনুর। বেড়িয়ে আসেন থানার ওসি সাহেব। তিনি আবুল হোসেনের সব কথা শুনে বলেন,আপনার মেয়ে হয়ত ট্রাকেই মারা গেছে। ড্রাইভার লাশটি রাস্তার পাশে ফেলে চলে গেছেন।
পুলিশের কাছে মেয়ের প্রানহীন নিথর দেহটা বুঝে নেয় আবুল হোসেন। একটা অটো ভ্যান ডাকেন। বিশেষ অনুরোধে মরদেহটি পরিবহনে রাজি হয় অটো ড্রাইভার। পথিমধ্য এলাকার চেয়ারম্যানকে ফোন দেয় আবুল হোসেন। মেয়ের দাফন কাফনের কথা বলেন। চেয়ারম্যান আবুল হোসেনকে জানায়,তোমার মেয়ে করোনায় মারা গেছে। তাই তোমার মেয়েকে গ্রামে কবর দেয়া যাবেনা। লাশ গ্রামে আনলে পুড়িয়ে ফেলা হবে।
মারাত্মক সমস্যায় পড়ে যায় আবুল হোসেন। মেয়ের মরদেহ কোন ভাবেই সে পুড়তে দিবেনা। আবুল হোসেন এবার অটো ড্রাইভারকে অনুরোধ করে তার গ্রামে মেয়েটির কবরের ব্যবস্থা করতে। সে ড্রাইভারের হাতে পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেয়। ড্রাইভার  টাকা নিয়ে বলেন,আপনারা চলে যান। আমি আমাদের গ্রামে মেয়েটির দাফন করব। আপনারা গেলে সমস্যা হবে। আবুল হোসেন ও তার স্ত্রী অটো ভ্যানের ড্রাইভারের হাতে মেয়ের মরদেহ দাফন-কাফনের ভার দিয়ে অশ্রু সিক্ত নয়নে বাড়ীতে ফিরে আসে।
শাবনুর মারা যাওয়ার আজ দু’দিন। কোন ভাবেই কান্না থামাতে পারছেন না আবুল হোসেন। কাঁদছে স্ত্রী রেখা বানুও। মেয়েটিই ছিল তাদের একমাত্র অবলম্বন। আজ দু’দিন থেকে তারা প্রায় না খেয়েই আছে। শুধু কাঁদছে।আর ভাবছে,তারা মেয়েটিকে কবর দিতে পারলনা। এ কেমন নিয়তি। এমন সময় তার বাড়ীতে পুলিশ আসে। পুলিশ জিজ্ঞেস করে মেয়েটির মরদেহ কোথায় দাফন করা হয়েছে। আবুল হোসেন পুলিশকে সব ঘটনা খুলে বলেন।
পুলিশ আবুল হোসেনকে বলেন,ওই অটো ড্রাইভার আপনার মেয়েকে দাফন করেনি। লাশটি তিস্তা নদীতে বস্তাসহ ফেলে দিয়েছিল। আজ লাশটি ভেসে ওঠায় স্হানীয় লোকজন থানায় খবর দেয়। তারা লাশটি উদ্ধার করেছে। পুলিশ আবুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়। আবুল হোসেন দেখতে পায় তার প্রানপ্রিয় মেয়েটার দেহ পচে গলে গেছে। মরদেহ থেকে দূগন্ধ বের হচ্ছে। আবুল হোসেন আর কান্না থামাতে পারেনা। অঝোরে কাঁদতে থাকে সে। সে ভাবে মানুষ এত খারাপ। এত নীচ,এত স্বার্থপর হতে পারে মানুষ।
থানার ওসি সাহেবকে সব ঘটনা খুলে বলেন আবুল হোসেন। ওসি সাহেব সব শুনে নিজেই লাশটি দাফনের ব্যবস্থা নেয়। পুলিশের এমন মহতি কাজ করার ঘোষনায় মনটা ভরে যায় আবুল হোসেনের। সে পুলিশের এমন কাজে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
আবুল হোসেন আগেও শুনেছে,অনেক মরদেহ জীবনের ঝুকি নিয়ে পুলিশ দাফন করেছে।করোনা কালে পুলিশ জীবনের মায়া না করে লড়ছে করোনার বিরুদ্ধে। অনেক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মারাও গেছে অনেকে। আবুল হোসেনের ভারাক্রান্ত মনটা একটু ভারমুক্ত হয়। মনে একটা প্রশান্তি কাজ করে তার। সে ভাবে,যাক মেয়েটা শেষে কবর পেল। পুলিশের প্রতি তার শ্রদ্ধা-ভালোবাসা আরও বেড়ে যায় বহুগুন।মন থেকে পুলিশ বাহিনীর জন্য অফুরন্ত দোয়া করে আবুল হোসেন।
Related Posts
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ধোকা”।
মাস্টার্স পাশ করেও কোন চাকুরী জোগাড় করতে পারেনি তৈমুর। রাত-দিন অনেক দালালের পিছনে ঘুরেছেন। একটা চাকুরীর প্রত্যাশায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মধ্যখানে তার গাটের টাকা গেছে জলে। সর্বশেষ এক ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “মানবতা’।
"মানবতা"   -ফয়েজ আহমেদ।     রাস্তায় একটা জটলা দেখা যাচ্ছে।এগিয়ে যায় সুমন। একটা লোক চিৎ হয়ে পড়ে আছে। মনে হয় অজ্ঞান হয়ে গেছে। একজন বলে,লোকটা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিল। অজ্ঞান পার্টি আবার কি। জানেনা ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর রম্য রচনা “তেল হাওয়া”
তেল হাওয়া" (একটি ছোট রম্য রচনা) মিলে সরিষা তেল নাই কথাটা শুনে একটা হোচট খায় সজিব। সে ভাবে করোনা প্রর্দুভাবের কারনে মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে। হাট-বাজারে মানুষ কম আসছে। এখনতো সব ধরনের ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “ভীটে পেল নন্দ”।
ভীটে মাটি নেই নন্দ লালের। অন্য মানুষের পুকুর পাড়ের এক কোনে ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করেন নন্দ। স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে গাদাগাদি করে অস্থাস্থ্যকর এক জীবন পার করছে সে। গত ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “রোজা”
"রোজা" -ফয়েজ আহমেদ   নীল আকাশে উঠল ভেসে মহাখুশির চাঁদ,মুমিন সকল খাসদিলে,করবে রোজা কাল।   খাবে সেহরী,রাখবে রোজা এইতো সবার,মনের আশা পুর্ন হবে,সকল অভিলাশ।   নীল আকাশের,সোনালী চাঁদ সবার মাঝে,আনন্দ-উচ্ছ্বাস এলো খুশির,মাহে রমজান।   নীল আকাশের,বাঁকা চাঁদে সকল মুমিন,স্বপ্ন খোজে মাবুদ দিবে,এবার নিস্তার।   মাস ব্যাপি,রাখবে রোজা পড়বে নামায,করবে দোয়া সকল ...
READ MORE
“পুর্বসুরী”
পুর্বসুরী"   ফয়েজ আহমেদ   পলাশীর প্রান্তর,একটি যুদ্ধ যুদ্ধ নয়,এক প্রহসন,চাতুরতা, মীর জাফরের প্রতারনা,লোভ দুশো বছর,পরাধীনতার গ্লানী।   ক্লাইভ চাল,বেঈমানী,স্বার্থপরতা নবাব সিরাজ,বাংলার স্বর্কীয়তা, স্বাধীনতার রক্তিম সুর্য, অস্তমিত স্বার্থক মীর জাফর, অভিপ্রায়।   যুদ্ধ হয়নি, খন্ড নাটক মঞ্চায়ন মোহন লাল,ঊর্মি চাদ কুপোকাত, সম্ভব হয়নি,বেঈমান সেনাপতি প্রতারনা,বাংলা শাসন হারায়।   পলাশী ...
READ MORE
“জাগ্রত স্বপ্ন”
"জাগ্রত স্বপ্ন" -ফয়েজ আহমেদ   তোমার স্মৃতি উকি দেয়, হৃদয় আয়নায় ভোলা যায় না,মনের গহীনে চাপা কষ্ট, যতবার চেষ্টা করি,ভুলব তোমার স্মৃতি জাগ্রত স্বপ্নে,সামনে এসে দাড়াও তুমি।   তোমার স্মৃতিগুলো কষ্ট দেয়,অবিরত সুখ-স্মৃতির দিনগুলো,আজ বেদনাময়, কষ্টের কঠিন আঘাত,জর্জরিত হাহাকার স্মৃতির বেড়াজালে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”কাকলীর আত্মহনন”।
কলঙ্কে ভরা জীবনটা আর বয়ে বেড়ানোর ইচ্ছে নেই কাকলীর। কাকলী কোন দিনও ভাবেনি তার জীবনে লাগবে কলঙ্কীনি দাগ। কলঙ্কীনি দাগ লাগার মত কেন কাজ করেনি কাকলী। সে একজনকে বিশ্বাস করেছিল। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প””তিরস্কার”।
বৃদ্ধা শ্বাশুড়ী আর ছয় মাসের শিশু পুত্র নিয়ে খুব খাদ্য সংকটে আছে রহিমা বেওয়া। বাঁচ্চাটা শরীরে আসার তিনমাস পর মারা যায় রহিমার স্বামী কুবের আলী। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বাশুড়ী পোনা মাই ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “আজব স্বপ্ন”।
"আজব স্বপ্ন"   -ফয়েজ আহমেদ।   গ্রামের নাম কাজলীয়া। সবুজ ঘেরা সুন্দর একটি গ্রাম। যতদুর চোঁখ যায়,শুধু প্রকৃতিক সবুজ লীলা ভূমি। গ্রমের লোকজন অত্যান্ত শান্তি প্রিয়। তারা সকলে ওই গ্রামে মিলে মিশে বসবাস করেন। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ধোকা”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “মানবতা’।
ফয়েজ আহমেদ এর রম্য রচনা “তেল হাওয়া”
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “ভীটে পেল নন্দ”।
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “রোজা”
“পুর্বসুরী”
“জাগ্রত স্বপ্ন”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”কাকলীর আত্মহনন”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প””তিরস্কার”।
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “আজব স্বপ্ন”।
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।