আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :
«» সৈয়দপুরে দন্ডের টাকা পরিশোধ না করে পুলিশ কর্মকতাকে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের। «» সৈয়দপুরে পুলিশ কর্মকতাকে পেটালেন ভূমি দস্যুর ছেলে বখাটে আতিফ। «» ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও ভ্যান বন্ধের সিন্ধান্ত-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। । «» দেশে কোন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার থাকবেনা-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। «» প্রবীন রাজনীতিক শমসের আলী বসুনিয়া আর নেই। «» সৈয়দপুরে চোরাই মটরসাইকেল উদ্ধার,২ জন আটক। «» সৈয়দপুর ফাইলেরিয়া হাসপাতাল পরিচালনায় কমিটি গঠন ও সংবাদ সম্মেলন। «» সৈয়দপুরে গণমানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় চির বিদায় নিলেন ডাঃ সুরত আলী বাবু। «» ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”জীবন নিয়ে জুয়া”। «» ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”বিধি বাম”।

ফয়েজ আহমেদ এর রম্য রচনা “তেল হাওয়া”

তেল হাওয়া”

(একটি ছোট রম্য রচনা)

মিলে সরিষা তেল নাই কথাটা শুনে একটা হোচট খায় সজিব। সে ভাবে করোনা প্রর্দুভাবের কারনে মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে। হাট-বাজারে মানুষ কম আসছে। এখনতো সব ধরনের মালামাল অহরহ পাওয়া যাওয়ার কথা। আর উনি কি বলছেন, তার মিলে তেল নাই। তেলের এত চাহিদা। সজিব ভাবে,হয়ত কাচা মাল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই হয়ত উৎপাদন অনেকটা কমে গেছে।

সে আবার দোকানদারকে বলেন, ভাই কবে আসলে তেল পাব। এবার দোকানদার যা বলেন,তা শুনে তাজ্জব বনে যান, সজিব। দোকানদার বলেন, ভাই তেল কখন পাবেন, তার গ্যারান্টি দিতে পারব না। তেল উৎপাদন হওয়ার সাথে সাথে বিক্রয় হয়ে যাচ্ছে।

অনেকে আবার অগ্রীম টাকা দিয়ে রেখেছেন। তাদেরই সঠিক ভাবে সরবাহ করতে পারছিনা। আর নতুন করে তেলের অর্ডার নেয়াও বন্ধ করে দিয়েছি। আপনি যোগাযোগ রাখেন। তেল থাকলে,তখন দেয়া যাবে।

সজিব আরো ভাবনায় পড়ে যায়। সে ভাবতে থাকে এই সময়ে এত তেল কোথায় যাচ্ছে। সজিব আরো ৩ টি পাইকারি দোকানে খোজ নিয়েছে। তারাও একই কথা বলেছেন। ভাবনা আরো বেড়ে যায় সজিবের। সে এবার দোকানদারকে জিজ্ঞেস করেন,ভাই হঠাৎ করে আপনাদের এত বিক্রয় বেড়ে গেল কেন। কারা নিচ্ছে, আপনাদের এত তেল।

দোকানদারের জবাব শুনে এবার আরো তাজ্জব বনে যান, সজিব। দোকানদার বলেন,এখন রাজনীতিতে তেলের কদর বেড়ে গেছে। ছাত্র ,যুবক ও মুল দলের নেতা-কর্মিরা এখন মনকা মন তেল কিনে ব্যবহার করছেন। কেউ আবার তেল মজুদ করে রাখছেন হঠাৎ প্রয়োজনের কথা মনে রেখে।

সজিব দোকানদারকে জিজ্ঞেস করেন,ভাই ওনারা তেল দিয়ে কি করেন। রাজনীতি ছেড়ে ওনারা কি তেলের ব্যবসা ধরলেন না কি? এবার বিরক্ত হয় দোকানদার। বলেন ভাই আপনি যান তো। আজে বাজে প্রশ্ন করে, মাথা নষ্ট করিয়েন না তো। রাজনৈতিক নেতা-কর্মিরা করবে তেলের ব্যবসা। বোকা হাদা কোথাকার বলে, সজিব কে দোকান থেকে চলে যেতে বলেন।

সজিব এবার বোকা বনে যান। সে দোকানদারকে অনুযোগের সাথে জিজ্ঞেস করেন,ভাই আমি জানিনা বলে তো জি্জ্ঞেস করছি। দয়া করে বলুন না, ওনারা তেল দিয়ে কি করেন।

এবার দোকানদার আরও বিরক্ত হয়। এমন বোকা লোক সে কখনও দেখেনি। দোকাদার এবার বলেন,যানতো ভাই। তেল দিয়ে কি করে তা তামান্না মোড়ের বদিয়ার চাচাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। ওনি আপনাকে বলে দেবেন।

সজিব দোকানদারকে বলেন, ভাই আমি বদিয়ার চাচাকে তো চিনি না। আর কোথায় খুজব বদিয়ার চাচাকে। আমিতো ওনাকে চিনি না। আপনি বলুন না। তেল দিয়ে ওনারা কি করেন।

সজিবের বার বার প্রশ্নে এবার বিরক্ত হয় দোকানদার। এমন বোকা লোক ওই দোকানদার আগে দেখেনি। তাই দোকানদার এবার সজিবকে বলেন,আপনি জানেন নেতারা এত পিচ্ছিল কেন। সজিব বলেন,নাতো ভাই। দোকানদার আবার বলেন, আপনি জানেন নেতাদের খালি হাতে ধরা যায়না কেন। সজিব উত্তর দেন, না জানিনা তো। দোকানদার বলেন, এই সবই তেলের তেলেসমাতি।

নেতাদের শরিরে তেল থাকে। তাই নেতারা পিচ্ছিল হয়,নেতাদের ধরা যায় না। আর অনেকেই এই তেল কিনে নেতাদের উপহার দেন। আবার অনেকেই নেতাদের হাঁতে পাঁয়েসহ পুরো শরিরে ম্যাসেস করে দেন। তাইতো বাজার থেকে তেল হাওয়া।

দোকানদার আরও বলেন,এই তেল না দিলে নেতাদের কাছে প্রিয় হওয়া যায় না। পদ-পদবি জোটে না। যে যত বেশি তেল দেয়, সে তত বেশি প্রিয় হয়, কাছের মানুষ হয়। তেল না দিলে আপনার কোন কাজ-কর্ম হবেনা। সব কাজ আটকে থাকবে, বুঝলেন।

দোকানদার বলেন,আপনি শুনেন নাই,তেল দিলে বেশ,না দিলে আপনি শেষ। শহর ও গ্রামে কি কম নেতা আছে। তাদের কি তেল লাগেনা। তাছাড়া দেখেন নাই,ক’জন নেতা পাতলা। মোটামুটি সবাইতো মোটা।দোকানদার আরও বলেন, শহরের একজন মোটা নেতাকেই তো লাগে, মাসে টনকা টন তেল। আরো তো অনেক নেতা আছে। তাদের কি তেল লাগে না । আর আপনি আসছেন,তেল কিনতে।
যান তো,চলে যান।

দোকানদারের কথা শুনে হতবাক হয়ে যায় সজিব। সে মনে মনে ভাবে,দোকানদার ভাই তো সঠিক কথাই বলেছেন। আজ-কাল তো রাজনীতিতে তেল ছাড়া কোন কাজই হয়না। রাজনীতিতে ঢুকে গেছে তেল।এছাড়া আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায়ও এখন চলছে তেলের তেলেসমাতি। আর তাই তেলের এত কদর। আর এ কারনে অনেকে পাচ্ছেনা তেল। তেলের যে এভাবে কদর বেড়ে যাবে তা বুঝতে পারেনি সজিব। তাই সজিব তেল না পেয়ে, মলিন মন নিয়ে,বাড়িতে ফিরে আসেন। 

Related Posts
“স্বাধীনতার রুপকার”
"স্বাধীনতার রুপকার" -ফয়েজ আহমেদ।   বাংলাদেশ একদিন স্বাধীন ছিলনা। ছিল পরাধীন। নাম ছিল পুর্ব পাকিস্থান। ইংরেজ শাসনের অবসানের পর ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দু'টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। একটি ভারত ও অপরটি পাকিস্থান। পাকিস্থান ...
READ MORE
“পুর্বসুরী”
পুর্বসুরী"   ফয়েজ আহমেদ   পলাশীর প্রান্তর,একটি যুদ্ধ যুদ্ধ নয়,এক প্রহসন,চাতুরতা, মীর জাফরের প্রতারনা,লোভ দুশো বছর,পরাধীনতার গ্লানী।   ক্লাইভ চাল,বেঈমানী,স্বার্থপরতা নবাব সিরাজ,বাংলার স্বর্কীয়তা, স্বাধীনতার রক্তিম সুর্য, অস্তমিত স্বার্থক মীর জাফর, অভিপ্রায়।   যুদ্ধ হয়নি, খন্ড নাটক মঞ্চায়ন মোহন লাল,ঊর্মি চাদ কুপোকাত, সম্ভব হয়নি,বেঈমান সেনাপতি প্রতারনা,বাংলা শাসন হারায়।   পলাশী ...
READ MORE
“করোনা প্রস্হান”
"করোনা প্রস্হান" -ফয়েজ আহমেদ করোনা মহামারী,কাদছে বিশ্ব,কাদছে মানবতা ধ্বংশ অর্থনীতি,চলছে মানবতার আহাজারী, আক্রান্ত মানুষ মরছে যত্ত দেশ আর বিদেশে বিপন্ন সমাজ,খাদ্য সংকট,চলছে বিশ্ব জুড়ে।   বৈশ্বিক এমন মহামারী আগেও ছিল জানি এবার সে ধরছে চেপে, তামাম পৃথিবী লাশের মিছিল ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট গল্প “রহিমুদ্দিনের কৃতজ্ঞতা”
"রহিমুদ্দিনের কৃতজ্ঞতা"   ( করোনা কালের একটি ছোট গল্প )   -ফয়েজ আহমেদ।   রহিমুদ্দিনের চোঁখ দিয়ে নিরবে পানি ঝড়ছে। একটা বোবা কান্না তার বুক চিড়ে বেরিয়ে আসতে চায়। কিন্তু সে কাদতে পারছেনা। রাত ৩ টা ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “পল্টিবাজ”।
"পল্টিবাজ"।   -- ফয়েজ আহমেদ। জামাল সাহেব সভাপতি প্রার্থী। দলের কাউন্সিল চলছে। সভাপতি পদে আরও পাঁচ জন প্রার্থী আছেন।  সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত করার জন্য ১৬৭ জন কাউন্সিলর তালিকা প্রস্তত করা আছে। কেন্দ্রীয় ও ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা  “যুদ্ধ চাই”
যুদ্ধ চাই" -ফয়েজ আহমেদ যুদ্ধ চাই,ভৌগলিক রেখার নয় স্বাধীনতা চাই,সেই পতাকার নয়, সংগ্রাম চাই,রুখতে,অশুভ ব্যাধি আরেকটি যুদ্ধ চাই,করতে শুদ্ধির।   যুদ্ধ চাই আনতে,শুভ রাজনীতি অফিস-আদালত হবে,মুক্ত র্দূনীতি, সামাজিক স্তরে চাই,প্রকৃত সেবা যুদ্ধ চাই মোরা,সুশাসন প্রতিষ্ঠার।   যুদ্ধ চাই,আনতে মানবতার সুদিন গাইবে সবাই,মানবিক গান ...
READ MORE
ছোট গল্প “হাঁস বিড়ালে খাইছে”
"হাঁস বিড়ালে খাইছে" - ফয়েজ আহমেদ। (বর্তমান প্রেক্ষাপটের একটি ছোট গল্প) সেদিন ছিল সোমবার। ফকিরের হাট। সজিব হাটে গিয়ে হাস কিনবে। হাসের মাংস খুব প্রিয় সজিবের। বাজারের ব্যাগ নিয়ে মটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে হাটের ...
READ MORE
কবিতা “কর রহমত”
"কর রহমত"   -ফয়েজ আহমেদ।   বছর শেষে,এলো রোজা রহমত পর্বের,চলছে পালা, বাকী আর,একটা রোজা সময় আছে,ধরো রোজা।   আজকে হবে,দশটা রোজা রহমত পর্বের,শেষ রোজা, আয় তোরা, খাই সেহরী রহমত পেতে,রোজা রাখি।   বাকী রবে, বিশটা রোজা মাগফেরাত পর্ব,পরের দশটা, আল্লার দয়া, পেতে হলে মাগফেরাত রোজা,করতে হবে।   মাগফেরাত ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট “গল্প রেবেকার অজ্ঞামী”।
মায়ের শরীরটা ভাল নেই। অনেক ডাক্তার দেখানে হয়েছে। কিছুতেই সেরে উঠছেনা মায়ের শরীর। মায়ের শরীরের চিন্তায় ভাল নেই জিলানীর মন। সব সময় মায়ের সেরে ওঠা নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকে জিলানী। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “রোজা”
"রোজা" -ফয়েজ আহমেদ   নীল আকাশে উঠল ভেসে মহাখুশির চাঁদ,মুমিন সকল খাসদিলে,করবে রোজা কাল।   খাবে সেহরী,রাখবে রোজা এইতো সবার,মনের আশা পুর্ন হবে,সকল অভিলাশ।   নীল আকাশের,সোনালী চাঁদ সবার মাঝে,আনন্দ-উচ্ছ্বাস এলো খুশির,মাহে রমজান।   নীল আকাশের,বাঁকা চাঁদে সকল মুমিন,স্বপ্ন খোজে মাবুদ দিবে,এবার নিস্তার।   মাস ব্যাপি,রাখবে রোজা পড়বে নামায,করবে দোয়া সকল ...
READ MORE
“স্বাধীনতার রুপকার”
“পুর্বসুরী”
“করোনা প্রস্হান”
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট গল্প “রহিমুদ্দিনের কৃতজ্ঞতা”
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “পল্টিবাজ”।
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “যুদ্ধ চাই”
ছোট গল্প “হাঁস বিড়ালে খাইছে”
কবিতা “কর রহমত”
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট “গল্প রেবেকার অজ্ঞামী”।
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “রোজা”

Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।