আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :

ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “চুলকানী”।

“চুলকানী”।

 

-ফয়েজ আহমেদ।

 

দলের নিকট বারবার ধর্না দিয়েও নমিনেশন পেলেন না কামরুল সাহেব। মোটা অংকের টাকাও দিয়েছেন,তবুও গলাতে পারেননি মন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কোনভাবেই কামরুল সাহেবকে নমিনেশন আর দিলেন না। দীর্ঘ দিনের পরিক্ষীত,কর্মী বান্ধব কামরুল সাহেবকে সুযোগ না দিয়ে,তারা নমিনেশন দিলেন সদ্য দলে আসা একজন অত্যান্ত জনপ্রিয়,জননেতা আমির সাহেবকে।

কি আর করা,অগত্যা রাগ,ক্ষোভ ও অভিমানে দল ত্যাগ করলেন কামরুল সাহেব।যোগ দিলেন “সুবিধা বাদী জাগো দলে’। সুবিধা “বাদি জাগো দল” ক্ষমতাসীন দলের সাথে ঐক্য করার কারনে এবার “চেয়ার” পেলেন কামরুল সাহেব। পুরো পাঁচ বছর নিজের আরাম-আয়েশ,ইচ্ছা-অনিচ্ছা সব জয় করলেন। জনগনের কল্যানের চিন্তা,তার মাথায় এলোনা।
 তাছাড়া জনগনের কল্যান চিন্তা কামরুল সাহেব এর মাথায় আসার কথাও না। তিনি ঐক্য’র সুবিধায় “সুবিধা বাদি জাগো দল”র প্রতিনিধি হিসেবে “চেয়ার” পেয়েছেন। এ “চেয়ার”জনগন তাকে দেয়নি। তাই জনতার কাছে তার কোন দায়বদ্ধতা বা জবাব দিহিতাও ছিল না। তার শুধু একটাই দায়বদ্ধতা ছিল,নিজের কল্যান সাধনে কাজ করা। তিনি এই “নীতিতে” পুরো সফল একজন ব্যক্তি।
পাঁচ বছর পর আবার নির্বাচন দ্বোর গড়ায়।ক্ষমতাসীন দলের সাথে “সুবিধা বাদি জাগো দল’র” চুক্তি বহাল আছে। এবারও কামরুল সাহেব ক্ষমতসীন দলের ঐক্য সুবিধা নিয়ে “চেয়ার” ঠিক রাখবেন। টাকা যত লাগবে তিনি খরচ করবেন। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। এবার “সুবিধা বাদি জাগো দলে”র একজন বড় নেতা এই “চেয়ারের” জন্য তদ্বির করছেন। কামরুল সাহেব টাকা’র অংক বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু বিধি বাম। তিনি এবার আর সফল হলেন না। তার “চেয়ার” আর রক্ষা করা গেল না। তিনি এখন হয়ে গেলেন,নজরপুর ইউনিয়নের একজন “সাবেক চেয়ারম্যান”।
আবারো রাগ,ক্ষোভ আর অভিমান পেয়ে বসল কামরুল সাহেবকে। তাকে চেয়ার না দেয়ায় তিনি “সুবিধা বাদি জাগো দলের” চৌদ্দ গোষ্ঠি উদ্ধার করলেন। সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন, “জাগো পার্টি” থেকে। এখন তিনি মোটা-মুটি একা। বাড়ী আর নিজের ব্যবসা-বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাজনীতি থেকে এক প্রকার নিজেকে গুটিয়ে রাখলেন, কামরুল সাহেব।
এভাবে কামরুল সাহেব এর জীবন থেকে অতীত হল আরো পাঁচটি বছর। সমনে আবার এল নির্বাচন। মনটা আর কিছুতেই মানছে না। নির্বাচনী সুড়সুড়ি তার পুরো শরীরে “চুলকানী” ধরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কি করবেন,কামরুল সাহেব। নির্বাচন করলে,প্লাট ফরম লাগে। কিন্তু তার তো কোন প্লাট ফরম নেই। স্বতন্ত নির্বাচনে গেলে যে,বিশাল জনপ্রিয়তা প্রয়োজন,তাও তার নেই। তাহলে কিভাবে দাড়াবেন নির্বাচনে। এদিকে শরীরের “চুলকানী,”কিছুতেই থামাতে পারছেন না কামরুল সাহেব। ।
নির্বাচনী ঢামাঢোল বাজছে। প্রার্থীরা সব নির্বাচনী প্রস্তুুতি গ্রহনে ব্যস্ত। এমন সময় কামরুল সাহেব জানতে পারেন,তার পুর্বের দল “বাংলাদেশ গনপার্টিতে” প্রার্থী সংকট বিদ্যমান। ওই দলের “আমির সাহেব” রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছেন বহুদুর। আর তিনি রাজনীতিতে ফিরবেন না। খবরটা পেয়ে কামরুল সাহেব এর “চুলকানী”যেন আরো অনেক বেড়ে গেল। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করে,তিনি আবার ফিরলেন তার পুর্বের প্রিয় দল “বাংলাদেশ গনপার্টিতে”।
বাংলাদেশ “গনপার্টিতে” ফেরার খবরটা বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে,দেশের অনেক প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়া। কারন “সাবেক চেয়ারম্যান” বলে কথা।অর্থ-বিত্ত,প্রতিপত্তি কিসে কম,কামরুল সাহেব। তাছাড়া আবার “চেয়ার” পাচ্ছেন কামরুল সাহেব।  এটা মোটা-মুটি নিশ্চিত ধরে নিয়েছেন,অধিকাংশ মিডিয়া কর্মী। তাই, তার সুনজরে আসাও একটা অর্জন।
এদিকে “পার্টিতে” যোগ দিয়েও শান্তিতে নেই কামরুল সাহেব। “চুলকানী”টা কিছুটা কমলেও মনের মধ্যে এক অজানা ভয় তার কাজ করছে। শেষ পর্যন্ত দল তাকে মনোনয়ন প্রদান করবেন তো। তিনি আরও চিন্তা করছেন,নির্বাচনে জনগন তাকে কি ভাবে গ্রহন করবেন। এছাড়া নির্বাচনে খরচ হবে কাড়ি কাড়ি টাকা। জনগন ভালভাবে গ্রহন না করলে,তার টাকাসহ সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। কামরুল সাহেব এর  “চুলকানী”টা এবার মনে হয়, আরো বেড়ে যাচ্ছে।
কামরুল সাহেব সিদ্ধান্ত নেয়,টাকা কত যায় যাক। তবুও সে দলের দলীয় মনোনয়ন হাসিল করবেন। এরপর প্রয়োজনে টাকার বন্যা বইয়ে দিবেন। কিন্তু নির্বাচনে, তাকে জিততেই হবে। । তাছাড়া কামরুল সাহেব জানেন,টাকার নেশা মানুষের বড় নেশা। তিনি জনতাকে টাকার নেশায় নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বুদ করে রাখবেন। এবং তাদের ভোট নিয়ে,বিজয়ী হবেন। একথা ভাবতেই কামরুল সাহেব এর মনটা বেশ উৎফুল্ল্য হয়ে ওঠে। তার শরীরের সুড়সুড়ানী ও “চুলকানী” ভাবটা যেন, নিমিশেই হাওয়া হয়ে যায়।
Related Posts
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট গল্প”ঘৃণা”।
বিগত পাঁচ বছর পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন রেজা মাহমুদ। চাকুরী করেন বেসরকারী একটি ফার্মে । নিজ শহরে বৃদ্ধ বাবা-মা ও তিন ভাই আছেন। প্রতিবছর একবার নিজ শহরে আসেন রেজা। ...
READ MORE
“পক্ষ”
"পক্ষ" -ফয়েজ আহমেদ   ঘটনাস্হল খাতামধুপুর,রাজনীতি সৈয়দপুরে এমনভাবে চলতে থাকলে,ক্ষতি সবার হবে, দুইটা পক্ষ দুই দিকে,রাজনীতি করছে জানি স্বচ্ছ রাজনীতি চাই মোরা,নয় অপরাজনীতি।   দড়ি ধরে টানাটানি,করছে দুই প্রভাবশালী সত্য মিথ্যার চলছে লড়াই,জানি সবাই জানি, দোষী কিনা যাছাই করা,নয়তো কারো ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “ভালবাসি হয়নি বলা”।
"ভালবাসি হয়নি বলা" -ফয়েজ আহমেদ।   জবা তলায় বসে বাদাম খাচ্ছে রিপন।সে একাই বসে আছে।কিছুক্ষন আগে তার সহপাঠীরা চলে গেছে। আজ কলেজে আর কোন ক্লাস নেই। বাদাম খাওয়া শেষে রিপনও চলে যাবে। রিপনের ...
READ MORE
“করোনা জয়”
"করোনা জয়" -ফয়েজ আহমেদ   করোনা,ভয় নয়,দরকার সচেতনতা ধুলে হাত বারবার,ঘটবে না সর্বনাশ ভয় পেলে হবে না,থাকতে হবে ঘরে সামাজিক দুরত্ব মানব,ঘরের বাইরে এলে।   করোনা,ও কারো না,রাজাকেও ছাড়ে না। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কুপোকাত,নয় অজানা, আপনি-আমি কি,কাদছে ক্ষমতাধর ট্রাম্প বাচঁবে কি মানুষ,ঘুচবে ...
READ MORE
“বিদ্রোহী সত্তা”
                            "বিদ্রোহী সত্তা"                               ...
READ MORE
“ভাষা”
"ভাষা"   ফয়েজ আহমেদ   বাংলা মোদের,মায়ের ভাষা বাংলা মোদের,হৃদয় আশা, বাংলা ভাষায় বলি কথা বাংলায় দেখি,স্বপ্ন আশা।   বাংলা ছিল,মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে,চাইলো ওরা, মুখে মোদের,চাইলো দিতে বসায় ওদের,নিজের ভাষা।   গর্জে উঠল,আমার ভাইরা বাংলা রবে,মোদের ভাষা, মিছিল-মিটিং,করছে তারা মানবো নাতো,ওদের কথা।   চলছে এবার,মিছিল মিটিং সামাল দেয়া,হয়েছে কঠিন, ছাত্র-জনতা,বেধেছে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “দু’ফোটা জল”।
মাথা ভর্ত্তি একরাশ চিন্তা নিয়ে শহরের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয় রফিক। বাড়িতে কোন টাকা নেই। বাজার যা আছে দু'এক দিনে শেষ হয়ে যাবে। এদিকে এখন তার পকেটে আছে মাত্র পঞ্চাস টাকা। ...
READ MORE
ছোট গল্প “কুলাঙ্গার”।
"কুলাঙ্গার"     -ফয়েজ আহমেদ।   বাঁচ্চাটা কাঁদছে। খেতে চাচ্ছে। একটু মুড়ি ছিল তা এগিয়ে দেয় জরিনা। বাঁচ্চাটা মুড়ি খাবেনা। মুড়ির বাটি হাত দিয়ে সরিয়ে দেয়। বলে মুড়ি খাব না। সে মায়ের কাছে ভাত চায়। ...
READ MORE
ছোট গল্প “নিষ্ঠুর করোনা”
"নিষ্ঠুর করোনা"   ফয়েজ আহমেদ।   দু'চোঁখ দিয়ে নিরবে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। কিছুতেই থামাতে পারছেন না জোসনা বেগম। তার বুক চিড়ে বোবা কান্না বেড়িয়ে আসছে। ইচ্ছা করছে চিৎকার করে কান্না করতে। তাও পারছেন না। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প”কদর হুজুরের কান্ড”।
শুধু গ্রামে নয়,আশে পাশের আরো দশ গ্রামে আবিরের নাম প্রচার হয়ে গেছে। দশ গ্রামের লোক আজ আবিরকে আলাদা চোঁখে দেখছেন। তাকে সমীহ করছেন,ভালবেসে আবির ভাই বলে সম্বোধন করছেন। আবির আজ ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট গল্প”ঘৃণা”।
“পক্ষ”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “ভালবাসি হয়নি বলা”।
“করোনা জয়”
“বিদ্রোহী সত্তা”
“ভাষা”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “দু’ফোটা জল”।
ছোট গল্প “কুলাঙ্গার”।
ছোট গল্প “নিষ্ঠুর করোনা”
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প”কদর হুজুরের কান্ড”।
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।