আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :
«» শেখ কামাল ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী অনন্য সংগঠক। «» আ’লীগ থেকে বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রেফতার। «» সৈয়দপুরে আ’লীগ সভাপতি মোখছেদুল মোমিনের ফ্রি অক্সিজেন সেবা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। «» সৈয়দপুরে দন্ডের টাকা পরিশোধ না করে পুলিশ কর্মকতাকে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের। «» সৈয়দপুরে পুলিশ কর্মকতাকে পেটালেন ভূমি দস্যুর ছেলে বখাটে আতিফ। «» ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও ভ্যান বন্ধের সিন্ধান্ত-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। । «» দেশে কোন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার থাকবেনা-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। «» প্রবীন রাজনীতিক শমসের আলী বসুনিয়া আর নেই। «» সৈয়দপুরে চোরাই মটরসাইকেল উদ্ধার,২ জন আটক। «» সৈয়দপুর ফাইলেরিয়া হাসপাতাল পরিচালনায় কমিটি গঠন ও সংবাদ সম্মেলন।

ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”অমানবিক মানুষ”।

শ্বাস নিতে পারছেন না আছমা বেগম। খুব কষ্ট হচ্ছে তার। মনে হচ্ছে এক্ষনেই মারা যাবেন। কয়েক দিন থেকেই তার শরীরে জ্বর চলছে।  গতকাল জ্বরটা বেশী ছিল। পাড়ার মোড় থেকে নাপা ট্যাবলেট এনে দিয়েছিল ছেলে তহিদুল।নাপা খেয়ে জ্বর কমেনি আছমা বেগমের। আজ জ্বরটা অনেক বেড়ে গেছে। সাথে প্রচন্ড শ্বাস কষ্ট। কষ্টে কাতরাচ্ছেন আছমা বেগম। ছেলেটা বাড়িতে নেই। কাজে গেছেন। আছমা বেগমের মনে হয়, ছেলেটার সাথে আর বুঝি, দেখা হবে না। প্রচন্ড জ্বর আর শ্বাস কষ্টে কাহিল হয়ে পরেছেন আছমা বেগম।

 

গত তিন বছর আগে গত হয়েছেন আছমা বেগমের স্বামী জাহিদ হোসেন। এক বিঘে জমি আছে তার। বাড়িতে আছে দু’টো গাভী। জমি এক বিঘা কনটাক দিয়েছেন আছমা বেগম। জমি থেকে পান বছরে বারো মণ ধান। গাভীর দুধ আর ওই ধান দিয়ে চলে সংসার। একমাত্র তহিদুল ছাড়া আর কোন ছেলে পুলে নাই আছমা বেগমের। অনেকটা কষ্ট করে সংসারটা ধরে আছেন আছমা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলেটার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। গরু দু’টোর খাবার জোগারের কাজ করত ছেলেটা।
তহিদুল এখন যোগানীর কাজ করেন। পাশের বাড়ীর রাজমিস্ত্রী লতিফের সাথে। লতিফ আছমা বেগমের কষ্ট দেখে তহিদুলকে কাজে নিয়েছেন। দৈনিক তিন’শো টাকা দেন। এখন মোটা-মুটি চলে আছমা বেগমের সংসার। ছেলেটাকে কাজে যেতে দিতে চায়নি আছমা বেগম। বাঁচ্চা ছেলে। ক’বছরই বা বয়স। বড় জোর বারো কি তেরো।  এই বয়সের বাচ্চারা খেলাধুলায় মত্ত থাকে। বেড়ায় ছোটা-ছোটি করে। কিন্তু তার ছেলেটা এই বয়সে কাধে নিয়েছে,সংসারের হাল। আছমা বেগম ছেলেটার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকেন । মৃত্যুর পর কে দেখবে, বাপ মরা ছেলেটাকে ?
আছমা বেগেমের শ্বাস কষ্টটা আরো বাড়তে থাকে। ছটপট করতে থাকেন আছমা বেগম।মনে হয়, এই বুঝি তিনি মারা যাবেন। আছমা বেগমের কষ্টটা আরও বাড়তে থাকে। তিনি আর কথা বলতে পারছেন না। এমন সময় কাজ থেকে ফিরে আসেন তহিদুল। দেখেন মায়ের অন্তিম অবস্থা। তহিদুল মা মা করে ডাকতে থাকেন। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু আছমা বেগম কোন কথা বলতে পারেন না। শুধু ছটপট কতে থাকেন। মায়ের এমন অবস্থায় কাঁদতে থাকে তহিদুল।
তহিদুলের কান্নার শব্দে প্রতিবেশী অনেকে আসেন তহিদুলের ঘরে। দেখেন আছমা বেগম শ্বাস নিতে পারছেন না। তহিদুলকে বলেন,কি হয়েছে ? তহিদুল জানান’ক’দিন থেকে মায়ের জ্বর। আজ শ্বাস নিতে পারছেন না। উপস্থিত সবাই বলেন,তোমার মায়ের “করনা” হয়েছে। তুমি এখনই হসপিটালে নিয়ে যাও। তোমার মাকে অক্সিজেন দিতে হবে। তহিদুল মাকে হসপিটালে নিতে প্রতিবেশীদের সাহায্য চান। কিন্তু কেউ সাহায্য করতে রাজী নন। তহিদুল ভেবে পায়না, প্রতিবেশীরা তাকে সাহায্য করছেন না কেন ?
তহিদুল একটি রিকসা ভ্যান ডাকেন । কিন্তু চালক, তহিদুলের মাকে দেখে চলে যান। এমন রোগীকে ভ্যানে তুলবেন না কেউ। এ দিকে মায়ের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। তহিদুল সকলের নিকট অনুরোধ জানান,চান সাহায্য । কিন্তু কেউ তহিদুলকে সাহায্য করতে রাজী হন না। উল্টো সবাই তহিদুলের ঘর থেকে সটকে পরেন। এখন তহিদুল একা। মায়ের চোঁখ দিয়ে অঝোড়ে ঝড়ছে অশ্রু। ছটপট করছেন। তহিদুল আর সহ্য করতে পারে না। সে মাকে দু’হাত দিয়ে তুলে নেন পিঠে। রওয়ানা হন হসপিটালের দিকে।
প্রচন্ড জ্বর আর শ্বাষ কষ্টে কাতর আছমা বেগম সব দেখেছেন ও শুনেছেন। কষ্টে তার বুক ছিড়ে যেতে থাকে। ছেলের পিঠে চেপে যাওয়ার সময় আছমা বেগম ভাবেন,মানুষ এমন হয় ? কি এমন অসুখ তার ? স্পর্ষ করা যাবে না। জ্বর ও শ্বাস কষ্টের চেয়ে প্রতিবেশীদের নিষ্ঠুর, অমানবিক আচরনে মর্মাহত হন আছমা বেগম। ছেলের পিঠে চেপে স্বস্থি পান আছমা বেগম। মনে হয় কষ্টতা অনেক লাঘব হয়েছে । এদিকে মাকে পিঠে নিয়ে হসপিটালের দিকে ছুটছেন তহিদুল। রাস্তায় দেখা হয়, আরো অনেক চালকের । কিন্তু কেউ সাহায্য করেনি তহিদুলকে।
মেইন রাস্তার মোড় দিয়ে ছুটছেন তহিদুল। মায়ের ওজন আর বইতে পারছে না। খুব কষ্ট হচ্ছে তার ।  তবুও ছুটছেন তহিদুল। এমন সময় একটি পুলিশ ভ্যান পাশ্ব দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পান তহিদুলকে। পিঠে অসুস্থ্য মহিলা দেখে থামান গাড়ি । জানতে চান ঘটনা।সব খুলে বলেন তহিদুল। সব জেনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য পাজাকোল করে তহিদুলের মাকে গাড়িতে তোলেন। এর পর গাড়ি ঘুরিয়ে দ্রুত রওয়ানা হন হসপিটালের দিকে।
তহিদুলের মা আছমা বেগমকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। দেয়া হয়েছে অক্সিজেন। পুলিশ তহিদুলের মায়ের চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করেছেন। তারা তহিদুলকে আরো বলেছেন,মায়ের চিকিৎসার সব খরচ তারা দিবেন। এসময় তহিদুলকে একজন নার্স বলেন,অক্সিজেন দেয়ার পর শ্বাস কষ্ট অনেকটা কমেছে আছমা বেগমের। এখন ভাল আছেন, আছমা বেগম। ওই নার্স আরো বলেন,আপনি বাড়িতে যান,সকালে এসে  খবর নিবেন। তহিদুল মায়ের শ্বাস কষ্ট কমার খবরে স্বস্থি পান। এবং বাড়ির দিকে রওয়ানা দেন।
তহিদুলের মনটা অস্থির হয়ে আছে। সে বাড়িতে এসে কিছুতেই ঘুমাতে পারে না। শুধু ছটপট করতে থাকে। তার একটা হিসেব কিছুতে মিলে না। সে শুধু ভাবে,প্রতিবেশীরা এমন আচরন করল কেন ? তারা মাকে হসপিটালে নিতে সহযোগীতা করল না কেন ? তারা মাকে দেখে সটকে পরল কেন ? প্রতিবেশীরা বিপদে-আপদে পাশে থাকবে। করবে সহযোগীতা। এটাই তো নিয়ম। কিন্তু এরা কেমন প্রতিবেশী ? এমন অমানবিক মানুষদের ঘৃণা করেন তহিদুল।
কই পুলিশ সদস্যরা এমন তো করেননি। তারা ঠিকই মাকে কোলে তুলে নিয়েছেন। এর পর পৌছে দিয়েছেন, হসপিটালে। অথচ তহিদুল তাদের ডাকেননি। চাননি তাদের সহযোগীতা। তাছাড়া চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন তারা। তাহলে কি পুলিশ মানুষ নয় ! নাকি প্রতিবেশীরা মানুষ নয় ! ভাবতে পারেনা তহিদুল। তার শুধু মনে হয়,এই পুলিশদের ঋণ সে কোন দিন শোধ করতে পারবে না। তহিদুল মন থেকে ওই পুলিশদের স্যালুট জানান।
তহিদুলের মা এখন অনেকটা সুস্থ্য। তার সাধারন জ্বর হয়েছিল। এলার্জির সমস্যা থাকায় শ্বাষ কষ্ট হয়েছিল মায়ের। সময় মতো হসপিটালে আনায় বেঁচে গেছেন তহিদুলের মা আছমা বেগম । আরেকটু দেরী হলে বাঁচানো যেত না। ডাক্তার আরো বলেছেন,দু’এক দিনের মধ্যে সম্পুর্ন সুস্থ্য হয়ে উঠবেন আছমা বেগম। তহিদুল মাকে নিয়ে যেতে পারবেন বাড়ি। ডাক্তারের কথা শুনে চিন্তা মুক্ত হন তহিদুল। মনে মনে কৃতজ্ঞতা জানান, ওই মানবিক পুলিশদের। আল্লাহর নিকট দোয়া করেন,পুলিশ সদস্যরা যেন ভাল থাকেন।
Related Posts
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “দু’ফোটা জল”।
মাথা ভর্ত্তি একরাশ চিন্তা নিয়ে শহরের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয় রফিক। বাড়িতে কোন টাকা নেই। বাজার যা আছে দু'এক দিনে শেষ হয়ে যাবে। এদিকে এখন তার পকেটে আছে মাত্র পঞ্চাস টাকা। ...
READ MORE
“করোনা জয়”
"করোনা জয়" -ফয়েজ আহমেদ   করোনা,ভয় নয়,দরকার সচেতনতা ধুলে হাত বারবার,ঘটবে না সর্বনাশ ভয় পেলে হবে না,থাকতে হবে ঘরে সামাজিক দুরত্ব মানব,ঘরের বাইরে এলে।   করোনা,ও কারো না,রাজাকেও ছাড়ে না। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কুপোকাত,নয় অজানা, আপনি-আমি কি,কাদছে ক্ষমতাধর ট্রাম্প বাচঁবে কি মানুষ,ঘুচবে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ধোকা”।
মাস্টার্স পাশ করেও কোন চাকুরী জোগাড় করতে পারেনি তৈমুর। রাত-দিন অনেক দালালের পিছনে ঘুরেছেন। একটা চাকুরীর প্রত্যাশায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মধ্যখানে তার গাটের টাকা গেছে জলে। সর্বশেষ এক ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”জীবন নিয়ে জুয়া”।
অনেক আশা করে সরকারী চাকুরীজীবি কনে বিয়ে করেছেন তোফা। মনে তার একটাই শ্বান্তনা,এবার সংসারটা হবে। সরকারী চাকুরীজীবি বউ। অন্তত লোভ থাকবেনা। তছরুপ করবে না টাকা-পয়সা । ভাঙ্গবে না সংসার। কখনও যাবেনা ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “রোজা”
"রোজা" -ফয়েজ আহমেদ   নীল আকাশে উঠল ভেসে মহাখুশির চাঁদ,মুমিন সকল খাসদিলে,করবে রোজা কাল।   খাবে সেহরী,রাখবে রোজা এইতো সবার,মনের আশা পুর্ন হবে,সকল অভিলাশ।   নীল আকাশের,সোনালী চাঁদ সবার মাঝে,আনন্দ-উচ্ছ্বাস এলো খুশির,মাহে রমজান।   নীল আকাশের,বাঁকা চাঁদে সকল মুমিন,স্বপ্ন খোজে মাবুদ দিবে,এবার নিস্তার।   মাস ব্যাপি,রাখবে রোজা পড়বে নামায,করবে দোয়া সকল ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ঈদ কালেকশন”।
অফিসে ঢোকার সাথেই সোহাগের হাতে এক'শো জনের নামের তালিকা ধরিয়ে দেন সভাপতি বীর বাহাদুর। বলেন,আগামী বুধবার থেকে কালেকশন শুরু করতে হবে। ঈদের বেশী দেরী নেই। আর বিলম্ব করা যাবেনা। সভাপতি ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প”কদর হুজুরের কান্ড”।
শুধু গ্রামে নয়,আশে পাশের আরো দশ গ্রামে আবিরের নাম প্রচার হয়ে গেছে। দশ গ্রামের লোক আজ আবিরকে আলাদা চোঁখে দেখছেন। তাকে সমীহ করছেন,ভালবেসে আবির ভাই বলে সম্বোধন করছেন। আবির আজ ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “ভীটে পেল নন্দ”।
ভীটে মাটি নেই নন্দ লালের। অন্য মানুষের পুকুর পাড়ের এক কোনে ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করেন নন্দ। স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে গাদাগাদি করে অস্থাস্থ্যকর এক জীবন পার করছে সে। গত ...
READ MORE
ছোট গল্প “মেয়েটাকে ভাল রেখ”
"মেয়টাকে ভাল রেখ"   -ফয়েজ আহমেদ।   রাত দু'টো বাজে। হাইওয়ে ডিউটি চলছে। হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠল। এত রাতে কে ফোন করছে। আরিফ পকেট থেকে ফোনটা বের করে। বাড়ী থেকে ফোন। স্ত্রী মাজেদা করেছে।এত রাতে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প””তিরস্কার”।
বৃদ্ধা শ্বাশুড়ী আর ছয় মাসের শিশু পুত্র নিয়ে খুব খাদ্য সংকটে আছে রহিমা বেওয়া। বাঁচ্চাটা শরীরে আসার তিনমাস পর মারা যায় রহিমার স্বামী কুবের আলী। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বাশুড়ী পোনা মাই ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “দু’ফোটা জল”।
“করোনা জয়”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ধোকা”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”জীবন নিয়ে জুয়া”।
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “রোজা”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ঈদ কালেকশন”।
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প”কদর হুজুরের কান্ড”।
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “ভীটে পেল নন্দ”।
ছোট গল্প “মেয়েটাকে ভাল রেখ”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প””তিরস্কার”।
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।