আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :

ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”অমানবিক মানুষ”।

শ্বাস নিতে পারছেন না আছমা বেগম। খুব কষ্ট হচ্ছে তার। মনে হচ্ছে এক্ষনেই মারা যাবেন। কয়েক দিন থেকেই তার শরীরে জ্বর চলছে।  গতকাল জ্বরটা বেশী ছিল। পাড়ার মোড় থেকে নাপা ট্যাবলেট এনে দিয়েছিল ছেলে তহিদুল।নাপা খেয়ে জ্বর কমেনি আছমা বেগমের। আজ জ্বরটা অনেক বেড়ে গেছে। সাথে প্রচন্ড শ্বাস কষ্ট। কষ্টে কাতরাচ্ছেন আছমা বেগম। ছেলেটা বাড়িতে নেই। কাজে গেছেন। আছমা বেগমের মনে হয়, ছেলেটার সাথে আর বুঝি, দেখা হবে না। প্রচন্ড জ্বর আর শ্বাস কষ্টে কাহিল হয়ে পরেছেন আছমা বেগম।

 

গত তিন বছর আগে গত হয়েছেন আছমা বেগমের স্বামী জাহিদ হোসেন। এক বিঘে জমি আছে তার। বাড়িতে আছে দু’টো গাভী। জমি এক বিঘা কনটাক দিয়েছেন আছমা বেগম। জমি থেকে পান বছরে বারো মণ ধান। গাভীর দুধ আর ওই ধান দিয়ে চলে সংসার। একমাত্র তহিদুল ছাড়া আর কোন ছেলে পুলে নাই আছমা বেগমের। অনেকটা কষ্ট করে সংসারটা ধরে আছেন আছমা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলেটার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। গরু দু’টোর খাবার জোগারের কাজ করত ছেলেটা।
তহিদুল এখন যোগানীর কাজ করেন। পাশের বাড়ীর রাজমিস্ত্রী লতিফের সাথে। লতিফ আছমা বেগমের কষ্ট দেখে তহিদুলকে কাজে নিয়েছেন। দৈনিক তিন’শো টাকা দেন। এখন মোটা-মুটি চলে আছমা বেগমের সংসার। ছেলেটাকে কাজে যেতে দিতে চায়নি আছমা বেগম। বাঁচ্চা ছেলে। ক’বছরই বা বয়স। বড় জোর বারো কি তেরো।  এই বয়সের বাচ্চারা খেলাধুলায় মত্ত থাকে। বেড়ায় ছোটা-ছোটি করে। কিন্তু তার ছেলেটা এই বয়সে কাধে নিয়েছে,সংসারের হাল। আছমা বেগম ছেলেটার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকেন । মৃত্যুর পর কে দেখবে, বাপ মরা ছেলেটাকে ?
আছমা বেগেমের শ্বাস কষ্টটা আরো বাড়তে থাকে। ছটপট করতে থাকেন আছমা বেগম।মনে হয়, এই বুঝি তিনি মারা যাবেন। আছমা বেগমের কষ্টটা আরও বাড়তে থাকে। তিনি আর কথা বলতে পারছেন না। এমন সময় কাজ থেকে ফিরে আসেন তহিদুল। দেখেন মায়ের অন্তিম অবস্থা। তহিদুল মা মা করে ডাকতে থাকেন। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করেন। কিন্তু আছমা বেগম কোন কথা বলতে পারেন না। শুধু ছটপট কতে থাকেন। মায়ের এমন অবস্থায় কাঁদতে থাকে তহিদুল।
তহিদুলের কান্নার শব্দে প্রতিবেশী অনেকে আসেন তহিদুলের ঘরে। দেখেন আছমা বেগম শ্বাস নিতে পারছেন না। তহিদুলকে বলেন,কি হয়েছে ? তহিদুল জানান’ক’দিন থেকে মায়ের জ্বর। আজ শ্বাস নিতে পারছেন না। উপস্থিত সবাই বলেন,তোমার মায়ের “করনা” হয়েছে। তুমি এখনই হসপিটালে নিয়ে যাও। তোমার মাকে অক্সিজেন দিতে হবে। তহিদুল মাকে হসপিটালে নিতে প্রতিবেশীদের সাহায্য চান। কিন্তু কেউ সাহায্য করতে রাজী নন। তহিদুল ভেবে পায়না, প্রতিবেশীরা তাকে সাহায্য করছেন না কেন ?
তহিদুল একটি রিকসা ভ্যান ডাকেন । কিন্তু চালক, তহিদুলের মাকে দেখে চলে যান। এমন রোগীকে ভ্যানে তুলবেন না কেউ। এ দিকে মায়ের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। তহিদুল সকলের নিকট অনুরোধ জানান,চান সাহায্য । কিন্তু কেউ তহিদুলকে সাহায্য করতে রাজী হন না। উল্টো সবাই তহিদুলের ঘর থেকে সটকে পরেন। এখন তহিদুল একা। মায়ের চোঁখ দিয়ে অঝোড়ে ঝড়ছে অশ্রু। ছটপট করছেন। তহিদুল আর সহ্য করতে পারে না। সে মাকে দু’হাত দিয়ে তুলে নেন পিঠে। রওয়ানা হন হসপিটালের দিকে।
প্রচন্ড জ্বর আর শ্বাষ কষ্টে কাতর আছমা বেগম সব দেখেছেন ও শুনেছেন। কষ্টে তার বুক ছিড়ে যেতে থাকে। ছেলের পিঠে চেপে যাওয়ার সময় আছমা বেগম ভাবেন,মানুষ এমন হয় ? কি এমন অসুখ তার ? স্পর্ষ করা যাবে না। জ্বর ও শ্বাস কষ্টের চেয়ে প্রতিবেশীদের নিষ্ঠুর, অমানবিক আচরনে মর্মাহত হন আছমা বেগম। ছেলের পিঠে চেপে স্বস্থি পান আছমা বেগম। মনে হয় কষ্টতা অনেক লাঘব হয়েছে । এদিকে মাকে পিঠে নিয়ে হসপিটালের দিকে ছুটছেন তহিদুল। রাস্তায় দেখা হয়, আরো অনেক চালকের । কিন্তু কেউ সাহায্য করেনি তহিদুলকে।
মেইন রাস্তার মোড় দিয়ে ছুটছেন তহিদুল। মায়ের ওজন আর বইতে পারছে না। খুব কষ্ট হচ্ছে তার ।  তবুও ছুটছেন তহিদুল। এমন সময় একটি পুলিশ ভ্যান পাশ্ব দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পান তহিদুলকে। পিঠে অসুস্থ্য মহিলা দেখে থামান গাড়ি । জানতে চান ঘটনা।সব খুলে বলেন তহিদুল। সব জেনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য পাজাকোল করে তহিদুলের মাকে গাড়িতে তোলেন। এর পর গাড়ি ঘুরিয়ে দ্রুত রওয়ানা হন হসপিটালের দিকে।
তহিদুলের মা আছমা বেগমকে হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। দেয়া হয়েছে অক্সিজেন। পুলিশ তহিদুলের মায়ের চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করেছেন। তারা তহিদুলকে আরো বলেছেন,মায়ের চিকিৎসার সব খরচ তারা দিবেন। এসময় তহিদুলকে একজন নার্স বলেন,অক্সিজেন দেয়ার পর শ্বাস কষ্ট অনেকটা কমেছে আছমা বেগমের। এখন ভাল আছেন, আছমা বেগম। ওই নার্স আরো বলেন,আপনি বাড়িতে যান,সকালে এসে  খবর নিবেন। তহিদুল মায়ের শ্বাস কষ্ট কমার খবরে স্বস্থি পান। এবং বাড়ির দিকে রওয়ানা দেন।
তহিদুলের মনটা অস্থির হয়ে আছে। সে বাড়িতে এসে কিছুতেই ঘুমাতে পারে না। শুধু ছটপট করতে থাকে। তার একটা হিসেব কিছুতে মিলে না। সে শুধু ভাবে,প্রতিবেশীরা এমন আচরন করল কেন ? তারা মাকে হসপিটালে নিতে সহযোগীতা করল না কেন ? তারা মাকে দেখে সটকে পরল কেন ? প্রতিবেশীরা বিপদে-আপদে পাশে থাকবে। করবে সহযোগীতা। এটাই তো নিয়ম। কিন্তু এরা কেমন প্রতিবেশী ? এমন অমানবিক মানুষদের ঘৃণা করেন তহিদুল।
কই পুলিশ সদস্যরা এমন তো করেননি। তারা ঠিকই মাকে কোলে তুলে নিয়েছেন। এর পর পৌছে দিয়েছেন, হসপিটালে। অথচ তহিদুল তাদের ডাকেননি। চাননি তাদের সহযোগীতা। তাছাড়া চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন তারা। তাহলে কি পুলিশ মানুষ নয় ! নাকি প্রতিবেশীরা মানুষ নয় ! ভাবতে পারেনা তহিদুল। তার শুধু মনে হয়,এই পুলিশদের ঋণ সে কোন দিন শোধ করতে পারবে না। তহিদুল মন থেকে ওই পুলিশদের স্যালুট জানান।
তহিদুলের মা এখন অনেকটা সুস্থ্য। তার সাধারন জ্বর হয়েছিল। এলার্জির সমস্যা থাকায় শ্বাষ কষ্ট হয়েছিল মায়ের। সময় মতো হসপিটালে আনায় বেঁচে গেছেন তহিদুলের মা আছমা বেগম । আরেকটু দেরী হলে বাঁচানো যেত না। ডাক্তার আরো বলেছেন,দু’এক দিনের মধ্যে সম্পুর্ন সুস্থ্য হয়ে উঠবেন আছমা বেগম। তহিদুল মাকে নিয়ে যেতে পারবেন বাড়ি। ডাক্তারের কথা শুনে চিন্তা মুক্ত হন তহিদুল। মনে মনে কৃতজ্ঞতা জানান, ওই মানবিক পুলিশদের। আল্লাহর নিকট দোয়া করেন,পুলিশ সদস্যরা যেন ভাল থাকেন।
Related Posts
“করোনা ভাইরাস”
"করোনা" -ফয়েজ আহমেদ   করোনা,তুমিতো ভালা না দুরত্ব এনেছ সমাজ পরিবারে মায়ের সন্তান নিয়েছ কেড়ে স্ত্রী করেছ পর স্বামীর কাছে পিতাও অসহায় তোমার দ্বায়ে।   করোনা,তুমিতো ভালা না বিশ্ব কাবু,এও তোমার যাদু বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙ্গেছ তুমি বিশ্ব নেতাদের করেছ কাবু তুমি কি যাবে ...
READ MORE
“বিদ্রোহী সত্তা”
                            "বিদ্রোহী সত্তা"                               ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “দু’ফোটা জল”।
মাথা ভর্ত্তি একরাশ চিন্তা নিয়ে শহরের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয় রফিক। বাড়িতে কোন টাকা নেই। বাজার যা আছে দু'এক দিনে শেষ হয়ে যাবে। এদিকে এখন তার পকেটে আছে মাত্র পঞ্চাস টাকা। ...
READ MORE
কবিতা “কর রহমত”
"কর রহমত"   -ফয়েজ আহমেদ।   বছর শেষে,এলো রোজা রহমত পর্বের,চলছে পালা, বাকী আর,একটা রোজা সময় আছে,ধরো রোজা।   আজকে হবে,দশটা রোজা রহমত পর্বের,শেষ রোজা, আয় তোরা, খাই সেহরী রহমত পেতে,রোজা রাখি।   বাকী রবে, বিশটা রোজা মাগফেরাত পর্ব,পরের দশটা, আল্লার দয়া, পেতে হলে মাগফেরাত রোজা,করতে হবে।   মাগফেরাত ...
READ MORE
“জাগ্রত স্বপ্ন”
"জাগ্রত স্বপ্ন" -ফয়েজ আহমেদ   তোমার স্মৃতি উকি দেয়, হৃদয় আয়নায় ভোলা যায় না,মনের গহীনে চাপা কষ্ট, যতবার চেষ্টা করি,ভুলব তোমার স্মৃতি জাগ্রত স্বপ্নে,সামনে এসে দাড়াও তুমি।   তোমার স্মৃতিগুলো কষ্ট দেয়,অবিরত সুখ-স্মৃতির দিনগুলো,আজ বেদনাময়, কষ্টের কঠিন আঘাত,জর্জরিত হাহাকার স্মৃতির বেড়াজালে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ঈদ কালেকশন”।
অফিসে ঢোকার সাথেই সোহাগের হাতে এক'শো জনের নামের তালিকা ধরিয়ে দেন সভাপতি বীর বাহাদুর। বলেন,আগামী বুধবার থেকে কালেকশন শুরু করতে হবে। ঈদের বেশী দেরী নেই। আর বিলম্ব করা যাবেনা। সভাপতি ...
READ MORE
কবিতা “বঙ্গবন্ধু” জাতির চেতনার নাম
"বঙ্গবন্ধু" জাতির চেতনার নাম   -ফয়েজ আহমেদ   বঙ্গবন্ধু,চেতনার নাম,জাগ্রত অনুভুতি বাংলার ইতিহাস,লাল সবুজের বেষ্টনি, মুক্তির মহানায়ক,জনতার হৃদয় মনি আর্দশিক মানব,জাতির আলোক রশ্মি।   বঙ্গবন্ধু, রুপকার এই বাংলা পতাকার স্বাধীনতার স্হপতি,বিজয় মালা গাথার, শোষন-বঞ্চনা, রুখতে মানব মেশিন গণআস্হা তুমি,শোষিত জাতির মহাবীর।   বঙ্গবন্ধু, পরাধীনতার ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “আজব স্বপ্ন”।
"আজব স্বপ্ন"   -ফয়েজ আহমেদ।   গ্রামের নাম কাজলীয়া। সবুজ ঘেরা সুন্দর একটি গ্রাম। যতদুর চোঁখ যায়,শুধু প্রকৃতিক সবুজ লীলা ভূমি। গ্রমের লোকজন অত্যান্ত শান্তি প্রিয়। তারা সকলে ওই গ্রামে মিলে মিশে বসবাস করেন। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ছকিনার স্বপ্ন ভঙ্গ”।
গ্রামে গঞ্জে ভিক্ষা করেন ছকিনা বেওয়া। বয়স তার ষাট পেরিয়েছে অনেক আগেই। স্বামীও মারা যাওয়ার প্রায় পনের বছর। হয়নি কোন বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা।দুই ছেলের সংসারে বউদের নাকানি-চুবানি খেয়েও ভালই ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট গল্প”ঘৃণা”।
বিগত পাঁচ বছর পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন রেজা মাহমুদ। চাকুরী করেন বেসরকারী একটি ফার্মে । নিজ শহরে বৃদ্ধ বাবা-মা ও তিন ভাই আছেন। প্রতিবছর একবার নিজ শহরে আসেন রেজা। ...
READ MORE
“করোনা ভাইরাস”
“বিদ্রোহী সত্তা”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “দু’ফোটা জল”।
কবিতা “কর রহমত”
“জাগ্রত স্বপ্ন”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ঈদ কালেকশন”।
কবিতা “বঙ্গবন্ধু” জাতির চেতনার নাম
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “আজব স্বপ্ন”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ছকিনার স্বপ্ন ভঙ্গ”।
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট গল্প”ঘৃণা”।
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।