আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :

ফয়েজ আহমেদ’র গল্প””তিরস্কার”।

বৃদ্ধা শ্বাশুড়ী আর ছয় মাসের শিশু পুত্র নিয়ে খুব খাদ্য সংকটে আছে রহিমা বেওয়া। বাঁচ্চাটা শরীরে আসার তিনমাস পর মারা যায় রহিমার স্বামী কুবের আলী। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বাশুড়ী পোনা মাই ও রহিমা বেওয়া জীবিকার তাগিদে মানুষের বাড়িতে কাজ করা শুরু করেন। থাকেন স্বামীর ভিটেতে একটা ঝুপড়ি ঘরে। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেকে নিকাহ্ করতে বলেছিল রহিমাকে। গর্ভের সন্তান আর বৃদ্ধা শ্বাশুড়ীর কথা চিন্তা করে নিকাতে বসে নাই রহিমা বেওয়া।

 

রহিমা’র শ্বাশুড়ীর বয়স হয়েছে। চলা-ফেরা করতে পারেন না। এখন রহিমার আয়েই চলে সংসার। এদিকে দেশে হানা দিয়েছে, মহামারী করোনা ভাইরাস। করোনা প্রার্দূভাব ঠেকাতে সরকার ঘোষনা করেছেন লকডাউন। করোনা আসায় কর্মহীন হয়ে পরেছেন রহিমা বেওয়া।  ফলে চরম চরম খাদ্য সংকটে পরেছেন তারা। এদিকে খেতে না পারায় রহিমার বুকের দুধও শুকিয়ে গেছে। বুকের দুধ পাচ্ছেনা রহিমার শিশু সন্তান। বুকের দুধ না পাওয়ায় একনাগাড়ে কাঁদছে রহিমার শিশু সন্তান রহিম বাবু।
রহিমা এদিক ও দিক থেকে একটু খাবার জোগাড় করে খাওয়াচ্ছেন বৃদ্ধা শ্বাশুড়ী পোনা মাইকে। কিন্তু শিশুটির জন্য  কিছুই করতে পারছে না। এদিকে খেতে না পেরে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে রহিমার শিশু সন্তান। কাঁদতে কাঁদতে শিশুটির গলা শুকিয়ে গেছে। রহিমা শিশুটির ক্ষুদা আর সহ্য করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে সে শিশুটির জন্য দুধ জোগাড় করতে বের হন। কিন্তু কোথাও পাননি, এক ফোটা দুধ। মনে একরাশ হতাশা নিয়ে বাড়ী ফিরেন রহিমা বেওয়া।
রহিমা বেওয়া শিশু সন্তানের কষ্টে কাঁদতে থাকেন। কি করবেন ভেবে অস্থির হয়ে ওঠেন। এমন সময় আসেন লিপি আপা । রহিমাকে ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করার পরামর্শ দেন। বলেন,এই নাম্বারে কষ্টের কথা জানালে একটা ব্যবস্থা হবে। লিপি আপার ফোন দিয়ে ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করেন রহিমা বেওয়া। জানান, তার অসহায়াত্বের কথা। বলেন,দুধ না পাওয়ায় তার শিশু সন্তান কাহিল হয়ে পরেছে। রহিমা বেওয়া আকুতি করে আরও বলেন,দয়া করে আমার শিশুটিকে বাঁচান।
ফোন করার পর লিপি আপা চলে যান। লিপি আপা পাশের বাড়ির রিকসা চালক খতিবর ভাইয়ের বউ। দু’একটা এনজিও অফিসে যাতায়াত আছে তার। রহিমা বেওয়া ভাবেন,লিপি আপা যখন ফোন করতে বলেছেন,ব্যবস্থা একটা হবে। সেই ব্যবস্থা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন রহিমা বেওয়া। লিপি আপাও যাওয়ার সময় বলেছেন,রহিমা চিন্তা করো না। এটা সরকারী নাম্বার। ওনারা অবশ্যই তোমার সন্তানের দুধের ব্যবস্থা করে দিবেন।
রহিমা বেওয়া বিছানায় শুয়ে অঝোর নয়নে কাঁদছেন। শিশু সন্তানটির কষ্ট আর সহ্য হয় না। সে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বলেন,তোর বাপ বেঁচে থাকলে তোকে এত কষ্ট পেতে হত না। রহিমা বেওয়া কান্নারত অবস্থায় সন্তানটিকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পরেন। ঘুমের মধ্য রহিমা স্বপ্নে দেখেন, কুবের আলী সন্তানের জন্য অনেক গুলো তরল দুধ কিনেছেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে পরম সোহাগে দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাদের শিশু সন্তানকে।
ঘুমের মধ্যে একটি গাড়ীর হর্ণের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় রহিমা বেওয়ার। বাইরে এসে দাড়ান রহিমা বেওয়া। তিনি দেখতে পান,গাড়ি থেকে নেমে আসছেন, তিন জন লোক। লোক তিন জন তার দিকেই এগিয়ে আসছেন । হাতে তাদের অনেক গুলো বাজার ভর্তি ব্যাগ। লোকগুলো রহিমার কাছে আসেন। একজন জিজ্ঞেস করেন,আপনি কি রহিমা বেওয়া ? মাথা নাড়ান রহিমা বেওয়া। একজন লোক বলেন,ইউএনও স্যার আপনার সাথে কথা বলবেন।
এবার ইউএনও নাদিম মাহমুদ বলেন,আপনি কোলের বাঁচ্চা ও বৃদ্ধা শ্বাশুড়ীকে নিয়ে কষ্টে আছেন। আপনার ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত এসেছি। ব্যাগে দুধ ও অন্যান্য বাজার আছে। আগে শিশুটিকে দুধ খেতে দিন। আমি আপনার শিশু সন্তান ও বৃদ্ধা শ্বাশুড়ীকে এক নজর দেখতে চাই। ইউএনও সাহেব রহিমা বেওয়ার ঘরে যান। ঘর থেকে এসে রহিমা বেওয়াকে জিজ্ঞেস করেন, আপনার বিধবা ভাতা,আপনার শ্বাশুড়ীর বয়স্ক ভাতা কার্ড হয়েছে কি ? রহিমা বেওয়া জবাবে বলেন, না স্যার,হয়নি।
রহিমা বেওয়া এবার ইউএনও স্যারকে জানান,তিনি একাধিক বার মেম্বার ও চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে গেছেন। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় তাদের কার্ড দেয়া হয়নি। রহিমা বেওয়ার কথা শুনে ক্ষেপে যান ইউএনও নাদিম মাহমুদ। তিনি চেয়ারম্যান সাহেবকে ফোন করে তিরষ্কার করেন। এবং অতিদ্রুত রহিমা বেওয়া ও পোনা মাইকে সরকারের সুবিধা ভোগীর তালিকায় অন্তভুক্ত করার নির্দেশ দেন। ইউএনও স্যারের এমন বদ্যণতায় খুশী হন রহিমা বেওয়া।
ইউএনও মহোদয় যাওয়ার সময় রহিমা বেওয়াকে আরও আশ্বস্থ্য করে বলেন, আপনি কোন চিন্তা করবেন না। আমরা আপনাকে সরকারী বরাদ্ধ থেকে পাকা বাড়ী নির্মান করে দেব। এছাড়াও আপনাদের ভাল-মন্দ খোজ আমরা নেব। ইউএনও স্যারের এমন ঘোষনায় খুশীতে চোঁখে জল আসে রহিমা বেওয়ার। ইউএনও স্যারের জন্য খাস দিলে দোয়া করেন।
ইউএনও স্যারের দেয়া দুধ শিশু সন্তানের মুখে তুলে দেন রহিমা বেওয়া। রহিমা বেওয়া খেয়াল করেন,তার শিশু সন্তানটি দুধ মুখে নিয়ে মুচকি হাসি দিচ্ছেন। মনের সুখে করছেন খেলা । শিশু সন্তানের এমন বাঁকা হাসি দেখে নিজেও হেসে ফেলেন রহিমা বেওয়া । মর্হুতে ভুলে যান জীবনের সব কষ্টের কথা । শিশু সন্তানটিকে কোলে নিয়ে আদর,সোহাগে মশগুল হয়ে পড়েন রহিমা বেওয়া।
Related Posts
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “ভীটে পেল নন্দ”।
ভীটে মাটি নেই নন্দ লালের। অন্য মানুষের পুকুর পাড়ের এক কোনে ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করেন নন্দ। স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে গাদাগাদি করে অস্থাস্থ্যকর এক জীবন পার করছে সে। গত ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র এর গল্প “অসম প্রেম পরিনতি”
মাসুদ পার্কে বসে আছে। রীতা মাসুদকে জরুরী ভাবে এখানে আসতে বলেছে। আজ রীতা আর মাসুদের ভালবাসার পরিনতির ফায়সালা হবে।  চুড়ান্ত বোঝা-পড়া হবে।ভালবাসা নিয়ে টানপোড়েন নিষ্পতি করবে ওরা। ক'দিন থেকে রীতা ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”কাকলীর আত্মহনন”।
কলঙ্কে ভরা জীবনটা আর বয়ে বেড়ানোর ইচ্ছে নেই কাকলীর। কাকলী কোন দিনও ভাবেনি তার জীবনে লাগবে কলঙ্কীনি দাগ। কলঙ্কীনি দাগ লাগার মত কেন কাজ করেনি কাকলী। সে একজনকে বিশ্বাস করেছিল। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”অমানবিক মানুষ”।
শ্বাস নিতে পারছেন না আছমা বেগম। খুব কষ্ট হচ্ছে তার। মনে হচ্ছে এক্ষনেই মারা যাবেন। কয়েক দিন থেকেই তার শরীরে জ্বর চলছে।  গতকাল জ্বরটা বেশী ছিল। পাড়ার মোড় থেকে নাপা ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “দু’ফোটা জল”।
মাথা ভর্ত্তি একরাশ চিন্তা নিয়ে শহরের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয় রফিক। বাড়িতে কোন টাকা নেই। বাজার যা আছে দু'এক দিনে শেষ হয়ে যাবে। এদিকে এখন তার পকেটে আছে মাত্র পঞ্চাস টাকা। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর রম্য রচনা “তেল হাওয়া”
তেল হাওয়া" (একটি ছোট রম্য রচনা) মিলে সরিষা তেল নাই কথাটা শুনে একটা হোচট খায় সজিব। সে ভাবে করোনা প্রর্দুভাবের কারনে মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে। হাট-বাজারে মানুষ কম আসছে। এখনতো সব ধরনের ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ধোকা”।
মাস্টার্স পাশ করেও কোন চাকুরী জোগাড় করতে পারেনি তৈমুর। রাত-দিন অনেক দালালের পিছনে ঘুরেছেন। একটা চাকুরীর প্রত্যাশায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মধ্যখানে তার গাটের টাকা গেছে জলে। সর্বশেষ এক ...
READ MORE
কবিতা “বঙ্গবন্ধু” জাতির চেতনার নাম
"বঙ্গবন্ধু" জাতির চেতনার নাম   -ফয়েজ আহমেদ   বঙ্গবন্ধু,চেতনার নাম,জাগ্রত অনুভুতি বাংলার ইতিহাস,লাল সবুজের বেষ্টনি, মুক্তির মহানায়ক,জনতার হৃদয় মনি আর্দশিক মানব,জাতির আলোক রশ্মি।   বঙ্গবন্ধু, রুপকার এই বাংলা পতাকার স্বাধীনতার স্হপতি,বিজয় মালা গাথার, শোষন-বঞ্চনা, রুখতে মানব মেশিন গণআস্হা তুমি,শোষিত জাতির মহাবীর।   বঙ্গবন্ধু, পরাধীনতার ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “রোজা”
"রোজা" -ফয়েজ আহমেদ   নীল আকাশে উঠল ভেসে মহাখুশির চাঁদ,মুমিন সকল খাসদিলে,করবে রোজা কাল।   খাবে সেহরী,রাখবে রোজা এইতো সবার,মনের আশা পুর্ন হবে,সকল অভিলাশ।   নীল আকাশের,সোনালী চাঁদ সবার মাঝে,আনন্দ-উচ্ছ্বাস এলো খুশির,মাহে রমজান।   নীল আকাশের,বাঁকা চাঁদে সকল মুমিন,স্বপ্ন খোজে মাবুদ দিবে,এবার নিস্তার।   মাস ব্যাপি,রাখবে রোজা পড়বে নামায,করবে দোয়া সকল ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা  “যুদ্ধ চাই”
যুদ্ধ চাই" -ফয়েজ আহমেদ যুদ্ধ চাই,ভৌগলিক রেখার নয় স্বাধীনতা চাই,সেই পতাকার নয়, সংগ্রাম চাই,রুখতে,অশুভ ব্যাধি আরেকটি যুদ্ধ চাই,করতে শুদ্ধির।   যুদ্ধ চাই আনতে,শুভ রাজনীতি অফিস-আদালত হবে,মুক্ত র্দূনীতি, সামাজিক স্তরে চাই,প্রকৃত সেবা যুদ্ধ চাই মোরা,সুশাসন প্রতিষ্ঠার।   যুদ্ধ চাই,আনতে মানবতার সুদিন গাইবে সবাই,মানবিক গান ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “ভীটে পেল নন্দ”।
ফয়েজ আহমেদ’র এর গল্প “অসম প্রেম পরিনতি”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”কাকলীর আত্মহনন”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”অমানবিক মানুষ”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “দু’ফোটা জল”।
ফয়েজ আহমেদ এর রম্য রচনা “তেল হাওয়া”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ধোকা”।
কবিতা “বঙ্গবন্ধু” জাতির চেতনার নাম
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “রোজা”
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “যুদ্ধ চাই”
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।