আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :
«» স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল গুহ আর নেই। «» সৈয়দপুর উপজেলা আ’লীগের “স্বপ্নের পদ্মা সেতু” উদ্বোধন ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত। «» ভারতে মহানবীর (সা:) অবমাননার প্রতিবাদে উত্তাল সৈয়দপুর, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। «» সৈয়দপুরে স্কুল শিক্ষককে ফাঁসাতে গিয়ে বোতলাগাড়ির মিলন এখন জেল হাজতে। «» সৈয়দপুর ফাইলেরিয়া হাসপাতাল পরিচালনায় নতুন কমিটি ঘোষনা। «» সৈয়দপুরে আ’লীগ সভাপতির নেতৃত্বে সাংবাদিক হককে গ্রেফতার ও বহিষ্কারের দাবীতে প্রতিবাদ মিছিল। «» সৈয়দপুরে সাংবাদিক মোতালেব প্রহৃতের ঘটনায় আ’লীগের প্রতিবাদ মিছিল। «» সৈয়দপুরে কামারপুকুর ইউনিয়ন আ’লীগের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন। «» সৈয়দপুরে আ’লীগের নব-নির্বাচিত কমিটি কতৃক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন। «» সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক সাহিদুর রহমান বিশেষ পুরষ্কারে ভূষিত।

ফয়েজ আহমেদ’র গল্প””তিরস্কার”।

বৃদ্ধা শ্বাশুড়ী আর ছয় মাসের শিশু পুত্র নিয়ে খুব খাদ্য সংকটে আছে রহিমা বেওয়া। বাঁচ্চাটা শরীরে আসার তিনমাস পর মারা যায় রহিমার স্বামী কুবের আলী। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বাশুড়ী পোনা মাই ও রহিমা বেওয়া জীবিকার তাগিদে মানুষের বাড়িতে কাজ করা শুরু করেন। থাকেন স্বামীর ভিটেতে একটা ঝুপড়ি ঘরে। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেকে নিকাহ্ করতে বলেছিল রহিমাকে। গর্ভের সন্তান আর বৃদ্ধা শ্বাশুড়ীর কথা চিন্তা করে নিকাতে বসে নাই রহিমা বেওয়া।

 

রহিমা’র শ্বাশুড়ীর বয়স হয়েছে। চলা-ফেরা করতে পারেন না। এখন রহিমার আয়েই চলে সংসার। এদিকে দেশে হানা দিয়েছে, মহামারী করোনা ভাইরাস। করোনা প্রার্দূভাব ঠেকাতে সরকার ঘোষনা করেছেন লকডাউন। করোনা আসায় কর্মহীন হয়ে পরেছেন রহিমা বেওয়া।  ফলে চরম চরম খাদ্য সংকটে পরেছেন তারা। এদিকে খেতে না পারায় রহিমার বুকের দুধও শুকিয়ে গেছে। বুকের দুধ পাচ্ছেনা রহিমার শিশু সন্তান। বুকের দুধ না পাওয়ায় একনাগাড়ে কাঁদছে রহিমার শিশু সন্তান রহিম বাবু।
রহিমা এদিক ও দিক থেকে একটু খাবার জোগাড় করে খাওয়াচ্ছেন বৃদ্ধা শ্বাশুড়ী পোনা মাইকে। কিন্তু শিশুটির জন্য  কিছুই করতে পারছে না। এদিকে খেতে না পেরে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে রহিমার শিশু সন্তান। কাঁদতে কাঁদতে শিশুটির গলা শুকিয়ে গেছে। রহিমা শিশুটির ক্ষুদা আর সহ্য করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে সে শিশুটির জন্য দুধ জোগাড় করতে বের হন। কিন্তু কোথাও পাননি, এক ফোটা দুধ। মনে একরাশ হতাশা নিয়ে বাড়ী ফিরেন রহিমা বেওয়া।
রহিমা বেওয়া শিশু সন্তানের কষ্টে কাঁদতে থাকেন। কি করবেন ভেবে অস্থির হয়ে ওঠেন। এমন সময় আসেন লিপি আপা । রহিমাকে ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করার পরামর্শ দেন। বলেন,এই নাম্বারে কষ্টের কথা জানালে একটা ব্যবস্থা হবে। লিপি আপার ফোন দিয়ে ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করেন রহিমা বেওয়া। জানান, তার অসহায়াত্বের কথা। বলেন,দুধ না পাওয়ায় তার শিশু সন্তান কাহিল হয়ে পরেছে। রহিমা বেওয়া আকুতি করে আরও বলেন,দয়া করে আমার শিশুটিকে বাঁচান।
ফোন করার পর লিপি আপা চলে যান। লিপি আপা পাশের বাড়ির রিকসা চালক খতিবর ভাইয়ের বউ। দু’একটা এনজিও অফিসে যাতায়াত আছে তার। রহিমা বেওয়া ভাবেন,লিপি আপা যখন ফোন করতে বলেছেন,ব্যবস্থা একটা হবে। সেই ব্যবস্থা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন রহিমা বেওয়া। লিপি আপাও যাওয়ার সময় বলেছেন,রহিমা চিন্তা করো না। এটা সরকারী নাম্বার। ওনারা অবশ্যই তোমার সন্তানের দুধের ব্যবস্থা করে দিবেন।
রহিমা বেওয়া বিছানায় শুয়ে অঝোর নয়নে কাঁদছেন। শিশু সন্তানটির কষ্ট আর সহ্য হয় না। সে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বলেন,তোর বাপ বেঁচে থাকলে তোকে এত কষ্ট পেতে হত না। রহিমা বেওয়া কান্নারত অবস্থায় সন্তানটিকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পরেন। ঘুমের মধ্য রহিমা স্বপ্নে দেখেন, কুবের আলী সন্তানের জন্য অনেক গুলো তরল দুধ কিনেছেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে পরম সোহাগে দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাদের শিশু সন্তানকে।
ঘুমের মধ্যে একটি গাড়ীর হর্ণের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় রহিমা বেওয়ার। বাইরে এসে দাড়ান রহিমা বেওয়া। তিনি দেখতে পান,গাড়ি থেকে নেমে আসছেন, তিন জন লোক। লোক তিন জন তার দিকেই এগিয়ে আসছেন । হাতে তাদের অনেক গুলো বাজার ভর্তি ব্যাগ। লোকগুলো রহিমার কাছে আসেন। একজন জিজ্ঞেস করেন,আপনি কি রহিমা বেওয়া ? মাথা নাড়ান রহিমা বেওয়া। একজন লোক বলেন,ইউএনও স্যার আপনার সাথে কথা বলবেন।
এবার ইউএনও নাদিম মাহমুদ বলেন,আপনি কোলের বাঁচ্চা ও বৃদ্ধা শ্বাশুড়ীকে নিয়ে কষ্টে আছেন। আপনার ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত এসেছি। ব্যাগে দুধ ও অন্যান্য বাজার আছে। আগে শিশুটিকে দুধ খেতে দিন। আমি আপনার শিশু সন্তান ও বৃদ্ধা শ্বাশুড়ীকে এক নজর দেখতে চাই। ইউএনও সাহেব রহিমা বেওয়ার ঘরে যান। ঘর থেকে এসে রহিমা বেওয়াকে জিজ্ঞেস করেন, আপনার বিধবা ভাতা,আপনার শ্বাশুড়ীর বয়স্ক ভাতা কার্ড হয়েছে কি ? রহিমা বেওয়া জবাবে বলেন, না স্যার,হয়নি।
রহিমা বেওয়া এবার ইউএনও স্যারকে জানান,তিনি একাধিক বার মেম্বার ও চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে গেছেন। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় তাদের কার্ড দেয়া হয়নি। রহিমা বেওয়ার কথা শুনে ক্ষেপে যান ইউএনও নাদিম মাহমুদ। তিনি চেয়ারম্যান সাহেবকে ফোন করে তিরষ্কার করেন। এবং অতিদ্রুত রহিমা বেওয়া ও পোনা মাইকে সরকারের সুবিধা ভোগীর তালিকায় অন্তভুক্ত করার নির্দেশ দেন। ইউএনও স্যারের এমন বদ্যণতায় খুশী হন রহিমা বেওয়া।
ইউএনও মহোদয় যাওয়ার সময় রহিমা বেওয়াকে আরও আশ্বস্থ্য করে বলেন, আপনি কোন চিন্তা করবেন না। আমরা আপনাকে সরকারী বরাদ্ধ থেকে পাকা বাড়ী নির্মান করে দেব। এছাড়াও আপনাদের ভাল-মন্দ খোজ আমরা নেব। ইউএনও স্যারের এমন ঘোষনায় খুশীতে চোঁখে জল আসে রহিমা বেওয়ার। ইউএনও স্যারের জন্য খাস দিলে দোয়া করেন।
ইউএনও স্যারের দেয়া দুধ শিশু সন্তানের মুখে তুলে দেন রহিমা বেওয়া। রহিমা বেওয়া খেয়াল করেন,তার শিশু সন্তানটি দুধ মুখে নিয়ে মুচকি হাসি দিচ্ছেন। মনের সুখে করছেন খেলা । শিশু সন্তানের এমন বাঁকা হাসি দেখে নিজেও হেসে ফেলেন রহিমা বেওয়া । মর্হুতে ভুলে যান জীবনের সব কষ্টের কথা । শিশু সন্তানটিকে কোলে নিয়ে আদর,সোহাগে মশগুল হয়ে পড়েন রহিমা বেওয়া।
Related Posts
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”বিধি বাম”।
ভালবেসে নাজমীনকে বিয়ে করেছিল তুহিন। ক'দিন আগে নাজমীন আর তুহিনের বিয়ের দশ বছর পুর্ণ হয়েছে। জাকজমক ভাবে বিয়ের দশ বছর পূর্তি করেছেন তারা।  সংসার জীবনে তাদের কোন অর্পূন্নতা নেই। শুধু ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট “গল্প রেবেকার অজ্ঞামী”।
মায়ের শরীরটা ভাল নেই। অনেক ডাক্তার দেখানে হয়েছে। কিছুতেই সেরে উঠছেনা মায়ের শরীর। মায়ের শরীরের চিন্তায় ভাল নেই জিলানীর মন। সব সময় মায়ের সেরে ওঠা নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকে জিলানী। ...
READ MORE
“করোনা জয়”
"করোনা জয়" -ফয়েজ আহমেদ   করোনা,ভয় নয়,দরকার সচেতনতা ধুলে হাত বারবার,ঘটবে না সর্বনাশ ভয় পেলে হবে না,থাকতে হবে ঘরে সামাজিক দুরত্ব মানব,ঘরের বাইরে এলে।   করোনা,ও কারো না,রাজাকেও ছাড়ে না। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কুপোকাত,নয় অজানা, আপনি-আমি কি,কাদছে ক্ষমতাধর ট্রাম্প বাচঁবে কি মানুষ,ঘুচবে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “আজব স্বপ্ন”।
"আজব স্বপ্ন"   -ফয়েজ আহমেদ।   গ্রামের নাম কাজলীয়া। সবুজ ঘেরা সুন্দর একটি গ্রাম। যতদুর চোঁখ যায়,শুধু প্রকৃতিক সবুজ লীলা ভূমি। গ্রমের লোকজন অত্যান্ত শান্তি প্রিয়। তারা সকলে ওই গ্রামে মিলে মিশে বসবাস করেন। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”কাকলীর আত্মহনন”।
কলঙ্কে ভরা জীবনটা আর বয়ে বেড়ানোর ইচ্ছে নেই কাকলীর। কাকলী কোন দিনও ভাবেনি তার জীবনে লাগবে কলঙ্কীনি দাগ। কলঙ্কীনি দাগ লাগার মত কেন কাজ করেনি কাকলী। সে একজনকে বিশ্বাস করেছিল। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “মানবতা’।
"মানবতা"   -ফয়েজ আহমেদ।     রাস্তায় একটা জটলা দেখা যাচ্ছে।এগিয়ে যায় সুমন। একটা লোক চিৎ হয়ে পড়ে আছে। মনে হয় অজ্ঞান হয়ে গেছে। একজন বলে,লোকটা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিল। অজ্ঞান পার্টি আবার কি। জানেনা ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “দু’ফোটা জল”।
মাথা ভর্ত্তি একরাশ চিন্তা নিয়ে শহরের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয় রফিক। বাড়িতে কোন টাকা নেই। বাজার যা আছে দু'এক দিনে শেষ হয়ে যাবে। এদিকে এখন তার পকেটে আছে মাত্র পঞ্চাস টাকা। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “চুলকানী”।
"চুলকানী"।   -ফয়েজ আহমেদ।   দলের নিকট বারবার ধর্না দিয়েও নমিনেশন পেলেন না কামরুল সাহেব। মোটা অংকের টাকাও দিয়েছেন,তবুও গলাতে পারেননি মন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কোনভাবেই কামরুল সাহেবকে নমিনেশন আর দিলেন না। দীর্ঘ দিনের পরিক্ষীত,কর্মী ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “ভালবাসি হয়নি বলা”।
"ভালবাসি হয়নি বলা" -ফয়েজ আহমেদ।   জবা তলায় বসে বাদাম খাচ্ছে রিপন।সে একাই বসে আছে।কিছুক্ষন আগে তার সহপাঠীরা চলে গেছে। আজ কলেজে আর কোন ক্লাস নেই। বাদাম খাওয়া শেষে রিপনও চলে যাবে। রিপনের ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ঈদ কালেকশন”।
অফিসে ঢোকার সাথেই সোহাগের হাতে এক'শো জনের নামের তালিকা ধরিয়ে দেন সভাপতি বীর বাহাদুর। বলেন,আগামী বুধবার থেকে কালেকশন শুরু করতে হবে। ঈদের বেশী দেরী নেই। আর বিলম্ব করা যাবেনা। সভাপতি ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”বিধি বাম”।
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট “গল্প রেবেকার অজ্ঞামী”।
“করোনা জয়”
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “আজব স্বপ্ন”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”কাকলীর আত্মহনন”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “মানবতা’।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “দু’ফোটা জল”।
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “চুলকানী”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “ভালবাসি হয়নি বলা”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ঈদ কালেকশন”।
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।