আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :

ফয়েজ আহমেদ’র ছোট গল্প”ঘৃণা”।

বিগত পাঁচ বছর পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন রেজা মাহমুদ। চাকুরী করেন বেসরকারী একটি ফার্মে । নিজ শহরে বৃদ্ধ বাবা-মা ও তিন ভাই আছেন। প্রতিবছর একবার নিজ শহরে আসেন রেজা। দু’একদিন পরিবারের সাথে থাকেন। আবার ফিরে যান ঢাকায়। এবার সিঙ্গাপুরের একটি  মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকুরীর অফার পেয়েছেন রেজা মাহমুদ। সিভি জমা দিলেই চাকুরীটা তার হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সিভি জমা দিতে হবে। এর পর শুধু পাসপোর্ট-আর ভিসা। ব্যস, সিঙ্গাপুরে উড়াল দিবেন রেজা মাহমুদ।

সিভি তৈরী করে ফেলেছেন রেজা। কাগজ-পত্রও সব আছে। শুধু নাগরিকত্বের সনদ ও চারিত্রিক প্রশংসা পত্র সংগ্রহে নেই তার। রেজা ছোট ভাই তাহমিদকে ফোন দেন। বলেন,একটা নাগরিকত্বের সনদ ও চারিত্রিক প্রশাংসা পত্র সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিতে। পরে রেজা মাহমুদ সিদ্ধান্ত নেন,সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে বাবা-মায়ের সাথে একবার দেখা করবেন। তাই অফিস ছুটি নিয়ে বিকালের ফ্লাইটে আসেন নিজ শহরে। বাবা-মা সহ ভাইদের খবরটা জানান। তারা রেজার সিঙ্গাপুরে চাকুরীর পাওয়ার খবরে খুব খুশী হন।
পৌর মেয়রের কার্যালয়ে বসে আছে রেজা। মেয়র মহোদয় এখনও আসেননি। মেয়রের সহকারী জানান, স্যার দশ মিনিটের মধ্যেই অফিসে ঢুকবেন। কি আর করা। বসে বসে পেপার পড়ছেন রেজা। প্রায় মিনিট বিশেক পড়ে অফিসে আসেন,মেয়র সাহেব। সাথে একজন মোটা লোক। লোকটাকে চেনা চেনা লাগছে রেজার। হ্যা, এইতো সেই লোক। যে রেলের কোয়াটার ও জমি দখল করে হয়েছেন কোটিপতি। রেলের জমিতে তুলেছেন, বেশ ক’টি বহুতল ভবন। দু’দকে মামলাও আছে তার। রেজা মাহমুদ পত্রিকায় সব খবর পড়েছেন।
মেয়র মহোদয়ের সাথে এমন একজন রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনকারী লোককে দেখে ঘাবড়ে যান রেজা। ভাবেন,এটা কি করে সম্ভব ? পৌর পিতার সাথে এমন একজন লোকের চলাফেরা মোটেই শোভনীয় নয়। তাছাড়া এমন একটি লোকের জন্য তার শহরের সম্মান বিনষ্ট হয়েছে। ভূমি খেকো ওই লোকটি মেয়র মহোদয়ের হাতে একটি বহুতল ভবনের  নকশা তুলে দেন। মেয়র মহোদয় ওই নকশায় স্বাক্ষর করেন। রেজা খেয়াল করেন,নকশাটি রেল ভূ-সম্পতিতে করা হয়েছে।
মেয়র মহোদয় নকশা অনুমোদন করে,তুলে দেন লোকটির হাতে। রেজা মাহমুদ বিস্মিত হন, একজন মেয়রের এমন অনৈতিক, দেশ বিরোধী কর্মকান্ড দেখে।  রেজা’র ভাবনায় আসে না, মেয়র মহোদয় কি করে এমন বিধিবহিভূত নকশা অনুমোদন দিলেন ?  এমন কাজে তো মেয়র সাহেবের বাধা দেয়ার কথা। রেলের এ্যালোটমেন্ট আছে কি না দেখার কথা ? মেয়র তো সরকারের একটা অংশ। অথচ তিনি দখল কাজ উসকে দিলেন।
লোকটি চলে যাওয়ার পর রেজার দিকে চোঁখ পড়ে মেয়র সাহেবের। তিনি রেজা মাহমুদকে জিজ্ঞেস করেন,আপনার কি কাজ? রেজা হাতের কাগজ দুটো এগিয়ে দেন। মেয়র সাহেব কাগজ দু’টোতে চোঁখ বুলিয়ে স্বাক্ষর করেন। এসময় রেজা মাহমুদ খেয়াল করেন,মেয়র সাহেব তার কলেজের সিনিয়র ভাই। তারা একই কলেজে পড়া-শুনা করেছেন। একটি অখ্যাত ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। রেজা মাহমুদ ভালভাবেই মেয়র সাহেবকে চিনতে পারেন।
রেজা মাহমুদের মনে পড়ে কলেজের একটি কেলেংকারীর কথা। ওই সময় সকল ছাত্র-ছাত্রী ফুঁসে উঠেছিলেন। লাগাতর আন্দোলনে ক্যাম্পাস অচল হয়ে গিয়েছিল। যার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল, ইনি সেই সিনিয়র ভাই। মেয়র মোজাহারুল ইসলাম মোজা সাহেব। রেজা’র মনে আছে,ওই আন্দোলনের কারনে মোজা’কে পুলিশ আটক করেছিল। পাঠিয়েছিল জেল হাজতে। মোজা প্রায় ছ’মাস হাজতে ছিল। পরে জামিনে মুক্ত হন। রেজা ভাবতে পারেন না,সেই মোজা আজ মেয়র,পৌর পিতার আসনে সমাসীন।
রেজার মনে আছে,একটি মেয়েকে ফুসলিয়ে কলেজের ছাদে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানী করেন মোজা। এ ঘটনার পর মোজার আরও অনেক নারী কেলেংকারীর ঘটনা সামনে আসে। পুলিশ বাধ্য হন মোজাকে গ্রেফতার করতে। রেজা মাহমুদ শুনেছেন,শ্লীলতানীর শিকার মেয়েটি পরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ওই মৃৃত্যুর নেপথ্যে ছিলেন মোজা। এমন খবর পুরো শহরে চাউর হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় মোজা হাজতে থাকায় বেঁচে গেছেন। তবে সবার ধারণা,মোজা’র নির্দেশে তার সাঙ্গ- পাঙ্গরা ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।  ঘাতক গাড়িটি ধরা না পরায়, রহস্যই থেকে যায় দূর্ঘটনার কারন।
রেজা মাহমুদ নাগরিকত্বের সনদ ও চারিত্রিক প্রশংসা পত্র নিয়ে ফিরে আসেন বাড়ি। কাগজ দু’টো বারবার উল্টে-পাল্টে দেখেন। মনের মধ্যে একটা ইগো কাজ করতে থাকে। সে মনে মনে ভাবেন,যার নিজের চরিত্র কলুষিত,কালিমায় ভরা, সেই দিচ্ছেন, চারিত্রিক প্রশংসা পত্র। সই করছেন, নাগরিকত্বের সনদে।  বিষয়টি কোন ভাবে মেনে নিতে পারে না রেজা মাহমুদ। তার কাছে মনে হয়,এমন একজন কলুষিত মানুষের নিকট নাগরিকত্ব ও চরিত্রের সার্টিফিকেট নেয়া শোভনীয় নয়।
রেজা’র শুধু কলেজের ওই কেলেংকারীর কথা মনে পড়ে। তার চোঁখের সামনে ভেসে ওঠে ছাত্র-ছাত্রীদের সেই দুর্বার গণ আন্দলনের চিত্র। রেজা মাহমুদ ভাবেন,এটা কি ভাবে সম্ভব ? মোজা মেয়র হন কি ভাবে ? মাথা কাজ করে না তার । মনটা ভীষন অস্থির হয়ে ওঠে। এই শহরে আর এক মহুর্ত থাকার ইচ্ছে করে না রেজার।মানষিক অস্থিরতা নিয়ে বাবা-মায়ের নিকট বিদায় নেন রেজা। রওয়ানা দেন, ঢাকার উদ্দেশ্য।
রেজা বিভিন্ন জনের নিকট খোজ নিয়ে জানতে পারেন,অশুভ রাজনীতি চর্চা কাজে লাগিয়ে  কালো টাকা ও পেশী শক্তির জোড়ে  মোজা মেয়রের আসন হাসিল করেছেন। এখন নাগরিকত্ব সনদসহ চারিত্রিক প্রশংসা পত্র ইস্যু করছেন। রেজা জানেন,এটা এখন মোজা’র রাষ্ট্র প্রদত্ত দায়িত্ব। তিনি পদাধীকার বলে পৌরবাসী সকলের চারিত্রিক সার্টিফিকেট সই করবেন। এটাই সাংবিধানিক নিয়ম।।
রেজার মনে মেয়র মোজা’র জন্য এক প্রকার ঘৃণা কাজ করে । চরিত্রহীন,কলুষিত একজন মেয়রের স্বাক্ষর করা নাগরিকত্ব সনদ ও চারিত্রিক প্রশংসা পত্র দিয়ে চাকুরী করতে তার রুচিতে বাধে। রেজা মাহমুদ সিদ্ধান্ত নেন,চাকুরী যদি না হয়,না হউক। তবুও সে মেয়র মোজা স্বাক্ষরিত নাগরিকত্ব সনদ ও চারিত্রিক প্রশংসা পত্র ব্যবহার করবেন না। অবশেষে, রেজা মাহমুদ মেয়র মোজা স্বাক্ষরিত ওই নাগরিকত্বের সনদ ও চারিত্রিক প্রশংসা পত্র রাগ,দুঃখ,ঘৃণায় আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন।
Related Posts
ছোট গল্প “মেয়েটাকে ভাল রেখ”
"মেয়টাকে ভাল রেখ"   -ফয়েজ আহমেদ।   রাত দু'টো বাজে। হাইওয়ে ডিউটি চলছে। হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠল। এত রাতে কে ফোন করছে। আরিফ পকেট থেকে ফোনটা বের করে। বাড়ী থেকে ফোন। স্ত্রী মাজেদা করেছে।এত রাতে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট একটি প্রেমের গল্প “রাজ যোটক”
"রাজ যোটক"                          -ফয়েজ আহমেদ।                (ছোট একটি প্রেমের গল্প) বিকালের ফ্লাইটে সৈয়দপুর আসছে পল্লবী। খবরটা শুনে ...
READ MORE
“আমি বাঙ্গালী”
"আমি বাঙ্গালী" -ফয়েজ আহমেদ   আমি বাঙ্গালী,বীর আমি,মহাবীর দুঃসাহসী নির্ভীক,মৃত্যুন্জয় আমি, ভয়,সেটা আবার কি?জানা নেইতো আমি বঙ্গবন্বুর জ্বালাময়ী ভাষন,কবিতা।   ৭মার্চের ঐতিহাসিক ডাক,নির্ভয়তা আমি আষাঢ়ের বজ্রপাত,আমি কঠিন বজ্রশক্তি, দুচোঁখে যুদ্ধের নেশা,আমি স্বাধীনতাকামী বিজয় ছিনিয়ে নেয়া, রক্তিম হতিহাস আমি।   মনে নেই একাত্তর,আমি তার ...
READ MORE
“করোনা জয়”
"করোনা জয়" -ফয়েজ আহমেদ   করোনা,ভয় নয়,দরকার সচেতনতা ধুলে হাত বারবার,ঘটবে না সর্বনাশ ভয় পেলে হবে না,থাকতে হবে ঘরে সামাজিক দুরত্ব মানব,ঘরের বাইরে এলে।   করোনা,ও কারো না,রাজাকেও ছাড়ে না। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কুপোকাত,নয় অজানা, আপনি-আমি কি,কাদছে ক্ষমতাধর ট্রাম্প বাচঁবে কি মানুষ,ঘুচবে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “চুলকানী”।
"চুলকানী"।   -ফয়েজ আহমেদ।   দলের নিকট বারবার ধর্না দিয়েও নমিনেশন পেলেন না কামরুল সাহেব। মোটা অংকের টাকাও দিয়েছেন,তবুও গলাতে পারেননি মন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কোনভাবেই কামরুল সাহেবকে নমিনেশন আর দিলেন না। দীর্ঘ দিনের পরিক্ষীত,কর্মী ...
READ MORE
কবিতা “বঙ্গবন্ধু” জাতির চেতনার নাম
"বঙ্গবন্ধু" জাতির চেতনার নাম   -ফয়েজ আহমেদ   বঙ্গবন্ধু,চেতনার নাম,জাগ্রত অনুভুতি বাংলার ইতিহাস,লাল সবুজের বেষ্টনি, মুক্তির মহানায়ক,জনতার হৃদয় মনি আর্দশিক মানব,জাতির আলোক রশ্মি।   বঙ্গবন্ধু, রুপকার এই বাংলা পতাকার স্বাধীনতার স্হপতি,বিজয় মালা গাথার, শোষন-বঞ্চনা, রুখতে মানব মেশিন গণআস্হা তুমি,শোষিত জাতির মহাবীর।   বঙ্গবন্ধু, পরাধীনতার ...
READ MORE
ছোট গল্প “হাঁস বিড়ালে খাইছে”
"হাঁস বিড়ালে খাইছে" - ফয়েজ আহমেদ। (বর্তমান প্রেক্ষাপটের একটি ছোট গল্প) সেদিন ছিল সোমবার। ফকিরের হাট। সজিব হাটে গিয়ে হাস কিনবে। হাসের মাংস খুব প্রিয় সজিবের। বাজারের ব্যাগ নিয়ে মটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে হাটের ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প”কদর হুজুরের কান্ড”।
শুধু গ্রামে নয়,আশে পাশের আরো দশ গ্রামে আবিরের নাম প্রচার হয়ে গেছে। দশ গ্রামের লোক আজ আবিরকে আলাদা চোঁখে দেখছেন। তাকে সমীহ করছেন,ভালবেসে আবির ভাই বলে সম্বোধন করছেন। আবির আজ ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ঈদ কালেকশন”।
অফিসে ঢোকার সাথেই সোহাগের হাতে এক'শো জনের নামের তালিকা ধরিয়ে দেন সভাপতি বীর বাহাদুর। বলেন,আগামী বুধবার থেকে কালেকশন শুরু করতে হবে। ঈদের বেশী দেরী নেই। আর বিলম্ব করা যাবেনা। সভাপতি ...
READ MORE
“জাগ্রত স্বপ্ন”
"জাগ্রত স্বপ্ন" -ফয়েজ আহমেদ   তোমার স্মৃতি উকি দেয়, হৃদয় আয়নায় ভোলা যায় না,মনের গহীনে চাপা কষ্ট, যতবার চেষ্টা করি,ভুলব তোমার স্মৃতি জাগ্রত স্বপ্নে,সামনে এসে দাড়াও তুমি।   তোমার স্মৃতিগুলো কষ্ট দেয়,অবিরত সুখ-স্মৃতির দিনগুলো,আজ বেদনাময়, কষ্টের কঠিন আঘাত,জর্জরিত হাহাকার স্মৃতির বেড়াজালে ...
READ MORE
ছোট গল্প “মেয়েটাকে ভাল রেখ”
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট একটি প্রেমের গল্প “রাজ যোটক”
“আমি বাঙ্গালী”
“করোনা জয়”
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “চুলকানী”।
কবিতা “বঙ্গবন্ধু” জাতির চেতনার নাম
ছোট গল্প “হাঁস বিড়ালে খাইছে”
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প”কদর হুজুরের কান্ড”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ঈদ কালেকশন”।
“জাগ্রত স্বপ্ন”
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।