আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :
«» শেখ কামাল ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী অনন্য সংগঠক। «» আ’লীগ থেকে বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রেফতার। «» সৈয়দপুরে আ’লীগ সভাপতি মোখছেদুল মোমিনের ফ্রি অক্সিজেন সেবা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। «» সৈয়দপুরে দন্ডের টাকা পরিশোধ না করে পুলিশ কর্মকতাকে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের। «» সৈয়দপুরে পুলিশ কর্মকতাকে পেটালেন ভূমি দস্যুর ছেলে বখাটে আতিফ। «» ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও ভ্যান বন্ধের সিন্ধান্ত-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। । «» দেশে কোন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার থাকবেনা-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। «» প্রবীন রাজনীতিক শমসের আলী বসুনিয়া আর নেই। «» সৈয়দপুরে চোরাই মটরসাইকেল উদ্ধার,২ জন আটক। «» সৈয়দপুর ফাইলেরিয়া হাসপাতাল পরিচালনায় কমিটি গঠন ও সংবাদ সম্মেলন।

ফয়েজ আহমেদ’র ছোট গল্প”ঘৃণা”।

বিগত পাঁচ বছর পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন রেজা মাহমুদ। চাকুরী করেন বেসরকারী একটি ফার্মে । নিজ শহরে বৃদ্ধ বাবা-মা ও তিন ভাই আছেন। প্রতিবছর একবার নিজ শহরে আসেন রেজা। দু’একদিন পরিবারের সাথে থাকেন। আবার ফিরে যান ঢাকায়। এবার সিঙ্গাপুরের একটি  মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকুরীর অফার পেয়েছেন রেজা মাহমুদ। সিভি জমা দিলেই চাকুরীটা তার হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সিভি জমা দিতে হবে। এর পর শুধু পাসপোর্ট-আর ভিসা। ব্যস, সিঙ্গাপুরে উড়াল দিবেন রেজা মাহমুদ।

সিভি তৈরী করে ফেলেছেন রেজা। কাগজ-পত্রও সব আছে। শুধু নাগরিকত্বের সনদ ও চারিত্রিক প্রশংসা পত্র সংগ্রহে নেই তার। রেজা ছোট ভাই তাহমিদকে ফোন দেন। বলেন,একটা নাগরিকত্বের সনদ ও চারিত্রিক প্রশাংসা পত্র সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিতে। পরে রেজা মাহমুদ সিদ্ধান্ত নেন,সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে বাবা-মায়ের সাথে একবার দেখা করবেন। তাই অফিস ছুটি নিয়ে বিকালের ফ্লাইটে আসেন নিজ শহরে। বাবা-মা সহ ভাইদের খবরটা জানান। তারা রেজার সিঙ্গাপুরে চাকুরীর পাওয়ার খবরে খুব খুশী হন।
পৌর মেয়রের কার্যালয়ে বসে আছে রেজা। মেয়র মহোদয় এখনও আসেননি। মেয়রের সহকারী জানান, স্যার দশ মিনিটের মধ্যেই অফিসে ঢুকবেন। কি আর করা। বসে বসে পেপার পড়ছেন রেজা। প্রায় মিনিট বিশেক পড়ে অফিসে আসেন,মেয়র সাহেব। সাথে একজন মোটা লোক। লোকটাকে চেনা চেনা লাগছে রেজার। হ্যা, এইতো সেই লোক। যে রেলের কোয়াটার ও জমি দখল করে হয়েছেন কোটিপতি। রেলের জমিতে তুলেছেন, বেশ ক’টি বহুতল ভবন। দু’দকে মামলাও আছে তার। রেজা মাহমুদ পত্রিকায় সব খবর পড়েছেন।
মেয়র মহোদয়ের সাথে এমন একজন রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনকারী লোককে দেখে ঘাবড়ে যান রেজা। ভাবেন,এটা কি করে সম্ভব ? পৌর পিতার সাথে এমন একজন লোকের চলাফেরা মোটেই শোভনীয় নয়। তাছাড়া এমন একটি লোকের জন্য তার শহরের সম্মান বিনষ্ট হয়েছে। ভূমি খেকো ওই লোকটি মেয়র মহোদয়ের হাতে একটি বহুতল ভবনের  নকশা তুলে দেন। মেয়র মহোদয় ওই নকশায় স্বাক্ষর করেন। রেজা খেয়াল করেন,নকশাটি রেল ভূ-সম্পতিতে করা হয়েছে।
মেয়র মহোদয় নকশা অনুমোদন করে,তুলে দেন লোকটির হাতে। রেজা মাহমুদ বিস্মিত হন, একজন মেয়রের এমন অনৈতিক, দেশ বিরোধী কর্মকান্ড দেখে।  রেজা’র ভাবনায় আসে না, মেয়র মহোদয় কি করে এমন বিধিবহিভূত নকশা অনুমোদন দিলেন ?  এমন কাজে তো মেয়র সাহেবের বাধা দেয়ার কথা। রেলের এ্যালোটমেন্ট আছে কি না দেখার কথা ? মেয়র তো সরকারের একটা অংশ। অথচ তিনি দখল কাজ উসকে দিলেন।
লোকটি চলে যাওয়ার পর রেজার দিকে চোঁখ পড়ে মেয়র সাহেবের। তিনি রেজা মাহমুদকে জিজ্ঞেস করেন,আপনার কি কাজ? রেজা হাতের কাগজ দুটো এগিয়ে দেন। মেয়র সাহেব কাগজ দু’টোতে চোঁখ বুলিয়ে স্বাক্ষর করেন। এসময় রেজা মাহমুদ খেয়াল করেন,মেয়র সাহেব তার কলেজের সিনিয়র ভাই। তারা একই কলেজে পড়া-শুনা করেছেন। একটি অখ্যাত ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। রেজা মাহমুদ ভালভাবেই মেয়র সাহেবকে চিনতে পারেন।
রেজা মাহমুদের মনে পড়ে কলেজের একটি কেলেংকারীর কথা। ওই সময় সকল ছাত্র-ছাত্রী ফুঁসে উঠেছিলেন। লাগাতর আন্দোলনে ক্যাম্পাস অচল হয়ে গিয়েছিল। যার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল, ইনি সেই সিনিয়র ভাই। মেয়র মোজাহারুল ইসলাম মোজা সাহেব। রেজা’র মনে আছে,ওই আন্দোলনের কারনে মোজা’কে পুলিশ আটক করেছিল। পাঠিয়েছিল জেল হাজতে। মোজা প্রায় ছ’মাস হাজতে ছিল। পরে জামিনে মুক্ত হন। রেজা ভাবতে পারেন না,সেই মোজা আজ মেয়র,পৌর পিতার আসনে সমাসীন।
রেজার মনে আছে,একটি মেয়েকে ফুসলিয়ে কলেজের ছাদে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানী করেন মোজা। এ ঘটনার পর মোজার আরও অনেক নারী কেলেংকারীর ঘটনা সামনে আসে। পুলিশ বাধ্য হন মোজাকে গ্রেফতার করতে। রেজা মাহমুদ শুনেছেন,শ্লীলতানীর শিকার মেয়েটি পরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ওই মৃৃত্যুর নেপথ্যে ছিলেন মোজা। এমন খবর পুরো শহরে চাউর হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় মোজা হাজতে থাকায় বেঁচে গেছেন। তবে সবার ধারণা,মোজা’র নির্দেশে তার সাঙ্গ- পাঙ্গরা ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।  ঘাতক গাড়িটি ধরা না পরায়, রহস্যই থেকে যায় দূর্ঘটনার কারন।
রেজা মাহমুদ নাগরিকত্বের সনদ ও চারিত্রিক প্রশংসা পত্র নিয়ে ফিরে আসেন বাড়ি। কাগজ দু’টো বারবার উল্টে-পাল্টে দেখেন। মনের মধ্যে একটা ইগো কাজ করতে থাকে। সে মনে মনে ভাবেন,যার নিজের চরিত্র কলুষিত,কালিমায় ভরা, সেই দিচ্ছেন, চারিত্রিক প্রশংসা পত্র। সই করছেন, নাগরিকত্বের সনদে।  বিষয়টি কোন ভাবে মেনে নিতে পারে না রেজা মাহমুদ। তার কাছে মনে হয়,এমন একজন কলুষিত মানুষের নিকট নাগরিকত্ব ও চরিত্রের সার্টিফিকেট নেয়া শোভনীয় নয়।
রেজা’র শুধু কলেজের ওই কেলেংকারীর কথা মনে পড়ে। তার চোঁখের সামনে ভেসে ওঠে ছাত্র-ছাত্রীদের সেই দুর্বার গণ আন্দলনের চিত্র। রেজা মাহমুদ ভাবেন,এটা কি ভাবে সম্ভব ? মোজা মেয়র হন কি ভাবে ? মাথা কাজ করে না তার । মনটা ভীষন অস্থির হয়ে ওঠে। এই শহরে আর এক মহুর্ত থাকার ইচ্ছে করে না রেজার।মানষিক অস্থিরতা নিয়ে বাবা-মায়ের নিকট বিদায় নেন রেজা। রওয়ানা দেন, ঢাকার উদ্দেশ্য।
রেজা বিভিন্ন জনের নিকট খোজ নিয়ে জানতে পারেন,অশুভ রাজনীতি চর্চা কাজে লাগিয়ে  কালো টাকা ও পেশী শক্তির জোড়ে  মোজা মেয়রের আসন হাসিল করেছেন। এখন নাগরিকত্ব সনদসহ চারিত্রিক প্রশংসা পত্র ইস্যু করছেন। রেজা জানেন,এটা এখন মোজা’র রাষ্ট্র প্রদত্ত দায়িত্ব। তিনি পদাধীকার বলে পৌরবাসী সকলের চারিত্রিক সার্টিফিকেট সই করবেন। এটাই সাংবিধানিক নিয়ম।।
রেজার মনে মেয়র মোজা’র জন্য এক প্রকার ঘৃণা কাজ করে । চরিত্রহীন,কলুষিত একজন মেয়রের স্বাক্ষর করা নাগরিকত্ব সনদ ও চারিত্রিক প্রশংসা পত্র দিয়ে চাকুরী করতে তার রুচিতে বাধে। রেজা মাহমুদ সিদ্ধান্ত নেন,চাকুরী যদি না হয়,না হউক। তবুও সে মেয়র মোজা স্বাক্ষরিত নাগরিকত্ব সনদ ও চারিত্রিক প্রশংসা পত্র ব্যবহার করবেন না। অবশেষে, রেজা মাহমুদ মেয়র মোজা স্বাক্ষরিত ওই নাগরিকত্বের সনদ ও চারিত্রিক প্রশংসা পত্র রাগ,দুঃখ,ঘৃণায় আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন।
Related Posts
ছোট গল্প “মেয়েটাকে ভাল রেখ”
"মেয়টাকে ভাল রেখ"   -ফয়েজ আহমেদ।   রাত দু'টো বাজে। হাইওয়ে ডিউটি চলছে। হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠল। এত রাতে কে ফোন করছে। আরিফ পকেট থেকে ফোনটা বের করে। বাড়ী থেকে ফোন। স্ত্রী মাজেদা করেছে।এত রাতে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র এর গল্প “অসম প্রেম পরিনতি”
মাসুদ পার্কে বসে আছে। রীতা মাসুদকে জরুরী ভাবে এখানে আসতে বলেছে। আজ রীতা আর মাসুদের ভালবাসার পরিনতির ফায়সালা হবে।  চুড়ান্ত বোঝা-পড়া হবে।ভালবাসা নিয়ে টানপোড়েন নিষ্পতি করবে ওরা। ক'দিন থেকে রীতা ...
READ MORE
“করোনা ভাইরাস”
"করোনা" -ফয়েজ আহমেদ   করোনা,তুমিতো ভালা না দুরত্ব এনেছ সমাজ পরিবারে মায়ের সন্তান নিয়েছ কেড়ে স্ত্রী করেছ পর স্বামীর কাছে পিতাও অসহায় তোমার দ্বায়ে।   করোনা,তুমিতো ভালা না বিশ্ব কাবু,এও তোমার যাদু বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙ্গেছ তুমি বিশ্ব নেতাদের করেছ কাবু তুমি কি যাবে ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ছকিনার স্বপ্ন ভঙ্গ”।
গ্রামে গঞ্জে ভিক্ষা করেন ছকিনা বেওয়া। বয়স তার ষাট পেরিয়েছে অনেক আগেই। স্বামীও মারা যাওয়ার প্রায় পনের বছর। হয়নি কোন বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা।দুই ছেলের সংসারে বউদের নাকানি-চুবানি খেয়েও ভালই ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “মানবতা’।
"মানবতা"   -ফয়েজ আহমেদ।     রাস্তায় একটা জটলা দেখা যাচ্ছে।এগিয়ে যায় সুমন। একটা লোক চিৎ হয়ে পড়ে আছে। মনে হয় অজ্ঞান হয়ে গেছে। একজন বলে,লোকটা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিল। অজ্ঞান পার্টি আবার কি। জানেনা ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “দোযখী কাজ”।
তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে প্রধান বক্তার ওয়াজ-নসিহত শুনে ফরিদের মনটা খারাপ হয়ে যায়। অনেক আশা নিয়ে দশ কিলো পাড়ি দিয়ে মাহফিলে এসেছিল ফরিদ। কিন্তু এ কেমন বক্তৃতা করলেন হুজুর। ইসলামী জীবন ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “ভীটে পেল নন্দ”।
ভীটে মাটি নেই নন্দ লালের। অন্য মানুষের পুকুর পাড়ের এক কোনে ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করেন নন্দ। স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে গাদাগাদি করে অস্থাস্থ্যকর এক জীবন পার করছে সে। গত ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “রোজা”
"রোজা" -ফয়েজ আহমেদ   নীল আকাশে উঠল ভেসে মহাখুশির চাঁদ,মুমিন সকল খাসদিলে,করবে রোজা কাল।   খাবে সেহরী,রাখবে রোজা এইতো সবার,মনের আশা পুর্ন হবে,সকল অভিলাশ।   নীল আকাশের,সোনালী চাঁদ সবার মাঝে,আনন্দ-উচ্ছ্বাস এলো খুশির,মাহে রমজান।   নীল আকাশের,বাঁকা চাঁদে সকল মুমিন,স্বপ্ন খোজে মাবুদ দিবে,এবার নিস্তার।   মাস ব্যাপি,রাখবে রোজা পড়বে নামায,করবে দোয়া সকল ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট “গল্প রেবেকার অজ্ঞামী”।
মায়ের শরীরটা ভাল নেই। অনেক ডাক্তার দেখানে হয়েছে। কিছুতেই সেরে উঠছেনা মায়ের শরীর। মায়ের শরীরের চিন্তায় ভাল নেই জিলানীর মন। সব সময় মায়ের সেরে ওঠা নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকে জিলানী। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট একটি প্রেমের গল্প “রাজ যোটক”
"রাজ যোটক"                          -ফয়েজ আহমেদ।                (ছোট একটি প্রেমের গল্প) বিকালের ফ্লাইটে সৈয়দপুর আসছে পল্লবী। খবরটা শুনে ...
READ MORE
ছোট গল্প “মেয়েটাকে ভাল রেখ”
ফয়েজ আহমেদ’র এর গল্প “অসম প্রেম পরিনতি”
“করোনা ভাইরাস”
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”ছকিনার স্বপ্ন ভঙ্গ”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প “মানবতা’।
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “দোযখী কাজ”।
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “ভীটে পেল নন্দ”।
ফয়েজ আহমেদ’র কবিতা “রোজা”
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট “গল্প রেবেকার অজ্ঞামী”।
ফয়েজ আহমেদ’র ছোট একটি প্রেমের গল্প “রাজ যোটক”
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।