আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :

ফয়েজ আহমেদ’র গল্প”বিধি বাম”।

ভালবেসে নাজমীনকে বিয়ে করেছিল তুহিন। ক’দিন আগে নাজমীন আর তুহিনের বিয়ের দশ বছর পুর্ণ হয়েছে। জাকজমক ভাবে বিয়ের দশ বছর পূর্তি করেছেন তারা।  সংসার জীবনে তাদের কোন অর্পূন্নতা নেই। শুধু কোল জুড়ে আসেনি কোন সন্তান। একাধিক বার ডাক্তারের শরাপন্ন হয়েছে তুহিন ও নাজমীন।প্রতিবারই ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছেন,সমস্যাটা নাজমীনের। মা হতে পারবেন না নাজমীন ।

 

নাজমীন বিষয়টি নিয়ে মনোকষ্টে থাকত। তুহিন অনেক বুঝিয়েছে নাজমীনকে। বলেছে,সব আল্লাহর ইচ্ছা। তুমি এ নিয়ে দুঃখ করিও না। আল্লাহ্ চাইলে, একদিন আমরা বাবা-মা হবো। তাছাড়া আমরা তো অনেক ভাল আছি। নাজমীনকে আরো অনেক শ্বান্তনা দেন তুহিন। বলেন,চিন্তা করোনা, প্রয়োজনে আমরা একটা বাঁচ্চা দত্বক নেব। ওই বাঁচ্চা আমাদের পরিচয়ে মানুষ হবে। কিন্তু রাজী হয়নি নাজমীন।
এদিকে এই দশ বছর নাজমীনকে খুশী আর আনন্দে রাখার জন্য সব প্রচেষ্টা চালিয়েছে তুহিন। চেষ্টা করেছেন,নাজমীনকে সুখী রাখতে।  নাজমীনকে খুব ভালেবাসে তুহিন। পারলে পৃথিবীর সব সুখ কিনে দেয়, নাজমীনকে। কিন্তু সামর্থ্য বলেও একটা কথা আছে। তার পরেও তুহিন সামর্থের সব টুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন, নাজমীনকে সুখী করতে। যখন যা বলেছে,তাই করেছেন। যা কিনতে বলেছে,তাই কিনে দিয়েছেন নাজমীনকে।
তুহিন নাজমীনের মনটা ভাল রাখতে সবসময় সচেষ্ট ছিলো।সিঙ্গাপুর,মালদ্বীপ,থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশেও ঘুরিয়েছেন নাজমীনকে। মতিঝিলে ছয় কাঠার একটা প্লট কিনে দিয়েছেন। নাজমীনের বাপের বাড়ি এলাকাও কিনেছেন জমি।ওই জমিতে দিয়েছেন ছয় তালা ফাউন্ডেশন।একতলা কম্পিলিটও করেছেন, তুহিন। সব কিছুই করেছেন, নাজমীনের নামে। নাজমীনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে।
এদিকে নাজমীনের প্রয়োজনীয় সোনা,গহনা সব কিনে দিয়েছে তুহিন। কোন দিকেই কমতি কিছুই রাখেননি। এছাড়াও ব্যাংকে নাজমীনের নামে দশ লাখ টাকার একটা ডিপোজিটও করে দিয়েছেন। পাশাপাশি নাজমীন যাতে প্রয়োজন মত কেনাকাটা বা অন্যান্য খরচ করতে পারে তার ব্যবস্থাও করেছেন।  নিজের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড দিয়েছেন নাজমীনকে। এক কথায় নাজমীন যেন, কষ্ট অনুভব না করে।  কিন্তু বিধি বাম। এত কিছুর পরেও শেষ রক্ষা হয়নি।
নাজমীন হয়ত আরো কোন অপ্রতুলতায় ভুগছিল। তাই একদিন তুহিনকে ছেড়ে চলে যায় নাজমীন। পাঠিয়ে দেয়, এক তরফা তালাকের নোটিশ।তুহিন ভেবে পায়না, নাজমীন কেন তাকে ছেড়ে গেল ? কি দোষ ছিল তার ? সে কি করেনি নাজমীনের জন্য ? কি ছিল তার ব্যর্থতা? ভেবে পায়না তুহিন। সে তো নাজমীনের ভালো থাকা নিয়ে সব সময় সচেতন ছিল । তাহলে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল নাজমীন ? নাজমীনের ডিভোর্স নোটিশ পেয়ে ভেঙ্গে পরে তুহিন।
নাজমীন কোন দিন মা হতে পারবেনা জানত তুহিন। তারপরেও তুহিন নাজমীনকে ভালবেসেছিল পাগলের মত। নাজমীন মা হতে না পারার কষ্ট যেন ভুলে থাকতে পারে, তার সব চেষ্টায় করেছে তুহিন। তবুও চলে গেল নাজমীন। তুহিন ভেবে পায়না কিছুই। তাহলে কি নাজমীন মা হতে না পারায় কষ্টে তুহিনকে ছেড়ে চলে গেছে ? যদি তাই হয়,তাহলে সোনা-গহনা,ডিপোজিট চেক, জমির দলিল পত্র,পাসপোর্ট তো নিয়ে যাওয়ার কথা নয়। তাহলে নাজমীন ও গুলো নিয়ে গেল কেন? কোন হিসেব মিলেনা তুহিনের।
নাজমীন চলে যাওয়ার পর থেকে মোবাইলটা বন্ধ। কোন ভাবে যোগাযোগ করতে পারেনা তুহিন। বাপের বাড়িতেও যায়নি। আত্মীয় স্বজন সব খানে খোজ নিয়েছে তুহিন। কোথাও নেই। তুহিন সব দিকে পাগলের মত খুজতে থাকে নাজমীনকে। এভাবে গড়িয়ে যায়, আরো পনের দিন। তুহিন চিন্তা করে,নাজমীনকে যে ভাবে হউক খুজে বের করবেন। নাজমীনকে দিয়ে এক তরফা তালাক বাতিল করাবেন। সে মানেনা,নাজমীনের এক তরফা তালাক।
নাজমীনকে ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েননি তুহিন। সে পাগলের মত সব জায়গায় খুজে বেরাচ্ছে নাজমীনকে।এরি মধ্যে একদিন তুহিন জানতে পারেন,তার মতিঝিলের জমিতে বিল্ডিংয়ের কাজ হচ্ছে। ছুটে যান তুহিন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন,নাজমীন জমিটা বিক্রয় করে দিয়েছেন। টাকা নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন মালয়েশিয়া। আর কোন দিন ফিরবেন না দেশে । হতাশ হয়ে পড়ে তুহিন। সে খোজ নিয়ে আরও জানতে পারেন,নাজমীন বাপের বাড়ি এলাকার ছয়তলা ফাউন্ডেশন দেয়া বাড়িটাও বিক্রয় করেছেন।
Related Posts
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট “গল্প রেবেকার অজ্ঞামী”।
মায়ের শরীরটা ভাল নেই। অনেক ডাক্তার দেখানে হয়েছে। কিছুতেই সেরে উঠছেনা মায়ের শরীর। মায়ের শরীরের চিন্তায় ভাল নেই জিলানীর মন। সব সময় মায়ের সেরে ওঠা নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকে জিলানী। ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “দোযখী কাজ”।
তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে প্রধান বক্তার ওয়াজ-নসিহত শুনে ফরিদের মনটা খারাপ হয়ে যায়। অনেক আশা নিয়ে দশ কিলো পাড়ি দিয়ে মাহফিলে এসেছিল ফরিদ। কিন্তু এ কেমন বক্তৃতা করলেন হুজুর। ইসলামী জীবন ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প””তিরস্কার”।
বৃদ্ধা শ্বাশুড়ী আর ছয় মাসের শিশু পুত্র নিয়ে খুব খাদ্য সংকটে আছে রহিমা বেওয়া। বাঁচ্চাটা শরীরে আসার তিনমাস পর মারা যায় রহিমার স্বামী কুবের আলী। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বাশুড়ী পোনা মাই ...
READ MORE
কবিতা “বঙ্গবন্ধু” জাতির চেতনার নাম
"বঙ্গবন্ধু" জাতির চেতনার নাম   -ফয়েজ আহমেদ   বঙ্গবন্ধু,চেতনার নাম,জাগ্রত অনুভুতি বাংলার ইতিহাস,লাল সবুজের বেষ্টনি, মুক্তির মহানায়ক,জনতার হৃদয় মনি আর্দশিক মানব,জাতির আলোক রশ্মি।   বঙ্গবন্ধু, রুপকার এই বাংলা পতাকার স্বাধীনতার স্হপতি,বিজয় মালা গাথার, শোষন-বঞ্চনা, রুখতে মানব মেশিন গণআস্হা তুমি,শোষিত জাতির মহাবীর।   বঙ্গবন্ধু, পরাধীনতার ...
READ MORE
“পক্ষ”
"পক্ষ" -ফয়েজ আহমেদ   ঘটনাস্হল খাতামধুপুর,রাজনীতি সৈয়দপুরে এমনভাবে চলতে থাকলে,ক্ষতি সবার হবে, দুইটা পক্ষ দুই দিকে,রাজনীতি করছে জানি স্বচ্ছ রাজনীতি চাই মোরা,নয় অপরাজনীতি।   দড়ি ধরে টানাটানি,করছে দুই প্রভাবশালী সত্য মিথ্যার চলছে লড়াই,জানি সবাই জানি, দোষী কিনা যাছাই করা,নয়তো কারো ...
READ MORE
ছোট গল্প “দ্বি-চারিনী”।
"দ্বি-চারিনী"   ফয়েজ আহমেদ।   রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় একটি পরিচিত নারী কন্ঠ ভেসে আসে সাকিলের কানে। কন্ঠটা রাস্তার পাশের ওই বাড়ীটা থেকে আসছে। বাড়ীটা সাকিলের পরিচিত। আব্দুল হকের বাড়ী। সাকিলের এক কাছের ...
READ MORE
কবিতা “কর রহমত”
"কর রহমত"   -ফয়েজ আহমেদ।   বছর শেষে,এলো রোজা রহমত পর্বের,চলছে পালা, বাকী আর,একটা রোজা সময় আছে,ধরো রোজা।   আজকে হবে,দশটা রোজা রহমত পর্বের,শেষ রোজা, আয় তোরা, খাই সেহরী রহমত পেতে,রোজা রাখি।   বাকী রবে, বিশটা রোজা মাগফেরাত পর্ব,পরের দশটা, আল্লার দয়া, পেতে হলে মাগফেরাত রোজা,করতে হবে।   মাগফেরাত ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প”কদর হুজুরের কান্ড”।
শুধু গ্রামে নয়,আশে পাশের আরো দশ গ্রামে আবিরের নাম প্রচার হয়ে গেছে। দশ গ্রামের লোক আজ আবিরকে আলাদা চোঁখে দেখছেন। তাকে সমীহ করছেন,ভালবেসে আবির ভাই বলে সম্বোধন করছেন। আবির আজ ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর গল্প”সেকেন্দারের আনন্দ অশ্রু”।
গেল এক সপ্তাহ রিকসা নিয়ে বাইরে যেতে পারেননি সেকেন্দার।দেশে চলছে সরকার ঘোষিত লকডাউন। মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমন ঠেকাতে সরকার এ লকডাউন দিয়েছেন। এদিকে ঘরে জমানো টাকা যা ছিল ফুরিয়ে গেছে। ঘরে ...
READ MORE
“বিদ্রোহী সত্তা”
                            "বিদ্রোহী সত্তা"                               ...
READ MORE
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট “গল্প রেবেকার অজ্ঞামী”।
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প “দোযখী কাজ”।
ফয়েজ আহমেদ’র গল্প””তিরস্কার”।
কবিতা “বঙ্গবন্ধু” জাতির চেতনার নাম
“পক্ষ”
ছোট গল্প “দ্বি-চারিনী”।
কবিতা “কর রহমত”
ফয়েজ আহমেদ এর ছোট গল্প”কদর হুজুরের কান্ড”।
ফয়েজ আহমেদ এর গল্প”সেকেন্দারের আনন্দ অশ্রু”।
“বিদ্রোহী সত্তা”
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।