আজ-  ,
basic-bank পরিক্ষা মূলক সম্প্রচার...
ADD
সংবাদ শিরোনাম :
«» সৈয়দপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বখতিয়ার কবীর আর নেই। «» সৈয়দপুরের সাবেক কমিশনার আফসার আলী ওরফে থোপসা চৌধুরী আর নেই। «» আজ ভয়াল ২১ আগষ্ট। «» সৈয়দপুরে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্যেগে বৃক্ষরোপন ও খাদ্য বিতরন কর্মসুচী পালন। «» সৈয়দপুরের মোক্তাদির আলম আরাফাতের পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন। «» সৈয়দপুরে দৈনিক মুক্তভাষা’র উদ্যেগে শোক দিবস পালন। «» সৈয়দপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল সামাদ আর নেই। «» সৈয়দপুরে ভূমি দস্যু কতৃক মারপিটের শিকার আব্দুল হামিদের অবস্থা আশংকাজনক। «» শেখ কামাল ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী অনন্য সংগঠক। «» আ’লীগ থেকে বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রেফতার।

আজ ভয়াল ২১ আগষ্ট।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিলেন সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি মিছিলে অংশ নেবেন বলে। রাস্তার ওপর খোলা ট্রাকে তৈরি করা হয়েছিল অস্থায়ী মঞ্চ।

কিন্তু তারাই সেদিন দলীয় কার্যালয়ের সামনে ভয়ঙ্কর এক সন্ত্রাসের শিকার হন, যার মূল লক্ষ্য ছিলেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা।

ছিন্নভিন্ন লাশ, বিস্ফোরণের শব্দ, আহতদের আর্তনাদ, রক্তাক্ত নেতা-কর্মীদের ছুটোছুটিতে সেদিন ওই এলাকা হয়ে উঠেছিল বিভীষিকাময়।

সতের বছর আগের সেই দিনটিও ছিল শনিবার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সেটাও ছিল ভয়ঙ্কর আরেক অগাস্ট।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ওই গ্রেনেড হামলা ছিল মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দল আওয়ামী লীগের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত।

আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সে সময় ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা। আর সেই সময়ের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখন দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার ওই ঘটনা স্তব্ধ করে দিয়েছিল জাতিকে। শনিবার বাংলাদেশের ইতিহাসে নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে।

সেদিনের কথা স্মরণ করে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, “ঘাতকচক্রের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রুখে দেওয়া এবং দেশে স্বৈরশাসন ও জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা হতে দেয়নি।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, “গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতার পাশাপাশি পরমতসহিষ্ণুতা অপরিহার্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে সকল রাজনৈতিক দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখবে।”

গ্রেনেড হামলায় নিহত নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও জনগণের দোয়ায় আমি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাই। আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে আমাকে রক্ষা করেন।”

বিএনপি-জামায়াত জোট যখনই সরকারে এসেছে, “জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টা করেছে” বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্র বিরোধী চক্র এখনও নানাভাবে সোচ্চার রয়েছে মন্তব্য করে তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, “আশা করি, সকল আইনি বিধি-বিধান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রায় কার্যকর হবে। এই রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে দেশ থেকে হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চির অবসান হবে এবং বাংলাদেশ আগামী প্রজন্মের জন্য একটি  নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ আবাসভূমিতে পরিণত হবে- আজকের দিনে এটাই আমার প্রত্যাশা।”

কী ঘটেছিল সেদিন?

২০০৪ সালের সেই ভয়াল বিকাল ৩টা থেকে দলের মধ্যম সারির নেতারা বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। ৪টার দিকে শুরু হয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের বক্তৃতার পালা। সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা আসেন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে। নেতা-কর্মীরা তখন অধীর আগ্রহে নেত্রীর বক্তৃতা শোনার অপেক্ষায়।

যে ট্রাকে সমাবেশের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল, তার পেছনে বাঁ দিকে একটি সিঁড়ি ছিল উপরে ওঠার জন্য। ট্রাকের শেষ মাথায় ডানদিকে রাখা টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন নেতারা।

দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তৃতা শুরু হয় বিকাল ৫টা ২ মিনিটে। তার দুই পাশে ছিলেন মোহাম্মদ হানিফ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।

পুরোটা সময় ওই টেবিলের পাশে বসেছিলেন শেখ হাসিনার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার আব্দুল্লাহ আল মামুন। মঞ্চ থেকে নামার সিঁড়ির কয়েক গজের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল আওয়ামী লীগ সভাপতির বুলেট প্রুফ মার্সিডিজ গাড়ি। সেখানে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিক, যিনি এখন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা।

৫টা ২২ মিনিটে বক্তব্য শেষ করে শেখ হাসিনা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে মাইক থেকে সরে যাওয়ার মুহূর্তেই প্রথম গ্রেনেডটি ছোড়া হয়।

ট্রাকের বাঁ পাশে পড়ে গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকে থাকা জ্যেষ্ঠ নেতা এবং নিরাপত্তাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে ট্রাকের ওপর বসিয়ে দেন।

গ্রেনেড হামলার আগে শেখ হাসিনার ভাষণ

গ্রেনেড হামলার আগে শেখ হাসিনার ভাষণ

এর পরপরই আরও তিনটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়; চারদিকে ধোঁয়ায় আছন্ন হয়ে যায়। শেখ হাসিনার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর শোয়েব মো. তারিকুল্লাহ ট্রাকের সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে নামিয়ে আনতে বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতিকে।

মায়াসহ দেহরক্ষীরা শেখ হাসিনাকে ধরে নামিয়ে নেওয়ার সময় আরেকটি গ্রেনেড ট্রাকের পেছনের ডালায় বাড়ি খেয়ে পাশেই বিস্ফোরিত হয়। ফলে শেখ হাসিনাকে নিয়ে আবার সবাই ট্রাকের ওপর বসে পড়তে বাধ্য হন।

নেতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা সেখানে শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি করেন মানববর্ম। কিন্তু শোয়েব নিচ থেকে জানান, বিস্ফোরণে ট্রাকের তেলের ট্যাংক ফুটো হয়ে গেছে, যে কোনো মুহূর্তে ট্রাকে আগুন ধরে যেতে পারে।

শেখ হাসিনার পায়ের স্যান্ডেল তখন কোথায় ছিটকে গেছে, চশমাও খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। ওই অবস্থায় মামুন, শোয়েব এবং অন্যরা মিলে তাকে নিয়ে গাড়ির সামনে বাঁ দিকের আসনে বসিয়ে দেন।

সে সময় ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, বিস্ফোরণে আহত নেতাকর্মীদের ছেড়ে যেতে চাইছিলেন না শেখ হাসিনা। অনেকটা ইচ্ছার বিরুদ্ধেই তাকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে সুধা সদনে নিয়ে যাওয়া হয়।

শেখ হাসিনা যখন ঘটনাস্থল ত্যাগ করছিলেন তখনো গ্রেনেড ফাটানো হচ্ছিল; পাওয়া যাচ্ছিল গুলির শব্দ।

ওই হামলা আর বিস্ফোরণের পর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে আহতদের হাসপাতালে পাঠাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন নেতা-কর্মীরা। ওই অবস্থায় রিকশা, বেবিট্যাক্সি, এমনকি রিকশাভ্যানে করেও আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

ঝরে যায় ২৪ প্রাণ

সেদিনের হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। আইভি রহমান ৫৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ অগাস্ট মারা যান। প্রায় দেড় বছর পর মৃত্যু হয় ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের। পরে সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে।

২১ অগাস্ট হামলায় নিহত অন্যরা হলেন শেখ হাসিনার দেহরক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রহমান, হাসিনা মমতাজ, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মোশতাক আহমেদ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসিরউদ্দিন, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম। একজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে গিয়ে সেদিন গ্রেনেডের অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হন তারেক আহমেদ সিদ্দিক, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শোয়েব মো. তারিকুল্লাহসহ নেতাকর্মীদের অনেকে।

‘টার্গেট’ ছিলেন শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যেন বাঁচতে না পারেন, তার সব চেষ্টাই সেদিন করেছিল হামলাকারীরা।

তার গাড়ির কাচে কমপক্ষে সাতটি বুলেটের আঘাতের দাগ, গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের চিহ্ন আর পাংচার হয়ে যাওয়া গাড়ির চাকা সে কথাই প্রমাণ করে।

সুধা সদনে শেখ হাসিনার বাসভবনে গাড়িটি দেখিয়ে দলের তখনকার সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরী পরদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিন স্তরের বুলেট নিরোধক ব্যবস্থার গাড়িটিই শেখ হাসিনার প্রাণ বাঁচিয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলার পরপরই নিরাপত্তাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে ঘিরে ধরে গাড়ির কাছে নিয়ে যান। আর তখনই গাড়ির সামনের জানালা লক্ষ্য করে অনেকগুলো গুলি ছোড়া হয়। দেহরক্ষী মাহবুব গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানেই মারা যান।

শেখ হাসিনা গাড়িতে ওঠার পরপরই পেছন থেকে বাঁ দিকের সিট লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হয়। সব শেষে চাকা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করে হামলাকারীরা।

কিন্তু চালক মোহাম্মদ আব্দুল মতিন সচিবালয়ের সামনে দিয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে শহীদ মিনার, পলাশী, নিউ মার্কেট হয়ে পিলখানার ভেতর দিয়ে নিরাপদেই ধানমণ্ডিতে সুধা সদনে পৌঁছে দেন শেখ হাসিনাকে।

কর্মীদের মানবঢাল

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলার পর সেদিনই টেলিফোনে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন তখনকার বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা।

তিনি সেদিন বলেন, “আমার কর্মীরা জীবন দিয়ে আমাকে বাঁচিয়েছে। গ্রেনেড যখন বিস্ফোরিত হচ্ছিল, তখন নেতা-কর্মীরা আমাকে ঘিরে রেখেছিল। তাদের অনেকেই আহত হয়েছেন। এখনো আমার কাপড়ে তাদের রক্ত লেগে আছে।”

এ কথা বলতে বলতে সেদিন কেঁদে ফেলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সরকারের মদদে সারা দেশেই তো বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে। আমাদের এ মিছিলটাই ছিল বোমা হামলা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। এ জন্যই তারা জবাব দিল গ্রেনেড মেরে। আমার বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে মুহূর্তে আমি সিঁড়ি দিয়ে নেমে গাড়িতে উঠব, ঠিক তখনই ওই জায়গাটাই হামলাকারীরা টার্গেট করেছিল। পরপর ৮-১০টা গ্রেনেড ফাটে। এখনো ওখানে দু-তিনটা অবিস্ফোরিত গ্রেনেড পড়ে আছে। আমাদের মহিলাকর্মীসহ অনেকে নিহত হয়েছেন। প্রেসিডিয়ামের প্রায় সব সদস্য আহত হয়েছেন।”

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী যখন হতাহতদের উদ্ধার করছিল, ঠিক সেই সময় পুলিশ উল্টো কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিপেটা করে বলে বিবিসিকে সেদিন জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “পুলিশ আহতদের সাহায্য করতে এগিয়ে না এসে যেভাবে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করল ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ল, তাতে তো বোঝা যায়, এটা সম্পূর্ণ সরকারের মদদে করা হয়েছে।

তদন্ত নিয়ে টালবাহানা

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে এ মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল শুরু থেকেই। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তদন্ত শুরু হলে বেরিয়ে আসতে থাকে নানা তথ্য।

২০০৮ সালের জুনে বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই তাজউদ্দিন, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে শুরু হয় অধিকতর তদন্ত। সিআইডির বিশেষ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ ২০১১ সালের ৩ জুলাই আসামির তালিকায় আরও ৩০ জনকে যোগ করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন। সেখানে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ চার দলীয় জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের নাম আসে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নেতারা তদন্তের শুরুতে এ হামলার জন্য আওয়ামী লীগকেই দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ওই হামলায় জড়িত বলেও সে সময় প্রচার চালানো হয়েছিল।

কিন্তু সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত জোট হামলার পর থেকেই তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে কাজ শুরু করে। হামলার অনেক আলামত সে সময় নষ্ট করে ফেলা হয়।

হামলার বিষয়ে নোয়াখালীর জজ মিয়ার ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দেওয়ার বিষয়টি যে নাটক ছিল, সেটাও তখনই বেরিয়ে আসে।

হামলার ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের অক্টোবরে ঢাকার দ্রুত বিচার টাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুতফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক।

আর খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

এছাড়া ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন।

সব প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই হাই কোর্টে এ মামলার আপিল শুনানি শুরু হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Related Posts
সৈয়দপুরে সাংসদ রাবেয়া আলীমকে ফুলেল সংবর্ধনা
নীলফামারীর সৈয়দপুরে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীমকে ফুলেল সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ...
READ MORE
করোনায় আজ মৃত্যু ২৮,নতুন সনাক্ত আরো ১৭৬৪ জন
দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাস সংক্রমনে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৬১০ জন। নতুন করে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে রেকর্ড ১৭৬৪ জন। এযাবত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ...
READ MORE
দেশে কোন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার থাকবেনা-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৯৬ পর্যন্ত সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা কেবল ‘লুটপাটের রাজনীতি’ করে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ...
READ MORE
নারায়নগঞ্জে কারফিউ চান সিটি মেয়র সেলিনা আইভী
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ শহরে কারফিউ জারির জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছেন সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি রোববার প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ‘বিশেষ’ এই অনুরোধ জানিয়েছেন রোববার সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ...
READ MORE
করোনায় ফের ৪ জনের মৃত্যু।।নতুন আক্রান্ত ২৯
মহামারী করোনা ভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘন্টায আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাড়ালো ১৩ জন। অপর দিকে দেশে নতুন করে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ...
READ MORE
ভোট দিতে স্মাট কার্ড বাধ্যতামুলক নয়
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্তে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবন সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সাধারণত ভোট কেন্দ্রে ...
READ MORE
স্বাধীনতার ৫০ বছর,সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন।
শোষণ–বঞ্চনার পথ পেরিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত যে দেশ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র তকমা নিয়ে শুরু করেছিল যাত্রা; সেই বাংলাদেশ উন্নতির গতিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে পূর্ণ করল ৫০ বছর। সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বাংলাদেশের প্রস্তুতির ...
READ MORE
পীরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সদস্য হিসেবে জয়ের রাজনৈতিক পথচলা শুরু
পীরগঞ্জ উপজেলা কমিটির এক নম্বর সদস্য হিসেবে পথ চলা শুরু হল সজীব ওয়াজেদ জয়ের । ১১ নভেম্বর সোমবার ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ...
READ MORE
শোক দিবসে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। শনিবার সকালে ধানমণ্ডিতে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় ...
READ MORE
মির্জা ফখরুলের গাড়িতে হামলা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতে হামলা করেছে মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা। এসময় গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায় এবং চালক হেলাল আহত হন। শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে ...
READ MORE
সৈয়দপুরে সাংসদ রাবেয়া আলীমকে ফুলেল সংবর্ধনা
করোনায় আজ মৃত্যু ২৮,নতুন সনাক্ত আরো ১৭৬৪ জন
দেশে কোন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার থাকবেনা-প্রধানমন্ত্রী শেখ
নারায়নগঞ্জে কারফিউ চান সিটি মেয়র সেলিনা আইভী
করোনায় ফের ৪ জনের মৃত্যু।।নতুন আক্রান্ত ২৯
ভোট দিতে স্মাট কার্ড বাধ্যতামুলক নয়
স্বাধীনতার ৫০ বছর,সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন।
পীরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সদস্য হিসেবে জয়ের রাজনৈতিক পথচলা
শোক দিবসে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
মির্জা ফখরুলের গাড়িতে হামলা
Spread the love
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।